ঢাকা শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

গোপালগঞ্জে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা

গুলিতে নিহত যুবকের লাশ নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ

২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে আলটিমেটাম

গুলিতে নিহত যুবকের লাশ নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ

সংগৃহীত ছবি

সমকাল প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৪ | ২০:৫৯

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় গুলিতে নিহত যুবক ওসিকুর ভুঁইয়ার মরদেহ নিয়ে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা।

বুধবার গোপালগঞ্জ শহরের চেচানিয়াকান্দি এলাকায় দুপুর ১টা থেকে এক ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন তারা।

সমাবেশে বক্তারা গত মঙ্গলবার রাতের ওই সংঘর্ষের জন্য সদর উপজেলার সদ্য বিজয়ী চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান ভূঁইয়াকে দায়ী করেন।

এদিকে দুপুর ২টার দিকে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে এসে ওসিকুর হত্যার বিচারের আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেন। এ সময় পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করা না হলে চন্দ্রদিঘলিয়া বাসস্ট্যান্ডে মহাসড়ক অবরোধসহ বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দেন বিক্ষোভকারীরা। 

এর আগে সকালে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গ থেকে ওয়াসিকুরের লাশ নিয়ে শহরে শোক মিছিল করেন আন্দোলনকারীরা। পরে মিছিলকারীরা ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে গিয়ে ওসিকুরের লাশ সামনে রেখে বিক্ষোভ করেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ইলিয়াস হক বলেন, ‘যে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। আমরা সুষ্ঠু বিচার চাই। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার আমাদের বিচারের ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছেন। সাময়িকভাবে অবরোধ তুলে নিয়েছি। আমাদের প্রত্যাশা, প্রশাসন বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যেই ওসিকুর হত্যায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করবে।’

সমাবেশে অন্যদের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল আলম কাকন, উপপ্রচার সম্পাদক শিমুল চৌধুরী, পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী বি এম লিয়াকত আলী, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলিমুজ্জামান বিটু, জেলা যুবলীগের সহসভাপতি শেখ সাহাবুদ্দিন হিটু, সদর উপজেলা যুবলীগ সভাপতি জায়েদ মাহামুদ বাপ্পী, জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি নিউটন মোল্লা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার আল-বেলি আফিফা বলেন, আমরা এরই মধ্যে হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে কাজ শুরু করেছি।

জেলা প্রশাসক কাজী মাহবুবুল আলম বলেন, জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় পুলিশের পাশাপাশি র‍্যাব, বিজিবি, আনসার মোতায়েন করা হয়েছে। হত্যার ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। অবৈধ কোনো অস্ত্র ব্যবহার হলে তা উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিজয়ী চেয়ারম্যান কামরুজ্জামানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গোপালগঞ্জ সদরের চন্দ্রদিঘলিয়া বাজারে পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী বি এম লিয়াকত আলীর সমর্থকদের সঙ্গে বিজয়ী প্রার্থী কামরুজ্জামান ভূঁইয়ার সমর্থকদের সংঘর্ষ চলাকালে প্রতিপক্ষের গুলিতে ওসিকুর নিহত হন। আহত হন আরও ১৫ জন। ওসিকুর পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী বি এম লিয়াকত আলীর সমর্থক ছিলেন।

আরও পড়ুন

×