ঢাকা শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

চার উপজেলায় ত্রিমুখী লড়াই

চার উপজেলায় ত্রিমুখী লড়াই

প্রতীকী ছবি

পঙ্কজ দে, সুনামগঞ্জ

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৪ | ২৩:০৯

দ্বিতীয় ধাপে সুনামগঞ্জের চার উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে সবক’টিতেই জমজমাট ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় রাজনীতিক ও ভোটারদের কণ্ঠেও একই সুর।
আগামী ২১ মে এ জেলার ধর্মপাশা, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর ও জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। চার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২০ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী। তবে ধর্মপাশা উপজেলায় শেষ মুহূর্তের লড়াইয়ে আওয়ামী লীগের পাঁচ প্রার্থীই মূল আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারেন বলে মনে করছেন অনেকেই।

প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল হোসেন খান, সহসভাপতি আলী মর্তুজা, তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আবুল কাশেম, বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন, তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বোরহান উদ্দিন এবং লন্ডনপ্রবাসী মিটু রঞ্জন পাল রয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।
এ উপজেলায় আগের নির্বাচনগুলোতে স্থানীয়, অস্থানীয়, উজান ও ভাটি– এমন সব ইস্যুতে ভোটের প্রচার হয়েছে। এবার অবশ্য এসব ইস্যু প্রকট নয়। তবে শেষ সময়ে এমন প্রচার সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন ভোটাররা।
স্থানীয় একাধিক ভোটার জানান, এখানে ভোটের লড়াই জমে উঠবে আবুল হোসেন খান, আফতাব উদ্দিন ও বোরহান উদ্দিনের মধ্যে। এই তিনজনই একে অপরকে সমান তালে টেক্কা দেওয়ার সামর্থ্য রাখেন।

উপজেলার সাত ইউনিয়নের মধ্যে সদর ইউনিয়নে বোরহান উদ্দিন ও আবুল হোসেন খানের মধ্যে লড়াই হবে। বাদাঘাট ও উত্তর বড়দল ইউনিয়নে প্রচারণা বেশি আফতাব উদ্দিন ও আবুল হোসেন খানের। উত্তর বড়দল ইউনিয়নে আবুল কাশেমেরও ভোট আছে। দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নে বোরহান উদ্দিন, আবুল হোসেন খান ও আফতাব উদ্দিন তিনজনই ভোট পাবেন। উত্তর ও দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নে লড়াই হবে আবুল হোসেন খান ও বোরহান উদ্দিনের মধ্যে। তবে আফতাব উদ্দিনও এখানে ভোট পাবেন বলে দাবি করেছেন কেউ কেউ। বালিজুরির অবস্থাও একই।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম সরোয়ার লিটন জানান, ভোটের লড়াই হবে ত্রিমুখী। আবুল হোসেন খান, বোরহান উদ্দিন ও আফতাব উদ্দিনের মধ্যে। ভোটাররা মন্দের ভালো খুঁজছেন বলে মন্তব্য তাঁর।

