ঢাকা শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

চবির ঝর্ণায় ডুবে স্কুলছাত্রের মৃত্যু 

চবির ঝর্ণায় ডুবে স্কুলছাত্রের মৃত্যু 

জুনায়েদ হোসেন রিমন

চবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৪ | ০৬:৩৮ | আপডেট: ১৭ মে ২০২৪ | ০৬:৫৭

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ঝর্ণা থেকে নিখোঁজ হওয়ার ১০ ঘণ্টা পর এক স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত ছাত্রের নাম জুনায়েদ হোসেন রিমন (১৩)। নিহত জুনায়েদ চট্টগ্রাম নগরীর সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র।

বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় কলা অনুষদ ভবনের পিছনে অবস্থিত ঝর্ণা থেকে নিহত স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের সাত সদস্যের ডুবুরি দল। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সূত্রে জানা যায়, জুনায়েদসহ সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেনে করে ১৪ জন বন্ধু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরতে আসে। দুপুর ১২টার দিকে বন্ধুরা মিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের পিছনে অবস্থিত ঝর্ণা এলাকায় ঘুরতে যান। এ সময় বন্ধুরা মিলে ঝর্ণাতে গোসল করতে নামে। প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে সেখানে গোসল করার পর ১৩ জন বন্ধু পাড়ে উঠে আসলেও জুনায়েদ পাড়ে উঠেনি। বিষয়টি অন্যদের নজরে আসলে তারা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। বন্ধুকে খুঁজে না পেয়ে দুপুরের শাটলে তারা শহরে ফিরে জুনায়েদের পরিবারকে বিষয়টি জানায়। 

পরে তার পরিবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এসে প্রশাসনের সহযোগিতায় খোঁজাখুঁজি শুরু করে। সন্ধ্যা ৭ টায় হাটহাজারী ফায়ার সার্ভিস এবং শহরের ডুবুরি দলের সহায়তায় প্রায় ২ ঘণ্টা শ্বাসরুদ্ধর অভিযানের পর রাত ৯টায় জুনায়েদকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. অহিদুল আলম বলেন, শহরের দুটি স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কয়েকজন স্কুল ছাত্র ঘুরতে এসেছিল। বিশ্ববিদ্যালয় ঝর্ণায় গোসল করতে নেমে তাদের মধ্যে একজন ছাত্র নিখোঁজ হয়। বিষয়টি জানতে পেরে ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম ও কয়েকজন ডুবুরি সদস্যের সহায়তায় রাত ৯টায় আমরা সেই স্কুল ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করি এবং তার পরিবারকে হস্তান্তর করি। তার পরিবার জানায় এই বিষয়ে তারা কোন মামলা করবে না।

ফায়ার সার্ভিসের জ্যৈষ্ঠ কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান বলেন, বিভাগীয় কার্যালয় থেকে রাত ৯টার দিকে আমাদের একটি ডুবুরি দল এসে তল্লাশি শুরু করে। বেশি সময় কাজ করতে হয়নি। শুরুতেই মরদেহটি আমরা খুঁজে পাই।

চবির কলা ঝুপড়ির পেছনে অবস্থিত প্রাকৃতিক ঝর্ণাটিতে পড়ে এর আগেও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। আকারে তেমন বড় না হলেও এর সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হন যে কেউ। তবে যেমন সৌন্দর্য, তেমন রয়েছে এর প্রাণ কেড়ে নেওয়ার ক্ষমতা। এই ঝর্ণার পানি পড়ার স্থান বরাবর সৃষ্টি হয়েছে গভীর খাদ। পা পিছলে এই খাদে পড়ে গত ১০ বছরে নিহত হয়েছেন প্রায় সাতজন। 

জানা যায়, ২০১৫ সালে চবির মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রথম বর্ষের দুই ছাত্র মারা যাওয়ার পর এই ঝরনায় বেড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়। ২০২০ সালে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকার সময় এই ঝর্ণার খাদে পড়ে হাটহাজারী সরকারি কলেজের স্নাতক চতুর্থ বর্ষের এক ছাত্রের মৃত্যু হয়। ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও ঝর্ণা দেখতে গিয়ে অসাবধানতা ও সাঁতার না জানাকেই মৃত্যুর কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। 

আরও পড়ুন

×