ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪

আমদানি প্রচুর, তবুও মসলার দামে ঊর্ধ্বগতি

আমদানি প্রচুর, তবুও  মসলার দামে ঊর্ধ্বগতি

ছবি: সংগৃহীত

 শৈবাল আচার্য্য, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৪ | ০৩:০৩

কোরবানির ঈদের এখনও প্রায় এক মাস বাকি। কিন্তু এর মধ্যেই অস্থির হয়ে উঠেছে বিভিন্ন মসলার বাজার। দেশের ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বৃহৎ পাইকারি মোকাম চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে বেড়েই চলেছে জিরা, এলাচ, গোলমরিচ, দারুচিনি, লবঙ্গসহ প্রায় সব মসলার দাম। ব্যবসায়ীদের দাবি, ডলারের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ ঘাটতির কারণেই মসলার দাম বাড়ছে।

অথচ চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের তথ্য বলছে, বছরের প্রথম পাঁচ মাসেই চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পর্যাপ্ত মসলাজাতীয় পণ্য আমদানি হয়েছে। সুতরাং সরবরাহ ঘাটতির কোনো কারণ নেই। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) নেতারা বলছেন, কোরবানির বাড়তি চাহিদাকে কেন্দ্র করে কয়েক গুণ বেশি মুনাফা করতেই অসাধু ব্যবসায়ীরা মসলার দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। 

মসলার বাজার অস্থির করার বিষয়টি তদারকি করতে শিগগির অভিযান পরিচালনার কথা বলেছে প্রশাসন। 

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে দেশে পর্যাপ্ত মসলা আমদানি হয়েছে। গত জানুয়ারি থেকে গতকাল বুধবার পর্যন্ত ৩২ হাজার ১৭০ টন লবঙ্গ, ২৯ হাজার ৬৪৬ টন গোলমরিচ, ৪১ হাজার ৩৪৬ টন জিরা, ২৪ হাজার ২৬৭ টন এলাচ আমদানি হয়েছে। 

তবে আমদানির এমন আশানুরূপ চিত্র দেখা গেলেও বাজারের চিত্র এর বিপরীত। এক সপ্তাহের ব্যবধানে খাতুনগঞ্জে প্রতিটি মসলাজাতীয় পণ্যের দাম কেজিতে সর্বনিম্ন ৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গতকাল খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে বড় দানার ভালো মানের প্রতি কেজি এলাচ ৩ হাজার ৯৫০ থেকে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এক সপ্তাহ আগেও এই এলাচের কেজি বিক্রি হয়েছিল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কমে। ছোট দানার প্রতি কেজি এলাচ বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৭০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকায়। গত সপ্তাহে একই মানের এলাচ ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৫৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। কেজিতে ৫০ থেকে ৮০ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি জয়ত্রি বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার ৯৫০ টাকা।

আগের সপ্তাহে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজির লবঙ্গ বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৩৬০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায়। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি জিরা বিক্রি হয়েছিল মানভেদে ৫৫০ থেকে ৫৫৭ টাকা; যা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকায়। গত সপ্তাহে যে গোলমরিচ প্রতি কেজি ৭২০ থেকে ৭৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল; এখন তা ৮২০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম বেড়ে বর্তমানে প্রতি কেজি জায়ফল ৭০০ থেকে ৭৩০ টাকা, দারুচিনি ৩৭০ থেকে ৪০০ টাকা, হলুদ ২৯০ থেকে ৩১০ টাকা, কালোজিরা ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা, কিশমিশ ৬৫০ থেকে ৮০০ টাকা, তেজপাতা ১১০ থেকে ১২০ টাকা, সাদা সরিষা বিক্রি হচ্ছে ২৭৫ থেকে ৩০০ টাকায়। 

বাড়তি দাম নিয়ে বাংলাদেশ মসলা ব্যবসায়ী সমিতির সহসভাপতি অমর কান্তি দাশ বলেন, ‘মসলার বড় একটি অংশ আসে ভারত থেকে। বর্তমানে সেখানে জিরা, এলাচসহ কয়েকটি মসলা পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। তাছাড়া ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের তুলনায় আমদানি খরচ বেড়ে গেছে। এসবের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে দামের ওপর।’ 

তবে ব্যবসায়ীদের এ দাবি মানতে নারাজ ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগের সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন। তিনি বলেন, ‘অসাধু ব্যবসায়ীরা সবসময় সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। এখনও কোরবানির ঈদ আসতে প্রায় এক মাস বাকি। এরই মধ্যে তারা মসলার দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। দাম বাড়ার জন্য তারা ডলারের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ ঘাটতির কথা বলছে। এগুলো অযৌক্তিক কথা। কারণ বর্তমানে যেসব মসলা বাজারে আছে, তা কয়েক মাস আগে আমদানি করা। সেসব মসলা তো বর্তমান বাড়তি দামের ডলারে কেনা নয়। তাই ডলারের দামের প্রভাব এসব পণ্যের ওপর এখনই পড়ার কথা নয়। এগুলো তাদের অজুহাত ছাড়া আর কিছু নয়। প্রশাসনের কঠোরতার অভাব ও নিয়মিত বাজার তদারকি না থাকার কারণেই ভোক্তাকে বাড়তি দামে মসলা কিনতে হচ্ছে।’

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাশার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন, ‘প্রতি বছর কোরবানি ঈদকে টার্গেট করে অসাধু ব্যবসায়ীরা মসলা পণ্যের দাম ইচ্ছামতো বাড়িয়ে দেয়। এবারও একই পথে হাঁটছে তারা। এরই মধ্যে কারসাজি করে কেনা দামের তুলনায় কয়েক গুণ বাড়তি দামে এলাচ বিক্রির প্রমাণ পেয়েছি আমরা। বেশ কয়েকজনকে শনাক্ত করে জরিমানাও করা হয়েছে। মসলার বাজার নিয়ে কারসাজিতে কারা জড়িত, সেটি চিহ্নিত করতে বড় পরিসরে শিগগির অভিযান পরিচালনা হবে।’ 

আরও পড়ুন

×