ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪

বিষ দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হলো কৃষকের জমির ধান

বিষ দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হলো কৃষকের জমির ধান

পুরে যাওয়া ধানক্ষেতের পাশে বেনজির হোসেন সেলিম -সমকাল

শেরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২০ | ০৯:৩৮

শেরপুর সদর উপজেলার চরশেরপুর ইউনিয়নে ধোবাঘাট গ্রামে বেনজির হোসেন সেলিম (৫৬) নামে এক কৃষকের ৭০ শতক জমির ধান বিষাক্ত কীটনাশক স্প্রে করে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ওই কৃষক তার সহোদর পাঁচ ভাইয়ের নামে আদালতে মামলা করেছেন। বুধবার আদালত মামলা গ্রহণ করে পিবিআইকে ঘটনা তদন্তে নির্দেশ দিয়েছেন।

ধোবাঘাট গ্রামের মো. শরাফত আলীর মেজো ছেলে সেলিমের সঙ্গে আবাদী জমি নিয়ে তার বাবা ও সহোদর ভাইদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। ওই বিরোধের জেরে সেলিমের দখলে থাকা ৭০ শতক জমির ধান গতবছর এবং চলতি আমন মৌসুমে বিষাক্ত কীটনাশক স্প্রে করে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। বিষ প্রয়োগের ফলে পুরো জমির ধান পুড়ে সাদা হয়ে গেছে।

বাদী সেলিমের অভিযোগ- তিনি দরিদ্র মানুষ। দুই ছেলে জেলার বাইরে থাকে। এ সুযোগে বাবা ও ভাইয়েরা মিলে তার ওপর নির্যাতন করছে। পর পর দু' বছর তার ৭০ শতক জমির ধান পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ছেলে- মেয়েদের মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। যখন তখন ভাইয়েরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের মারতে আসে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, শুক্রবার ভোর ছয়টার দিকে সেলিমের আমন ধানের জমিতে তার ছোট ভাই শারাফী, আবু হুরাইরা, আল কাফী, সারোয়ার জাহান পাঠান ও সাকলাইন হামলা করে। এসময় বিষাক্ত স্প্রে দিয়ে জমির সমস্ত ধান পুড়িয়ে দেয়। তিনি বাধা দিলে তাকে পাঁচভাই মিলে মারধর করে। একপর্যায়ে ডাক-চিৎকার শুনে তার স্ত্রী তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করে। এসময় তারা ঘোষণা দেয় মামলা করলে কিংবা থানায় জানালে তাদের খুন করে ফেলবে। অবশেষে বুধবার তারা আদালতের কাছে অভিযোগ করে। 

এ ব্যাপারে কৃষক সেলিমের বাবা মো. শরাফত আলী ও আসামি পাঁচ ভাই বলেন, পৈত্রিক সম্পত্তি যথাযথ ভাগ করে সেলিমকে দেওয়া হয়েছে। সে জমি বিক্রি করে জোর করে ভাইদের জমি দখলে নিয়ে চাষাবাদ করছে সেলিম। জমিতে বিষ দেওয়ার বিষয়ে সেলিমের অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট উল্লেখ করে তারা বলেন, এ ব্যাপারে আমরা কিছুই জানি না।

শেরপুর সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা পিকন কুমার সাহা বলেন- ইতোপূর্বেও এ জমিতে বিষ দিয়ে ধান পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।

চরশেরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন সুরুজ বলেন- তিনি তিনবার দু'পক্ষকে নিয়ে সালিস করে বিবাদ মিটিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু কয়েকমাস পরেই কেউ কাউকে মানতে চায় না।

জামালপুর পিবিআইয়ের পরিদর্শক হারুনর রশিদ বলেন, এ ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না। তিনি বলেন- অভিযোগটি আদালত থেকে আসার পর এসপি স্যার তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দিলে কাজ শুরু করবে পিবিআই।

আরও পড়ুন

×