ঢাকা সোমবার, ২০ মে ২০২৪

চসিক নির্বাচন

কাউন্সিলরদের প্রচারে 'ভাগ' রেজাউল-শাহাদাতের

কাউন্সিলরদের প্রচারে 'ভাগ' রেজাউল-শাহাদাতের

শুক্রবার নগরীর জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদের সামনে গণসংযোগ করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী (বাঁয়ে); চকবাজার এলাকায় প্রচার চালান বিএনপির প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন মো. রাশেদ

শৈবাল আচার্য্য, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২১ | ১২:০০ | আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০২১ | ১২:৫৯

চট্টগ্রাম সিটির ভোটের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে প্রচার ও গণসংযোগ। করোনাভাইরাসকে উপেক্ষা করে নেতাকর্মীদের নিয়ে দিনভর ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রচারে প্রায় প্রতিদিনই ভাগ বসাচ্ছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী ও বিএনপির ডা. শাহাদাত হোসেন। চট্টগ্রাম নগরের ৪১টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে সংশ্নিষ্ট কাউন্সিলর প্রার্থীদের সঙ্গে নিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন নৌকা ও ধানের শীষের এই দুই কাণ্ডারি।
কাউন্সিলরদের প্রচারে ভাগ বসানোর পাশাপাশি এই দুই প্রার্থী জায়গা করে নিচ্ছেন কাউন্সিলরদের পোস্টারের সারিতেও। প্রতিটি ওয়ার্ডে লাগানো কাউন্সিলরদের পোস্টারের বেশিরভাগ স্থানজুড়ে রাখা হচ্ছে নিজ নিজ দলের মেয়র প্রার্থীর পোস্টার। কাউন্সিলররা এলাকায় সুপরিচিত হওয়ায় তাদের নিয়েই ভোটারদের সমর্থন চাচ্ছেন দুই মেয়র প্রার্থী। দু'দলের কাউন্সিলর প্রার্থীরা মাইকিংয়ে নিজেদের প্রতীকের পাশাপাশি তাদের দলের মেয়র প্রার্থীর পক্ষেও চালাচ্ছেন প্রচার; চাইছেন ভোটও। এভাবেই বন্দরনগরী চট্টগ্রামের ৪১টি ওয়ার্ড চষে বেড়াচ্ছেন রেজাউল ও শাহাদাত।
রেজাউল ও শাহাদাত বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে দিনভর গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। গত কয়েক দিনে রেজাউল করিম চৌধুরী ও ডা. শাহাদাত হোসেন নগরের আগ্রাবাদ ২৪নং ওয়ার্ডে, ২৫নং রামপুর, কাট্টলী, হালিশহর, ২৭নং দক্ষিণ আগ্রাবাদ, বহদার বাড়ি জামে মসজিদ, শাহ আমানত মাজার, দক্ষিণ পাহাড়তলী, জালালাবাদ, পাঁচলাইশ, হযরত বদর আউলিয়ার মাজার, বক্সিরহাট, চেরাগি পাহাড়, পাথরঘাটা, ফিরিঙ্গীবাজার, কোতোয়ালি মোড়, লালদীঘি, আন্দরকিল্লা, নতুন ফিশারি ঘাট, মিউনিসিপাল মডেল স্কুল, ঈদগাঁ মোড়, অক্সিজেন মোড়, নয়াহাট, পাঠানপুর, এনায়েত বাজার, মৌলভীপাড়া, চৌমুহনী

