ঢাকা বুধবার, ২২ মে ২০২৪

ট্রেনযাত্রা নিয়ে শঙ্কায় যাত্রী

ট্রেনযাত্রা নিয়ে শঙ্কায় যাত্রী

কালীগঞ্জের মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনে প্রবেশ করছে বেনাপোল এক্সপ্রেস। ট্রেনে ওঠার জন্য প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষায় যাত্রীরা সমকাল

শাহারিয়ার রহমান রকি, ঝিনাইদহ

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৪ | ২৩:০৫

কারও হাতে কাপড় বোঝাই ব্যাগ। কেউ থলেসহ অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে স্বজনের সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছেন। আন্তঃনগর বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে ঢাকায় যাবেন তারা। কিছুক্ষণের মধ্যে ট্রেন এলে তড়িঘড়ি করে সবাই উঠলেন নির্ধারিত বগিতে। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনে প্রতিদিন বেলা ২টা ৫৫ মিনিটের দিকের চিত্র এটি। তবে আগামী জুলাই মাস থেকে চিরচেনা এ দৃশ্য পাল্টে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, আগামী ১ জুলাই থেকে খুলনা ও বেনাপোল থেকে যশোরের রুপদিয়া হয়ে পদ্মা সেতু দিয়ে ঢাকায় যাবে ট্রেন। এতে খুলনা থেকে যশোর, ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ ও কোটচাঁদপুর হয়ে চুয়াডাঙ্গা দিয়ে ঢাকাগামী ট্রেনে রুট বদলে যেতে পারে। এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঝিনাইদহসহ আশপাশের বাসিন্দারা। যদিও রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি। তবে ট্রেন কমে যাওয়ার কথা তারাও শুনেছেন।
দুই স্টেশন পড়েছে ঝিনাইদহ-৩ ও ৪ নির্বাচনী আসনের সীমানায়। স্থানীয় দুই এমপি বলছেন, রুপদিয়া-ভাঙ্গা রেলপথ চালু হলে ঢাকাগামী চিত্রা, বেনাপোল ও সুন্দরবন এক্সপ্রেস ওই রুটে চলে যাবে। মন্ত্রণালয়ে এমন সিদ্ধান্ত আছে। এটি হলে ঝিনাইদহ ও আশপাশের এলাকার মানুষ ট্রেনে সরাসরি ঢাকায় যাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে। যাত্রীদের ভাষ্য, তারা তিনটি ট্রেন চলে যাওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন। এ রুটে শাটল ট্রেন দিলেও তা বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তি কিংবা লাগেজ নিয়ে ওঠানামা করা কষ্টসাধ্য হবে। এতে ভোগান্তির কারণে কমবে যাত্রী।

কালীগঞ্জের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের গৃহবধূ দীপ্তি বিশ্বাস বেনাপোল এক্সপ্রেসে ঢাকায় যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তিনি বলেন, এ রুটে সময় বেশি লাগলেও যাত্রা আরামদায়ক। সহজে ট্রেনে ঢাকা যাওয়া যায়। ট্রেন কমলে বা বন্ধ হলে ভোগান্তির শেষ থাকবে না। সদরের পাগলাকানাই এলাকার খামারি বেল্টু মুন্সীর ভাষ্য, নিরাপদে ভ্রমণে ট্রেনযাত্রা ভালো লাগে। ট্রেন বন্ধের শঙ্কায় সে ভালো লাগা আর থাকছে না।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, কালীগঞ্জের মোবারকগঞ্জ ও কোটচাঁদপুরে স্টপেজ রয়েছে আন্তঃনগর তিন ট্রেনের। মোবারকগঞ্জ স্টেশনের জন্য চিত্রা এক্সপ্রেসে বরাদ্দ রয়েছে, এসি ১০ ও চেয়ারের ১০ আসন। বেনাপোল এক্সপ্রেসে এসি ১০টি ও চেয়ার ২৫টি এবং সুন্দরবনে এসি ৩০ ও চেয়ার ২৫টি আসন রয়েছে। স্ট্যান্ডিং আসন রয়েছে ২০ শতাংশ। এদিকে কোটচাঁদপুর স্টেশনে চিত্রায় এসি ১০ ও চেয়ার ১০, বেনাপোলে এসি ১৫, চেয়ার ৪০ ও কেবিনে চারটি এবং সুন্দরবন এক্সপ্রেসে এসি ২০ ও চেয়ার ২০টি আসন বরাদ্দ রয়েছে। স্ট্যান্ডিং আসন রয়েছে ২৫ শতাংশ। 
সূত্র জানায়, ভাঙ্গা-রুপদিয়া রুট চালু হলে ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা-ঢাকা রুটে সরাসরি ট্রেন বন্ধ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে দর্শনা থেকে রাজবাড়ী হয়ে দুটি নতুন ট্রেন চালু হতে পারে। কোটচাঁদপুর ও মোবারকগঞ্জ থেকে দুটি কানেকটিং শাটল ট্রেন রুপদিয়া ও দর্শনায় যাবে।

