ঢাকা শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

ছামিয়ার স্বপ্নযাত্রায় বাধা হতে পারেনি দারিদ্র্য

ছামিয়ার স্বপ্নযাত্রায় বাধা হতে পারেনি দারিদ্র্য

বাবা-মায়ের সঙ্গে ছামিয়া

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৪ | ২০:২০

দরিদ্র পরিবারে জন্ম ছামিয়া আক্তারের। বাবা আব্দুল লতিফ ভূঁইয়া ভ্যানচালক। মা রওশনারা বেগম অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করেন। দুইজনের স্বল্প আয়। এতে সংসার থেকে অভাব যায় না। সন্তানদের মুখে ঠিকমতো খাবার তুলে দিতে পারেন না তারা। ছামিয়া কোনো কোনো দিন না খেয়েই স্কুল গেছে। খাতা-কলমও প্রয়োজন অনুযায়ী পায়নি। তবে অভাবকে অজুহাত হিসেবে দেখেনি ছামিয়া। দারিদ্র্য ডিঙিয়ে নিজের স্বপ্ন জয়ের পথে ছুটে চলছে অদম্য এই মেধাবী। এবার এসএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে সে জিপিএ-৫ পেয়েছে।

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পাঁচ্চর ইউনিয়নের গোয়ালকান্দায় ছামিয়াদের বাড়ি। তাদের ভিটা ছিল মাদবরেরচর ইউনিয়নের পুরাতন কান্দী গ্রামে। ১৯৯০ সালে ছামিয়ার বাবা আব্দুল লতিফের তিন শতকের ভিটাবাড়ি পদ্মা নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এরপর পাঁচ্চরের গোয়ালকান্দায় ডা. আব্দুল কাইয়ুমের বাড়িতে আশ্রয় নেন। আব্দুল লতিফ ওই বাড়ির কেয়ারটেকার; পাশাপাশি ভ্যানচালান। তাঁর পাঁচ মেয়ে।

অভাবের কারণে বড় দুই মেয়েকে বেশিদূর না পড়াতে পেরে বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন। ছামিয়া অভাবের সঙ্গে যুদ্ধ করে এগিয়ে যাচ্ছে। এবার পাঁচ্চর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে সে জিপিএ-৫ পেয়েছে। তার সেজ বোন বরহামগঞ্জ সরকারি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষ এবং ছোট বোন পাঁচ্চর গোয়াল কান্দা উচ্চ বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে।

দারিদ্র্য ডিঙিয়ে উচ্চ শিক্ষা অর্জন করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায় ছামিয়া। সে বাবা-মায়ের কষ্ট সইতে পারে না। তার স্বপ্ন, পড়ালেখা শেষ করে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে তাদের সব কষ্ট দূর করবে।

মেয়ের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত রওশনারা বলেন, তিন মেয়ে নিয়ে অনেক কষ্টে দিন পার করছি। এই কষ্টের মধ্যে খুশি এনে দিয়েছে ছামিয়া। মেয়েটি অনেক কষ্ট করেছে। পড়াশোনার প্রতি ওর খুব মনোযোগ।

বাবা আব্দুল লতিফ ভূঁইয়া বলেন, আমার যত কষ্টই হোক, ছামিয়াকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করব। তবে কেউ পাশে দাঁড়ালে অনেক উপকৃত হতাম।

পাঁচ্চর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সামসুল হক জানান, ছামিয়া অত্যন্ত মেধাবী। তবে তার পরিবার খুব দরিদ্র। আমরা বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ওকে বইখাতা দিয়েছি। উপবৃত্তির ব্যবস্থা করেছি। এখন সমাজের বিত্তবানরা আর্থিক সহযোগিতা করলে ছামিয়ার দরিদ্র্য বাবা-মায়ের উপকার হয়।

আরও পড়ুন

×