বাজার, হাজিপাড়া, পানওয়ালাপাড়া, আসকারাবাদ, মিয়াবাড়ী, মোল্লাপাড়া, মুহুরীপাড়াসহ আরও বেশকিছু এলাকায় গণসংযোগ করেন। এসব এলাকায় গিয়ে দলের মনোনীত পুরুষ ও নারী কাউন্সিলর প্রার্থীদের সঙ্গে নিয়ে প্রচার চালাতে দেখা যায় রেজাউল করিম ও ডা. শাহাদাত হোসেনকে।
সরেজমিন নগরের বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এলাকার কাউন্সিলর প্রার্থীরা অলিগলিতে পর্যাপ্ত সংখ্যক নির্বাচনী পোস্টার লাগিয়েছেন। এক একটি সারিতে কাউন্সিলর প্রার্থীরা প্রথমে নিজের একটি কিংবা দুটি পোস্টার লাগিয়ে পরেরগুলোতে সেঁটেছেন নিজ দলের মনোনীত মেয়র প্রার্থীর পোস্টার।
এলাকায় ছোট-বড় মতবিনিময় সভা, পথসভা কিংবা সেমিনারেও কাউন্সিলরদের কার্যক্রমে ভাগ বসাচ্ছেন দলীয় মেয়র প্রার্থীরা। মেয়র প্রার্থীরা দলীয় প্রতীক পেলেও কাউন্সিলর প্রার্থীরা পেয়েছেন ভিন্ন প্রতীক।
এ প্রসঙ্গে রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, 'আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার শুরুর প্রথম দিন থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশে গণসংযোগ করছি। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরছি। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী নৌকা প্রতীক দিয়ে আমাকে প্রার্থী করেছেন। সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডে দল থেকে কাউন্সিলর প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। দলের মনোনীত প্রার্থী ও প্রতীকের প্রতি সব ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীদের আলাদা একটি আবেদন কাজ করে। যে কারণে কাউন্সিলররা চান দলীয় প্রার্থীকে নিয়ে ভোটারদের কাছে যেতে। এ কারণে অনেক প্রার্থী নিজেদের পোস্টারের সঙ্গে দলীয় মেয়র প্রার্থীর পোস্টারও রেখেছেন।'
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, 'দলের মনোনীত মেয়র প্রার্থীকে নিয়ে কাউন্সিলর প্রার্থীরা প্রচার চালাতে চান। তাদের এমন আবদারকে সাধুবাদ জানিয়ে দলীয় কাউন্সিলর প্রার্থীদের সঙ্গে নিয়ে ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে যাচ্ছি। এলাকার পরিচিত কাউন্সিলর প্রার্থীর সঙ্গে মেয়র প্রার্থীকেও পেয়ে খুশি হন ভোটাররাও।'
আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থী পুলক খাস্তগীর বলেন, 'দল থেকে মনোনয়ন পেয়ে প্রার্থী হয়েছি। দলীয় মেয়র প্রার্থীর প্রতি আমাদের আবদার ও চাওয়া অনেক বেশি। তাই নিজেদের পোস্টারের পাশাপাশি নৌকার প্রার্থীর পোস্টার লাগাচ্ছি। মেয়র প্রার্থীকে নিয়ে চালাচ্ছি প্রচারণাও।' বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থী ইসমাইল বালি বলেন, 'ওয়ার্ডে এসে আমাকে নিয়ে দলের মনোনীত মেয়র প্রার্থী পথসভাসহ গণসংযোগ করেছেন। দলের মনোনীত কাউন্সিলর ও মেয়র প্রার্থীকে একসঙ্গে পেয়ে ভোটাররাও খুশি।' ইভিএমের মাধ্যমে ২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সিটির ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে মেয়র পদে সাতজন এবং ৪১টি সাধারণ ওয়ার্ডে ১৭২ জন ও ১৪টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৫৭ জন কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
বিরামহীন প্রচারে রেজাউল-শাহাদাত :
আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার শুরুর অষ্টম দিনে গতকাল শুক্রবারও সকাল থেকে মতবিনিময় সভা ও গণসংযোগ করে বিরামহীন প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করেন দুই মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম ও ডা. শাহাদাত। সকালে প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে মতবিনিময় সভার মাধ্যমে দিনের প্রচার শুরু করেন রেজাউল করিম। এতে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন। পরে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে নগরের বহদ্দারহাট ও চান্দগাঁও এলাকায় গণসংযোগ চালান তিনি। দুপুরে নগরের জমিয়তুল ফালাহ মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করে আবারও প্রচার শুরু করেন রেজাউল করিম। বিকেলে নগরের পূর্ব ও পশ্চিম বাকলিয়া এবং সন্ধ্যায় দক্ষিণ বাকলিয়া ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন তিনি। এ সময় নানা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন রেজাউল করিম।
অন্যদিকে নগরের পশ্চিম, দক্ষিণ ও পূর্ব বাকলিয়া ওয়ার্ডে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ধানের শীষে ভোট চেয়ে গণসংযোগ করেন ডা. শাহাদাত। এ সময় তিনি মেয়র নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়নে জনগণ ও সরকারি সব সংস্থাকে নিয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। দুই মেয়র প্রার্থীর মতো দিনভর প্রচারে সরব ছিলেন ১৭২ পুরুষ ও ৫৭ জন নারী কাউন্সিলর প্রার্থী।


আরও পড়ুন

×