ধর্মপাশা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হায়দার চৌধুরী লিটন, সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ও সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান নাসরিন সুলতানা দীপা, ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ বিলকিস, ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ মুরাদ, ধর্মপাশা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম চৌধুরী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী বাশার তালুকদার লড়ছেন।
এখানে শামীম আহমদ বিলকিস, শামীম আহমদ মুরাদ, হায়দার চৌধুরী লিটন ও নাসরিন সুলতানা দীপা– এই চারজনের যে কোনো তিনজন মূল লড়াইয়ে থাকবেন।
ওই উপজেলার ভোট পরিস্থিতি নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ করা একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিনিধি সাংবাদিক এনামুল হক জানান, ছয় ইউনিয়নের মধ্যে প্রচারণায় ধর্মপাশা সদরে শামীম আহমদ বিলকিস, শামীম আহমদ মুরাদ ও নাসরিন সুলতানা দীপা এগিয়ে। সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ও দক্ষিণে শামীম আহমদ মুরাদ ও শামীম আহমদ বিলকিসের প্রচার বেশি। সেলবরসে হায়দার চৌধুরী লিটনের প্রচার জমজমাট। পাইকরহাটিতে আবুল বাশার এবং জয়শ্রীতে নাসরিন সুলতানা দীপা, শামীম আহমদ মুরাদ ও শামীম আহমদ বিলকিস তিনজনেরই ভালো প্রচার চলছে।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হারুনুর রশীদ, ধনপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম তালুকদার, আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার বর্মণ, ফতেপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগ নেতা রনজিত চৌধুরী রাজন ও বিএনপি নেতা মোহন মিয়া বাচ্চু রয়েছেন ভোটযুদ্ধে। এই উপজেলায় হারুনুর রশীদ, রফিকুল ইসলাম তালুকদার ও দিলীপ কুমার বর্মণের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হতে পারে বলে ধারণা করছেন দায়িত্বশীলরা।
উপজেলার একজন বয়োজ্যেষ্ঠ শিক্ষক নেতা জানান, পাঁচ ইউনিয়নের মধ্যে পলাশ ইউনিয়নে দিলীপ বর্মণ, হারুনুর রশীদ ও রফিকুল ইসলাম তালুকদারের কর্মী বেশি। ফতেহপুরে দিলীপ কুমার বর্মণ, রঞ্জিত চৌধুরী রাজন ও হারুনুর রশীদের ভোট বেশি। সলুকাবাদে মোহন বাচ্চু, হারুনুর রশীদ, রফিকুল ইসলাম তালুকদার ও দিলীপ কুমার বর্মণের প্রচার চলছে সমানতালে। আর ধনপুর ইউনিয়নে হারুনুর রশীদ ও রফিকুল ইসলাম তালুদারের মধ্যে কঠিন লড়াই হবে।

জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বর্তমান চেয়ারম্যান ইকবাল আল আজাদ, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রেজাউল করিম শামীম ও উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সভাপতি নুরুল হক আফিন্দি জোর প্রচার চালাচ্ছেন।
এই উপজেলায় ভোটের হিসাব-নিকাশ আগে মেলানো কঠিন হবে বলে জানিয়েছেন সচেতন মহলের অনেকেই। তারা বলছেন, ভোটের প্রচারে এখানে একজনকে এগিয়ে থাকতে দেখলেও পরে ভোটের অঙ্ক পাল্টে যেতে পারে। এখানে ভোটের আগে স্থানীয়-অস্থানীয় এবং সম্প্রদায় ইস্যু ব্যাপকভাবে কাজে লাগানো হয়। এখানকার স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে বিএনপি-জামায়াতের
বড় ভোটব্যাংক রয়েছে। তারা সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে নীরব থাকলেও উপজেলা নির্বাচনে ব্যস্ত সময় পার করছেন। মূলত উপজেলা বিএনপির সভাপতি (বহিষ্কৃত) ভোটে প্রার্থী হওয়ায় তাদের তৎপরতা নজরে আসছে।
উপজেলার সাচনা বাজার ও ভীমখালী ইউনিয়নে রেজাউল করিম শামীম ও নুরুল হক আফিন্দির মধ্যে লড়াই হবে। জামালগঞ্জ সদর ও উত্তর ইউনিয়নে ইকবাল আল আজাদের ভোট বেশি। বেহেলী ইউনিয়নে রেজাউল করিম শামীম ও ইকবাল আল আজাদের প্রচার বেশি। ফেনারবাক ইউনিয়নে তিন প্রার্থীরই ভোট আছে।
জামালগঞ্জ উপজেলা বরুণ রায় স্মৃতি সংসদের সভাপতি বিদ্যুৎজ্যোতি চক্রবর্তী জানান, একেক প্রার্থীর একেক অঞ্চলে ভালো অবস্থা। ভোটের প্রচারণাও ভিন্ন ধরনের। তিনজনেই সমানে সমান। কে জিতবে বলা কঠিন। লড়াই হবে ত্রিমুখী।

আরও পড়ুন

×