ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪

সীতাকুণ্ড পৌরসভার নির্ধারিত জবাইখানা

জবাই হয় না পশু, তবুও রসিদ ছাড়া টাকা তোলেন ইজারাদার

জবাই হয় না পশু, তবুও রসিদ ছাড়া টাকা তোলেন ইজারাদার

অযত্ন-অবহেলায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌরসভার কসাইখানা। ইজারা দেওয়া হলেও এখানে গরু জবাই হয় না। মঙ্গলবারের ছবি সমকাল

 এম সেকান্দর হোসাইন, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) 

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৪ | ২৩:৫০

প্রকাশ্যে পশু জবাই বন্ধে সীতাকুণ্ডের শেখপাড়া (২ নম্বর ওয়ার্ড) এলাকায় ছয়-সাত বছর আগে একটি পশু জবাইখানা নির্মাণ করেছিল পৌরসভা। প্রথমদিকে সপ্তাহখানেক এ জবাইখানায় পশু জবাই করা হয়েছে। কিন্তু পর্যাপ্ত পানি সরবরাহের অভাবসহ নানা সমস্যার কারণে এর পর সেখানে পশু জবাই বন্ধ হয়ে যায়। সেই থেকে জবাইখানাটি পরিত্যক্ত। জবাইখানার চারপাশে এখন ময়লার ভাগাড়। অথচ প্রতিবছর নিয়ম করে এ জবাইখানা ইজারা দেয় পৌরসভা। 

জানা গেছে, জবাইখানার অভাবে পৌর এলাকার কসাইরা এখনও যেখানে সেখানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পশু জবাই করছে। কিন্তু জবাইখানার জন্য রসিদ ছাড়াই সীতাকুণ্ড পৌর সদরের সাতটি গরুর মাংসের দোকান থেকে গত দুই বছর ধরে দৈনিক ৫০০ টাকা করে মোট সাড়ে তিন হাজার টাকা তুলছেন ইজাদার মো. দেলোয়ার। 
স্থানীয়রা জানান, জবাইখানা নির্মাণ করেই দায় সেরেছে পৌরসভা, কিন্তু এটি কার্যকর করতে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। সেখানে পর্যাপ্ত পানির সরবরাহ না থাকায় কোনো পশু জবাই করলেও বর্জ্য সরানো সম্ভব হয় না। জবাইকৃত পশুর রক্ত ও অন্যান্য উপজাত সংগ্রহের ভালো ব্যবস্থাও নেই। তা ছাড়া অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা যেমন জবাইয়ের আগে গরু-ছাগল-ভেড়া রাখার জায়গা, ড্রেন, পানির হাউস ইত্যাদি থাকা সত্ত্বেও সংস্কারের অভাবে এগুলো ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। জবাইখানা পরিষ্কারে কোনো ধরনের জীবাণুনাশকও ব্যবহার করতে দেখা 
যায়নি কখনও। 

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তাহমিনা আরজু বলেন, স্মার্ট পশু জবাইখানার বিকল্প নেই। শেখপাড়ায় যে জবাইখানা রয়েছে, সেখানে পশু জবাইয়ের উপযুক্ততা নেই। কারণ এর আশপাশে নেই পানি সরবরাহ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা। 
সীতাকুণ্ড পৌরসভার কাউন্সিলর জসিম উদ্দিন বলেন, বিকল্প জবাইখানার জন্য জায়গা খুঁজছেন সীতাকুণ্ড পৌর মেয়র। জায়গা পেলে নতুন জবাইখানা নির্মাণ করা হবে। 
অনুসন্ধান বলছে, প্রতিবছর এই জবাইখানা ইজারা দেয় পৌরসভা। কিন্তু জবাইখানার পরিবেশের কোনো উন্নতি হয়নি। সীতাকুণ্ড পৌরসভার সচিব নজরুল ইসলাম জানান, গত দুই বছর এই জবাইখানার ইজারা পেয়েছেন মো. দেলোয়ার নামে এক ব্যক্তি। যেহেতু জবাইখানাটি নিষ্ক্রিয়, তাহলে কেন এর জন্য টাকা তোলা হচ্ছে– এ বিষয়ে জানতে ইজারাদার দেলোয়ারকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। 

সীতাকুণ্ড পৌর মেয়র বদিউল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও বিষয়টি এড়িয়ে যান। মেয়র জানান, জবাইখানাটি সংস্কার করা হবে। তবে নতুন জায়গা পেলে নির্মাণ করা হবে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত আরেকটি জবাইখানা।  
 

আরও পড়ুন

×