ঢাকা শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪

বৃষ্টিতে প্রাণ ফিরছে শ্রীমঙ্গলের চা বাগানে

বৃষ্টিতে প্রাণ ফিরছে শ্রীমঙ্গলের চা বাগানে

বৃষ্টিতে গাছে এসেছে নতুন কুঁড়ি। শ্রীমঙ্গলের ভাড়াউড়া চা বাগান থেকে তোলা ছবি সমকাল

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৪ | ০০:৪১

টানা তাপপ্রবাহের পর বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির স্পর্শে প্রাণ ফিরতে শুরু করেছে শ্রীমঙ্গলের চা বাগানগুলোতে। চা গাছে দেখা মিলছে নতুন কুঁড়ি ও সবুজ পাতার।
চলতি মাসের শুরুর দিকে প্রচণ্ড তাপে ঝলসে গিয়েছিল বাগানের অধিকাংশ চা গাছ। অনেক স্থানে শুরু হয়েছিল লাল রোগের প্রাদুর্ভাব। চা উৎপাদন শুরুর মৌসুমেই শ্রীমঙ্গলসহ মৌলভীবাজার জেলার ৯২টি চা বাগানে কমে যায় চা উৎপাদনের গতি। তবে গত এক সপ্তাহের বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাতে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটতে শুরু করেছে।
প্রায় ৪ মাস আগ থেকেই চা বাগানের সেকশনগুলোতে চা গাছ ছাঁটাই করার কাজ শুরু করেছিল বাগান কর্তৃপক্ষ। ছাঁটাইয়ের কারণে চা বাগানে চলে এসেছিল রুক্ষ শুষ্কভাব। চা বাগানের জন্য সহনীয় তাপমাত্রার সীমা পেরিয়ে গেলে বিপত্তিতে পড়েন বাগান-সংশ্লিষ্টরা। বৃষ্টির অভাবে রুক্ষ বাগানে নতুন পাতার দেখা যাচ্ছিল না খুব একটা। এর মাঝে বিভিন্ন পোকামাকড়ের আক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সামান্য যা কুঁড়ি-পাতা ছিল তাও আক্রান্ত হতে শুরু করে।

শ্রীমঙ্গলে গত ২১ ঘণ্টায় ১৪৩.৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিসুর রহমান। এতে করে কিছুটা সহনীয় হয়ে এসেছে চা বাগানের পরিবেশ। অনেক স্থানেই নতুন পাতা দেখা যাচ্ছে।
ভাড়াউড়া, জেরিন, ফুলছড়া, কালীঘাটসহ বিভিন্ন চা বাগান ঘুরে দেখা যায়, গাছের পর গাছে সবুজের সমারোহ। কচি পাতা নজরে এসেছে গাছগুলোতে। নতুন করে গাছে কুঁড়ি গজানোয় খুশি বাগানের শ্রমিকরা।
ইস্পাহানী জেরিন চা বাগানের উপ-মহাব্যবস্থাপক সেলিম রেজা জানান, বছরের শুরুতে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় চা পাতার উৎপাদন অনেকটা পিছিয়ে পড়েছিল। খরা প্রথম দিকে চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল। তবে এখন কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। শ্রীগোবিন্দপুর চা বাগানের মালিক মহসীন মিয়া জানান, আসন্ন তাপপ্রবাহ আবার কিছুটা চাপে ফেলতে পারে। তবে এই মুহূর্তে বৃষ্টি হওয়ায় পরিস্থিতি অনেকটা ভালো।
বাংলাদেশীয় চা সংসদের (বিসিএস) সিলেট অঞ্চলের চেয়ারম্যান ও ফিনলে চা ভাড়াউড়া ডিভিশনের জিএম গোলাম মোহাম্মদ শিবলি জানান, দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় ও তাপমাত্রা বেশি থাকায় উৎপাদন কমে গিয়েছিল। এই বৃষ্টিপাতের ফলে চা গাছগুলো সজীবতা ফিরে পেয়েছে।

বাংলাদেশ চা বোর্ড প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিটের পরিচালক এ কে এম রফিকুল হক জানান, বৃষ্টিপাত চায়ের জন্য অবশ্যই উপকারী। বিশেষভাবে নতুন চা গাছ যেগুলো আছে তার জন্য বেশি উপকারী। তারপর প্রুনিংকৃত চা গাছগুলো দ্রুত কুঁড়ি ছাড়বে বৃষ্টি হওয়ায়।

আরও পড়ুন

×