ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

আসামি ধরতে গিয়ে কপালে পিস্তল

নিরাপত্তাহীনতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সেই পরিবার

নিরাপত্তাহীনতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সেই পরিবার

কপালে পিস্তল ধরার এই ছবি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৪ | ১০:১৪ | আপডেট: ১৫ মে ২০২৪ | ১৪:৩৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) আসামি ধরতে গিয়ে নারীর কপালে পিস্তল ঠেকানোর ঘটনায় সেই পরিবার এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। ওই ঘটনায় পরিবারটি আজ মঙ্গলবার আদালতে মামলা করতে পারে বলে জানিয়েছে।

স্বর্ণ আত্মসাৎ মামলার আসামি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার থলিয়ারা গ্রামের সৌদি আরবপ্রবাসী নূরুল আলম নূরুকে গ্রেপ্তারে শুক্রবার বিকেলে তাঁর বাড়িতে গিয়েছিল ডিবি পুলিশ। ওই সময় নূরুলের বাবা, স্ত্রী, সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে ডিবি দলটির বিরুদ্ধে। এ ছাড়া নূরুলের স্ত্রীর কপালে পিস্তল ধরার ছবি ভাইরাল হয়। ডিবির বিরুদ্ধে ফাঁকা গুলি ছোড়ার অভিযোগও উঠেছে।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। জেলা নাগরিক ফোরামের সভাপতি পিযুষ কান্তি আচার্য্য বলেন, ভয়ভীতি দেখানো পুলিশের কাজ নয়। আসামি ধরতে গিয়ে যদি নারী ও শিশুদের ভয়ভীতি দেখানো হয়, তা তদন্তের দাবি রাখে। 

অ্যাডভোকেট মো. নাসির নামে একজন বলেন, সাদা পোশাকে এভাবে পুলিশের আসামি ধরতে যাওয়া উচিত নয়। আইনশৃঙ্খলা সংস্থার প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্যই এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

এদিকে ভুক্তভোগী পরিবারটির সদস্য এখন ভয়ের মধ্যে আছে। আসামি নূরুলের ভাই সারোয়ার আলম সমকালকে বলেন, তাদের মধ্যে এখন অজানা আশঙ্কা কাজ করছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় ডিবি পুলিশ হয়রানি করতে পারে বলে আশঙ্কা তাঁর।

এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, তারা আদালতে মামলা করার বিষয়ে ভাবছেন। আইনি পরামর্শ নিতে তিনি গতকাল সোমবার ঢাকায় গিয়েছিলেন। আইনজীবী মতামত দিলে আজ মঙ্গলবার ডিবির ওই সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন জানান, পুলিশের কোনো কর্মকর্তা আসামি ধরতে গিয়ে অসৌজন্যমূলক আচরণ করলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরই মধ্যে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এর পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ওই তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়নাল আবেদীন জানান, তারা এরই মধ্যে অভিযুক্তদের সাক্ষ্য নিয়েছেন। নির্ধারিত সময় অর্থাৎ আজ মঙ্গলবারের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারবেন।

আরও পড়ুন

×