তিনটি ট্রেনই রুপদিয়া, ভাঙ্গা হয়ে ঢাকায় যাতায়াত করার বিষয়টি অনেকটা নিশ্চিত বলে জানান কোটচাঁদপুরের সংবাদকর্মী খন্দকার আব্দুল্লাহ বাশার। তিনি বলেন, তারা চান না, এ রুটের ট্রেন বন্ধ হোক। রুটটি চালু রাখার বিষয়ে স্থানীয় এমপিকে জানানো হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত না দিলে স্থানীয়রা আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
নতুন সংযোগ ও ট্রেন চালু হওয়া যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের অংশ বলে মনে করেন তারেক মাহমুদ নামের এক যাত্রী। তবে এক রুটের ট্রেন বন্ধ করে অন্য রুটে নেওয়া উন্নয়নের অংশ হতে পারে না। নতুন ট্রেন দিয়ে রুপদিয়া-ভাঙ্গা রুট চালু করার দাবি তাঁর। যদিও ঢাকাগামী ট্রেনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসেনি বলে জানান মোবারকগঞ্জের স্টেশন মাস্টার শাজাহান শেখ ও কোটচাঁদপুরের সহকারী স্টেশন মাস্টার গোলাম রসুল নয়ন। তাদের ভাষ্য, এ রুটের ট্রেন বন্ধ হলে মানুষ কিছুটা হলেও সেবাবঞ্চিত হবে। 

এলাকার মানুষ ট্রেনে ঢাকায় বেশি যাতায়াত করে জানিয়ে ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনের এমপি আনোয়ারুল আজিম আনার বলেন, যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় বাইরে থেকেও আসন এনে চাহিদা পূরণ করতে হয়। নতুন রেলপথে তিনটি ট্রেনই রুপদিয়া হয়ে যাবে। এতে গোটা জেলা ঢাকামুখী রেলপথ থেকে বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। এ বিষয়ে রেলমন্ত্রী ও স্থায়ী কমিটির সভাপতির সঙ্গে কথা হয়েছে তিন এমপির। তারা ডিও লেটার দিতে বলেছেন। রেল মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভায়ও বিষয়টি জানাতে বলেছেন। ইতোমধ্যে ডিওপত্র তৈরি করেছেন তারা।
ঝিনাইদহ-৩ (মহেশপুর-কোটচাঁদপুর) আসনের এমপি মেজর জেনারেল (অব.) সালাহউদ্দিন মিয়াজী বলেন, তিনি মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা রেখেছেন। ঈশ্বরদী, সিরাজগঞ্জ, যমুনা, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ হয়ে ঢাকার রুটটি যশোর ও খুলনাবাসী পাবে না। এটি মাথায় রেখে অন্তত একটি ট্রেন পুরোনো রুটে চালানোর ব্যবস্থা করলেও সমাধান হতে পারে। রেল বিভাগের জন্য এমন পরিকল্পনা করা সহজ হতো।
ট্রেন তিনটি অন্য রুটে নেওয়ার বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের জিএম অসীম কুমার তালুকদার। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে এখন মন্তব্য করা ঠিক হবে না।

আরও পড়ুন

×