ঢাকা বুধবার, ২২ মে ২০২৪

নেই সার্বক্ষণিক চিকিৎসক প্রশিক্ষিত প্যাথলজিস্টও

পিরোজপুরে অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ছড়াছড়ি

নেই সার্বক্ষণিক চিকিৎসক প্রশিক্ষিত প্যাথলজিস্টও

প্রতীকী ছবি

ফসিউল ইসলাম বাচ্চু, পিরোজপুর

প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৪ | ০১:০৪

পিরোজপুরে অবাধে গড়ে উঠেছে ব্যক্তিমালিকানাধীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। অধিকাংশের নেই অনুমতিপত্র। বেশির ভাগ ক্লিনিকে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক থাকেন না। নেই প্রশিক্ষিত সেবিকা ও প্যাথলজিস্ট।

ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে রক্ত, মলমূত্র, কফসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন অদক্ষ কর্মীরা। তাই প্রায়ই এসব পরীক্ষায় বিভ্রান্তিমূলক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সেবা নিতে এসে রোগীরা নানাভাবে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার ঘুরে এ তথ্যচিত্র পাওয়া গেছে।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলার সাত উপজেলায় ক্লিনিক, নার্সিং হোম, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা ১৪৩। এর মধ্যে সদরে ১৫টি বেসরকারি ক্লিনিক এবং ২৫টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। সবচেয়ে বেশি রয়েছে মঠবাড়িয়ায়। এখানে ১৭টি ক্লিনিক ও ৩৪টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। তবে সরকারি এ হিসাবের বাইরে রয়েছে একাধিক ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। নেছারাবাদে সাতটি ক্লিনিক ও ১৬টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ভাণ্ডারিয়ায় পাঁচটি ক্লিনিক ও ৯টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, নাজিরপুরে দুটি ক্লিনিক ও আটটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ইন্দুরকানীতে দুটি ক্লিনিক ও চারটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং কাউখালীতে একটি ক্লিনিক ও দুটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। বেসরকারি হাসপাতালে ১০ শয্যার জন্য সার্জারি ও অ্যানেসথেশিয়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দু’জন, তিনজন আবাসিক চিকিৎসক, ছয়জন ডিপ্লোমা নার্সসহ ক্লিনার ও অন্যান্য কর্মচারী থাকার বাধ্যবাধকতা থাকলেও বেশির ভাগ ক্লিনিকে এসব নিয়মকানুন মানা হয়নি।

সম্প্রতি জেলা হাসপাতালের সামনে নিউ সিটি ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোম ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে দেখা গেছে, ১০ শয্যার ক্লিনিকটিতে আবাসিক চিকিৎসক নেই। কাগজপত্রে ছয়জন নার্স থাকলেও তিনজনের সনদ নেই। হালনাগাদ লাইসেন্স নবায়নও নেই সেন্টারটির। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. শাহরিয়ার জানান, লাইসেন্স নবায়নের জন্য কাগজপত্রসহ চালানের টাকা জমা দেওয়া হয়েছে। অন্য অভিযোগগুলো এড়িয়ে যান তিনি।

জেলা সদরের নিউফেয়ার হেলথ ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারেও আবাসিক চিকিৎসক নেই। ক্লিনিকের মালিক রফিকুল ইসলাম জানান, পাঁচজন নার্স রোগীদের সার্বক্ষণিক সেবা দিচ্ছেন। নিজস্ব সার্জারি বিশেষজ্ঞ ও আবাসিক চিকিৎসক রয়েছেন। প্রয়োজনের সময় কল দিয়ে তাদের আনা হয়। তবে এ ক্লিনিকে ভর্তি ছয় রোগীর সেবায় একজন প্যারামেডিক নার্সসহ দু’জনকে থাকতে দেখা গেছে। 
মঠবাড়িয়ার ১৭টি ক্লিনিক, নার্সিং হোম ও হাসপাতালের মধ্যে মাত্র দুটি ক্লিনিকের বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। বাকি ১৫টির পরিবেশ ছাড়পত্র বা ফায়ার লাইসেন্স নেই। বেশ কয়েকটি ক্লিনিকের লাইসেন্স নবায়ন হয়নি কয়েক বছর। 

স্যানিটারি ইন্সপেক্টর শেখ এহসানুল কবির জানান, ক্লিনিক, নার্সিং হোম, হাসপাতাল আর ডায়াগনস্টিক সেন্টারের হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠানের সঠিক কাগজপত্র দেখা গেছে। বাকিদের কাগজপত্রে ঘাটতি রয়েছে। কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। 
চোখের মতো স্পর্শকাতর অঙ্গের চিকিৎসাসেবা নিয়ে গড়ে ওঠা ক্লিনিক বা চক্ষু হাসপাতালগুলোও চলছে খেয়ালখুশিমতো। সদর রোডের মরিয়ম আই কেয়ার হোমে গিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পাওয়া যায়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী জানান, শুক্রবার জেলার বাইরে থেকে চিকিৎসক এনে অপারেশন করানো হয়। একজন স্যাকমো নিয়মিত রোগী দেখেন। হাসপাতালে ডিপ্লোমাধারী নার্স নেই। প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্সও দুই বছর ধরে নবায়ন নেই।

প্রতিষ্ঠানটির মালিক আরিফুর রহমান বলেন, স্যাকমো রোগী দেখেন না। তিনি অপারেশনের সময় চিকিৎসকের সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। লাইসেন্স নবায়নের জন্য কাগজপত্র তৈরি হচ্ছে। 
ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন শিশির রঞ্জন অধিকারী জানান, কাগজপত্রবিহীন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়েছে। 

আরও পড়ুন

×