ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

হিজলা উপজেলা নির্বাচন

প্রতিদ্বন্দ্বী ভাই ভাই, চাচা ভাতিজা

প্রতিদ্বন্দ্বী ভাই ভাই, চাচা ভাতিজা

প্রতীকী ছবি

 সুমন চৌধুরী, বরিশাল 

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৪ | ০০:২১

বরিশালের হিজলা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আপন দুই ভাই এবং চাচা-ভাতিজা। তারা সবাই আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা। দুই ভাই এতদিন ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য পঙ্কজ নাথের বিরুদ্ধে। উপজেলা নির্বাচনে এবার তারা মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে, এমপির অনুসারী চাচা-ভাতিজা ভেতরে ভেতরে ঐক্যের আভাস দিচ্ছেন। ফলে হিজলায় ভোটের মাঠে পঙ্কজ অনুসারীদের ঐক্য এবং বিরোধীদের মধ্যে চলছে অনৈক্য।  

চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বী সহোদর হলেন– উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোটরসাইকেল প্রতীকের সুলতান মাহমুদ টিপু সিকদার এবং ছোট ভাই যুগ্ম সম্পাদক ঘোড়া প্রতীকের আলতাফ মাহমুদ দিপু সিকদার। তারা সংরক্ষিত সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহম্মেদের অনুসারী। 

স্বতন্ত্র এমপি পঙ্কজ নাথের অনুসারী প্রতিদ্বন্দ্বীরা হলেন দেলোয়ার হোসেন ফারুক ঢালী (আনারস) ও তাঁর ভাতিজা নজরুল ইসলাম রাজু ঢালী (চিংড়ি মাছ)। রাজুর পিতা উপজেলা চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বেলায়েত ঢালী গত ৫ ফেব্রুয়ারি প্রয়াত হয়েছেন। এ ছাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজুর রহমান (হেলিকপ্টার) চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন। দ্বিতীয় ধাপে ২১ মে হিজলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। 

স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, পঙ্কজ নাথ ও ড. শাম্মীকে ঘিরে সংসদীয় আসনভুক্ত হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জে একেবারে গ্রাম পর্যায়ে আওয়ামী লীগ দুই ভাগে বিভক্ত। তাদের মধ্যে দা-কুমড়া সম্পর্ক। প্রতিটি নির্বাচনে তারা পরস্পরবিরোধী অবস্থান নেন। দুই পক্ষের সংঘাত-সংঘর্ষের জন্য মেহেন্দীগঞ্জ-হিজলা দেশের রাজনীতিতে অন্যভাবে পরিচিত। 

হিজলা নির্বাচনে দুই পক্ষ থেকে দু’জন প্রার্থী হবেন– এমন ধারণা ছিল সবার। কিন্তু প্রতিটি শিবির থেকে দু’জন প্রার্থী হয়ে ভোটের হিসাব জটিল করে দিয়েছেন। বিশেষ করে শাম্মী অনুসারী সহোদর  টিপু-দিপু শক্তিশালী প্রার্থী হওয়ায় এ শিবিরের ভোট বিভক্তিতে পঙ্কজপন্থিরা সুফল পেতে পারেন বলে অনেকের অভিমত। 
এ কথা স্বীকার করে টিপু সিকদার সমকালকে বলেন, দিপু বেয়াদব। বড়দের সম্মান করে না। পরিবারের নিয়ন্ত্রণে সে নেই। আগে ঢাকায় সন্ত্রাস করেছে, এখন হিজলায় করছে। সুষ্ঠু ভোটের ক্ষেত্রে তাঁকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেন তাঁর বড় ভাই। 

এর জবাবে দিপু সিকদার বলেন, দুই ভাইয়ের মধ্যে কে ভালো, কে মন্দ– সেটা জনগণ বেছে নেবে। 
পঙ্কজ অনুসারী সদ্য সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রাজু ঢালী জানান, তাঁর পিতা বেলায়েত ঢালী ১৭ বছর গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়ন এবং ৫ বছর উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি জনগণকে ভালোবাসতেন, জনগণ তাঁর প্রতিদান দেবেন বলে তিনি আশাবাদী। প্রতিদ্বন্দ্বী চাচা প্রসঙ্গে বলেন, খুব শিগগির চাচা তাঁর সমর্থন জানিয়ে প্রচারে নামবেন। 
এর সত্যতা জানতে ফারুক ঢালীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি। হিজলার একাধিক সংবাদকর্মী সমকালকে নিশ্চিত করেছেন, ফারুক ঢালী নির্বাচনী প্রচারে নেই। অনুমান করা হচ্ছে, তিনি ভাতিজাকে সমর্থন দিচ্ছেন। 

রাজু ঢালীর সমর্থক হিজলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বড়জালিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন হাওলাদার জানান, দু’দিন আগে পারিবারিক সমঝোতায় ফারুক ঢালী ভাতিজা রাজুকে সমর্থন দিয়েছেন।

 

আরও পড়ুন

×