ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪

সুদের কারবারের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে সংঘর্ষ, মুক্তিযোদ্ধা নিহত

সুদের কারবারের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে সংঘর্ষ, মুক্তিযোদ্ধা নিহত

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২০ | ০৭:৫৮

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে সুদের কারবারের টাকা ভাগবটোয়ারা নিয়ে সংঘর্ষে সাহেব আলী খন্দকার (৬০) নামে এক মুক্তিযোদ্ধা নিহত ও কমপেক্ষ ১৫ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে উপজেলার পশারগাতী ইউনিয়নের কাওয়ালদিয়া গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে৷

নিহত মুক্তিযোদ্ধা সাহেব আলী খন্দকার কওয়ালদিয়া গ্রামের খুররম আলী খন্দকারের ছেলে। আহতদের মধ্যে সাহিদুল শেখ, মোফা শেখ, জসিম মোল্লা, লিয়াকত মোল্লা, পান্নু মোল্লা, বরকত মোল্লা, নওশের শেখ, আব্দুল মালেক শেখ, জাফিম মোল্লা ও সুজন শেখকে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন।

পশারগাতী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু রাসেল শিমুল জানান, ওই গ্রামের তৈয়ব আলী মুন্সী ২৫ হাজার টাকা একই গ্রামের জালাল মোল্লার কাছে সুদে লগ্নি করেন। এছাড়া জালাল এলাকার আরো বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে সুদে টাকা নিয়েছেন। বর্তমানে টাকা পরিশোধ করতে জালালকে পাওনাদাররা চাপ প্রায়োগ করতে থাকে। এ নিয়ে সুদের কারবারীরা সালিশ বৈঠক বসায় । পরবর্তীতে জালালের বোন ১ লাখ টাকা পাওনাদারদের ভাগ করে দেয়ার জন্য গ্রামের মাতবরদের হাতে তুলে দেন। পরে জালালের পাওনাদারদের ১ লাখ টাকা ভাগ করে দেয়ার দায়িত্ব দেয়া হয় মুক্তিযোদ্ধা সাহেব আলী খন্দকারের ওপর। সাহেব আলী খন্দকার টাকা পাওনাদারদের ভাগ করে দেন। শুক্রবার সকালে পাওনাদার তৈয়ব আলী মুন্সী কম টাকা পেয়েছেন অভিযোগ এনে জালালের কাছে আরো টাকা দাবি করেন। এ নিয়ে ওই গ্রামের দু’পাড়ার লোকজন সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় মুক্তিযোদ্ধা সাহেব আলী খন্দকারসহ অনেকে আহত হন। তাদের  মুকসুদপুর উপজেলা স্বস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাহেব আলী মারা যান।

মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মোমিন-উল হাবিব বলেন, সংঘর্ষের ১১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। এদের মধ্যে সাহেব আলী মারা গেছেন। তার শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন নেই। মৃত্যুর কারণ এখনই বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। অন্যরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

মুকসুদপুর থানার ওসি মীর্জা আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে সুদের কারবারের টাকা নিয়ে সালিশ মীমাংসা করা হয়। সম্ভবত এ মীমাংসা প্রত্যাখ্যান করে আরো টাকা দাবি করাকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী মুক্তিযোদ্ধার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর তার মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ ব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

আরও পড়ুন

×