ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

মা-মেয়ের একসঙ্গে এসএসসি পাস

মা-মেয়ের একসঙ্গে এসএসসি পাস

মেয়ে মাফরুহা শাহের সঙ্গে পৌর কাউন্সিলর মা সাবিয়া বেগম সমকাল

নীলফামারী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৪ | ২৩:১১

ছোট থেকেই স্বপ্ন ছিল লেখাপড়া করে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার। সে স্বপ্ন পূরণে বাধা হয়ে দাঁড়ায় দারিদ্র্য। ছয় বোনসহ আটজনের সংসারে তিন বেলা আহার জোগানোই কষ্টকর। সেখানে রেল কর্মচারী বাবার পক্ষে মেয়ের পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া ছিল অসম্ভব। তাই ১৫ বছর বয়সে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয়। এর পর শক্ত হাতে ধরেছেন সংসারের হাল। জনপ্রতিনিধি হয়ে সেবাও করছেন সাধারণ মানুষের।

জীবনযুদ্ধে প্রতিবন্ধকতা জয় করে এগিয়ে যাওয়া এ নারীর নাম সাবিয়া বেগম। তিনি সৈয়দপুর উপজেলার গোলাহাট এলাকার ট্রাকচালক আব্দুল মান্নান শাহর স্ত্রী। সাবিয়া সংরক্ষিত ওয়ার্ডের দু’বার নির্বাচিত পৌর কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-৩ এর দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি এবার সৈয়দপুর আসমাতিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ৩ দশমিক ৬৪ পেয়েছেন। তাঁর মেয়ে মাফরুহা শাহ স্থানীয় ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ ৩ দশমিক ৫০ পেয়েছে। 

মা-মেয়ের পাসের খবরে আনন্দে মেতে উঠেছে পরিবারসহ পৌরবাসী। মেয়ের চেয়ে ভালো ফল করায় ৪৮ বছর বয়সী সাবিয়ার প্রশংসা করছেন পৌর মেয়র, রাজনীতিকসহ সমাজের বিশিষ্টজন।
বিয়ের ৩৩ বছর পেরিয়ে গেছে সাবিয়া বেগমের। তিন মেয়ের দেখাশোনা করতে গিয়ে নতুন করে পড়ালেখার ইচ্ছা জাগে। ছোট মেয়ে মাফরুহা শাহের সঙ্গে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হন। চলতি বছর মা-মেয়ে একসঙ্গে পরীক্ষায় অবতীর্ণ হন।

উচ্ছ্বসিত সাবিয়া বেগম বলেন, নিজেকে একজন শিক্ষিত মানুষ হিসেবে পরিচয় দিতে এই বয়সে কষ্ট করে লেখাপড়া করছি। বিষয়টি অনেকে সহজভাবে নেননি। বাঁকা কথা শুনতে হয়েছে। স্বামী ও মেয়েদের প্রেরণায় আজ সফল হয়েছি। পড়াশোনার ব্যাঘাত ঘটবে বলে সংসারের কাজ মেয়েরাই করত। তিনি আরও বলেন, পড়ালেখার কোনো বয়স নেই। ইচ্ছা থাকলে যে কোনো বয়সে পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। দেশের সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করতে চান অদম্য এ নারী। 
সাবিয়া বেগমের স্বামী আব্দুল মান্নান শাহ বলেন, একটু দেরিতে হলেও আমি সাবিয়ার ইচ্ছা পূরণ করতে পেরেছি। সে আরও পড়াশোনা করতে চাইলে করবে। আমার সহযোগিতা থাকবে।
আসমাতিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার কাজী আনোয়ারুল হক বলেন, অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে সব কিছুই অর্জন করা সম্ভব। সাবিয়া বেগম দেখিয়ে দিয়েছেন। তিনি যাতে আরও লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারেন, সেই প্রার্থনা তাঁর জন্য। 

পৌরসভার মেয়র রাফিকা আকতার জাহান বলেন, সাবিয়া বেগম মেয়ের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষায় বসেছেন। বিষয়টি প্রশংসনীয়। তাঁর সাফল্যে আমরা গর্বিত।

আরও পড়ুন

×