ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪

ঘষিয়াখালী ক্যানেলে হচ্ছে নেভিগেশন লক 

কমবে ড্রেজিং খরচ সাশ্রয় হবে অর্থ

কমবে ড্রেজিং খরচ সাশ্রয় হবে অর্থ

ছবি: সংগৃহীত

খুলনা ব্যুরো

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৪ | ০২:২৬

প্রায় ২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ মোংলা-ঘষিয়াখালী ক্যানেলে পলি পড়ে নাব্য কমছে। প্রতিবছর ২০-২৫ লাখ ঘনমিটার পলি ড্রেজিং করে অপসারণ করতে হচ্ছে, যা অনেক ব্যয়বহুল। এ ছাড়া ড্রেজিং করা বালু-মাটি ফেলার জায়গা মিলছে না। এ কারণে বিকল্প হিসেবে এ নৌপথের এক অথবা দুই  প্রান্তে ‘নেভিগেশন লক’ করে জোয়ার-ভাটা নিয়ন্ত্রণের প্রাথমিক পরিকল্পনা নিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ। এ ছাড়া পলির সমস্যা নিরসনে বিকল্প উপায়ও খুঁজছে তারা।

গত মঙ্গলবার এক কর্মশালায় সংস্থাটির ড্রেজিং বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী রকিবুল ইসলাম তালুকদার এ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। খুলনা সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে ‘মোংলা-ঘষিয়াখালী ক্যানেল আপগ্রেডিং প্রজেক্ট-কনসেপচুয়াল স্ট্যাডি’ শীর্ষক এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। 

কর্মশালায় প্রধান প্রকৌশলী জানান, জোয়ারের সময় এ ক্যানেলের মোংলা প্রান্তের পশুর নদ দিয়ে প্রায় ৮০ শতাংশ এবং ঘষিয়াখালী প্রান্তের বলেশ্বর নদী দিয়ে ২০ শতাংশ পলি আসে। এ অবস্থায় নেভিগেশন লকের মাধ্যমে জোয়ার-ভাটার পানি নিয়ন্ত্রণ করা গেলে বছরে চার-পাঁচ লাখ ঘনমিটার পলি পড়বে, যা সহজে ড্রেজিং করা সম্ভব হবে।  

কর্মশালায় জানানো হয়, এ ক্যানেলের সঙ্গে সংযুক্ত ৩২টি খাল উন্মুক্ত নেই। সেগুলোতে জোয়ারের সময় ক্যানেলের পানি ঢুকতে পারে না। ক্যানেলের দুই পাশে প্লাবন ভূমি না থাকায় সেখানেও পানি গিয়ে পলি পড়তে পারে না। উজান থেকে পানির প্রবাহ কমে গেছে। এসব কারণে পলি পড়ার হার বেড়েছে।

তবে কর্মশালায় উপস্থিত অনেকে নেভিগেশন লক, স্লুইসগেট বা এ ধরনের অন্য কোনো অবকাঠামো নির্মাণ করে জোয়ার-ভাটার পানি নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছেন। তারা বিকল্প উপায় খোঁজার পরামর্শ দেন। কারণ, একবার লক বাস্তবায়ন করে সমস্যা হলে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া কঠিন হবে।

কর্মশালায় জানানো হয়, মোংলা-ঘষিয়াখালী ২৬ কিলোমিটার বিস্তৃত ক্যানেল মোংলা নদী, কুমারখালী নদী ও একটি খনন করা খাল নিয়ে গঠিত। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ ১৯৭০ সালে খালটি খনন করে। নাব্য সংকটে ২০০১ সাল থেকে ক্যানেলটি নৌযান চলাচলের ক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। ২০১০ সালে এটি শুকিয়ে যায় এবং জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়। তখন অনেক ঘুরে সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করত। ২০১৪ সালে এ ক্যানেলের কার্যকারিতা ফিরিয়ে আনতে ক্যাপিটাল ড্রেজিং শুরু হয়। ২০১৮ সাল থেকে এটি জাহাজ চলাচলের জন্য উপযুক্ত হয়। এ নৌপথ দিয়ে প্রতিদিন পণ্যবাহী ৭০-৮০টি জাহাজ চলে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ, যা ভারত-বাংলাদেশ প্রটোকল রুটের অংশ। এ কারণে এ নৌপথের নাব্য ঠিক রাখতে হবে।

বিশেষ অতিথি ছিলেন বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য বেগম হাবিবুন নাহার ও বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমডোর আরিফ আহমেদ মোস্তফা। সভাপতিত্ব করেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. হেলাল মাহমুদ শরীফ। কি-নোট পেপার উপস্থাপন করেন ইউএসএআইডির টিম লিডার জিহান হেনরি। 

আরও পড়ুন

×