ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

‘উপরের নির্দেশ আছে, পিটাইয়া লম্বা করে দাও’

‘উপরের নির্দেশ আছে, পিটাইয়া লম্বা করে দাও’

উপজেলার চেয়ারম্যান প্রার্থী গোলাম সারওয়ার

 কুমিল্লা প্রতিনিধি 

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৪ | ০৪:২৩ | আপডেট: ১৬ মে ২০২৪ | ১৪:৩৯

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটের মাঠে প্রভাব বিস্তার ও নানাভাবে হুমকির অভিযোগ উঠেছে সদর আসনের এমপি ও নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি আ ক ম বাহাউদ্দিনের বিরুদ্ধে। তাঁর কড়া সমালোচনা করে ওই উপজেলার চেয়ারম্যান প্রার্থী গোলাম সারওয়ার গত মঙ্গলবার রাতে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর বাজারে এক নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য দেন।

সারওয়ারের বক্তব্যের ১০ মিনিট ৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বক্তব্যে এমপি বাহারকে উদ্দেশ করে সারওয়ারকে বলতে শোনা যায়– ‘হুমকি দেবেন, আমরা কি বসে বসে আঙুল চুষব নাকি? উপরের নির্দেশ আছে– পিটাইয়া লম্বা করে দাও।’ 

তিনবারের উপজেলা চেয়ারম্যান সারওয়ার সাবেক অর্থমন্ত্রী ও কুমিল্লা-১০ আসনের এমপি আ হ ম মুস্তফা কামালের ছোট ভাই। তিনি সদর দক্ষিণ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। তাঁর সঙ্গে এবারই প্রথম চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন একই পরিষদে তিনবারের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাবলু। তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও এমপি বাহারের অনুসারী। বাবলুর পক্ষ নিয়ে এরই মধ্যে ভোটের মাঠে এমপি বাহারের বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। 

ভাইরাল হওয়া বক্তব্যে সারওয়ারকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা সবাইকে সম্মান করতে চাই। উনিও (এমপি বাহার) আমার নেতা। উনি খালি বাবলুকে নিয়ে আছেন। উনি বাবলুকে বহিষ্কার করেন নাই? বাবলু ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের বাড়ি দখল করছিল। পরে বাবলুকে বহিষ্কার করছিল। উনি ওর মধ্যে কী মজা পাইছেন, আমি জানি না। এই বাবলুই প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়ে ২০০২ সালের পরে বাহার ভাইয়ের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলার বিষয়ে বিচার দিয়েছিল। এখন সেই বাবলুকে নিয়ে উনি পড়ে আছেন। আমরা এর পিছু ঘুরতে চাই না, ঘুরিও না।’

এমপি বাহারের প্রভাব বিস্তার বিষয়ে সারওয়ার বলেন, ‘তাদের লজ্জা থাকা উচিত। আমরা কোনো এলাকায় যাই না– এটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ। তারা কেন এই এলাকায় এসে এত লাফালাফি করবে? কেন হস্তক্ষেপ করবে? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলছেন, যেন কোনো এমপি কোনো উপজেলায় কাউকে প্রভাবিত না করে, হস্তক্ষেপ না করে। এমপি বাহার কি প্রভাবিত করতেছেন না? কীসের জন্য? কীসের স্বার্থে? আমরা এগুলো বলতে চাই না। কিন্তু আমাদেরকে বলার জন্য বাধ্য করতেছে। সাবধান, আমাদের কিন্তু এখনও রক্ত-মাংস আছে। খালি আপনারাই আমাদের কিছু করবেন, আর আমরা কিছু করতে পারব না– এটা ভুল। যারা তাদের সহযোগিতা করে, আগে তাদের পিটাইয়া লম্বা করেন। একদম সোজা করে পিটান। এটা আমাদের বহু উপরের নির্দেশ। তোমরা পিটাচ্ছ না কেন? হুকুম দেওয়া লাগবে?’ 

সারওয়ার তাঁর নেতাকর্মীর উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা যার যা আছে তা নিয়ে প্রস্তুত হন। সাড়ে তিন হাইত্যা লাঠি, আড়াই হাইত্যা লাঠির চেয়ে বড় কোনো অস্ত্র অইতে পারে না। এডা আরম্ভ করেন; দেখবেন, সব দালালের দালালি বন্ধ হয়ে যাবে। সব সোজা হয়ে যাবে। এই হুমকি দেওয়ার জন্য তারা কি মেশিনগান নিয়ে আসবে? আর পুলিশ প্রশাসন, বিডিআর, র‍্যাব বসে বসে আঙুল চুষবে নাকি? হেই দিন গেছে গা। আমাদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে। এখন আর পিছনে ফেরার কোনো উপায় নেই আমাদের। আব্দুল হাই বাবুলের সাথে কিছু দালাল ঢুকে গেছে। দালালদের কান্দিরপাড় পার করেন। আমাদেরকে বাঁচতে হবে। পুঁটিমাছ মরতে গেলেও দশ লাইল (আইল) ঘুরে মরে। আমরা কি পুঁটিমাছের চেয়ে খারাপ হয়ে গেছি? আমাদেরকে এভাবে হুমকি দেবে, ধামকি দেবে; আমরা কি বসে বসে আঙুল চুষব নাকি?’ 

সদর এলাকা থেকে বহিরাগত প্রবেশের ইঙ্গিত দিয়ে সারওয়ার বলেন, ‘আমরা ২১ তারিখে একটা সুষ্ঠু সুন্দর নির্বাচন দেখতে চাই। আমি প্রশাসনকে বারবার বলছি– যদি এই এলাকায় কোনো বহিরাগত ঢুকে, তাহলে আমিও লালমাই, নাঙ্গলকোট থেকে হাজার হাজার ঢুকাই দিমু এই এলাকায়। তারা সব রেডি থাকবে।’

এদিকে সারওয়ারের এই বক্তব্য ও অভিযোগ প্রসঙ্গে এমপি বাহারের প্রতিক্রিয়া জানা সম্ভব হয়নি। তবে চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুল হাই বাবলু বলেন, ‘তিনবার তিনি (সারওয়ার) চেয়ারম্যান ছিলেন। এলাকায় কোনো উন্নয়ন করেননি। এখন ভোটের মাঠে কোনো জনমত নাই দেখে আমার নেতাকে জড়িয়ে মিথ্যা বক্তব্য দিচ্ছেন। এসব মিথ্যা অভিযোগের বিষয়ে বৃহস্পতিবার বিধি মোতাবেক নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দেব।’ 

এ বিষয়ে গোলাম সারওয়ার বলেন, ‘আমি তো এমপি বাহার ভাইয়ের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলেছি, উনি আমাদের নেতা। কিন্তু তিনি এক বাবলুকে পাস করাতে মাঠে লোকজনকে নির্দেশ দিয়ে প্রভাবিত করছেন। আপনারা মাঠে খবর নেন, এমপি বাহার মাঠে প্রভাব বিস্তার করছেন কিনা। প্রতিদিন সদর আসন এলাকা থেকে যাওয়া বহিরাগতরা ভোটের মাঠে মহড়া দিচ্ছে। এতে ভোটাররা আতঙ্কে আছেন।’ 

আরও পড়ুন

×