ঢাকা রবিবার, ১৯ মে ২০২৪

হাসপাতালে চোরচক্রের খপ্পরে ৪ নারী

হাসপাতালে চোরচক্রের খপ্পরে ৪ নারী

ছবি: সংগৃহীত

ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৪ | ০০:২৬ | আপডেট: ১৬ মে ২০২৪ | ০৪:৩৯

ফুলবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চোরচক্রের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই বহির্বিভাগে সেবা নিতে আসা লোকজন চোরচক্রের খপ্পরে পড়ছেন। খোয়া যাচ্ছে মোবাইল ফোন, টাকা, স্বর্ণালংকার।

গতকাল বুধবার হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার অফিস কক্ষে হাউমাউ করে কাঁদছেন এক নারী। কান্নাকাটির কারণ জানতে চাইলে বলেন, বহির্বিভাগে চিকিৎসাসেবা নিতে এসে তাঁর সব কিছু খোয়া গেছে। ভুক্তভোগী আম্বিয়া খাতুন জানান, বহির্বিভাগের ৪ নম্বর কক্ষে তীব্র ভিড় অতিক্রম করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সময় তাঁর ব্যাগ থেকে ১৪ হাজার টাকা চুরি হয়েছে।

তাঁর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন আম্বিয়া খাতুন। এ সময় তাঁর ভ্যানিটি ব্যাগে ১৪ হাজার টাকা ছিল। টাকাগুলো জামাতাকে বিদেশ পাঠানোর জন্য বিকাশে একজনকে পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু তীব্র ভিড় ঠেলে বহির্বিভাগের ৪ নম্বর কক্ষে চিকিৎসক সোহেবের কাছে যাওয়ার সময় তাঁর ব্যাগ থেকে টাকাগুলো চুরি যায়। বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানালেও কোনো প্রতিকার না পেয়ে বাড়ি ফিরে যান ভুক্তভোগী। একই দিন হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে এসে কৈয়ার চালা গ্রামের রূপালী বেগম খুইয়েছেন তিন হাজার টাকা। চিকিৎসাসেবা নিতে এসে একই সময় কুশমাইলের ছলির বাজারের নারী কোহিনুরের ১ হাজার টাকা এবং অন্য এক নারীর চুরি হয়ে গেছে ৮ হাজার টাকা।

স্থানীয়রা জানান, এক সপ্তাহ আগে হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালক ছাদেকুর রহমানের হাসপাতাল কোয়ার্টারের তালাবদ্ধ বাসা থেকে ১০ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার চুরি গেছে। এ ঘটনায় ফুলবাড়িয়া থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এভাবে মাঝে মধ্যেই চুরির ঘটনা ঘটলেও টনক নড়ছে না প্রশাসনের। চিকিৎসা নিতে এসে লোকজন যদি চোরচক্রের খপ্পরে পড়ে টাকা-পয়সা হারায়, তাহলে বেকায়দায় পড়তে হয়।

স্থানীয় ব্যবসায়ী হারুন অর রশিদ বলেন, ‘সিসিটিভি ক্যামেরা যেখানে বসানোর প্রয়োজন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেখানে বসায়নি। হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা নারীদের কাছ থেকে প্রতিদিন চোরেরা টাকা চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। বুধবার একই দিনে চার নারীর টাকা চুরি হয়েছে। এটি সাধারণ ব্যাপার নয়, কোনো চোরচক্রের কাজ।’

ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুজ্জামানের ভাষ্য, হাসপাতালের প্রধান ডা. বিধান চন্দ্র দেবনাথ ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষার মাধ্যমে চোর শনাক্ত করলে এদের রোধ করা সম্ভব।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বিধান চন্দ্র দেবনাথ বলেন, ক্যামেরা ফুটেজ পরীক্ষা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×