ঢাকা শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

কাজীরহাট ঘাটে ঢাকামুখী মানুষের ভিড়, ভাড়া বেশি নেওয়ার অভিযোগ

কাজীরহাট ঘাটে ঢাকামুখী মানুষের ভিড়, ভাড়া বেশি নেওয়ার অভিযোগ

এবিএম ফজলুর রহমান, নগরবাড়ী থেকে ফিরে

প্রকাশ: ২১ মে ২০২১ | ০৭:৪০

ঈদের ছুটি শেষে কর্মজীবী মানুষের ঢাকামুখী ঢল এখনও অব্যাহত আছে। এরমধ্যে শুক্রবার ঈদের পর ছুটির শেষ দিন হওয়ায় কাজীরহাট ফেরিঘাটে যাত্রীদের ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে। কাজীরহাট-আরিচা নৌপথে চলাচলকারী চারটি ফেরির মধ্যে একটি বন্ধ করে দেওয়ায় প্রতিটি ফেরিতে যাত্রীদের যেন পা রাখারও জায়গা হচ্ছে না।

শুক্রবার সকালে পাবনার বেড়া উপজেলার কাজীরহাট ফেরিঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ছুটি শেষে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার মানুষ ঢাকা ছুটছে। দূরপাল্লার গণপরিবহন বন্ধ থাকায় বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে তারা কাজীরহাট ঘাটে এসে নামছেন। ফেরি স্বল্পতা থাকায় এসব যাত্রী ঘণ্টার পর ঘণ্টা তীব্র রোদ ও গরম উপেক্ষা করে ঘাটে অপেক্ষা করছেন। আরিচা থেকে কাজীরহাটে ফেরি এসে ভেড়া মাত্রই যাত্রীরা তাতে হুড়মুড়িয়ে উঠছেন। এভাবে উঠতে গিয়ে দুর্ঘটনায় আহত হচ্ছেন অনেকে। অনেকে আবার তীব্র গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। গাদাগাদি করে ফেরিতে ওঠার ফলে ন্যুনতম স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা করছেন না কেউ।

ফেরিতে ওঠার আগে টিকিট সংগ্রহ করতে হচ্ছে। নদী পারাপারে  টিকিটমূল্য ২৫ টাকা হলেও যাত্রীর কাছ থেকে ৩৫ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, এই নৌপথে প্রতিদিন চারটি করে ফেরি যাওয়া-আসা করত। কিন্তু গত মঙ্গলবার থেকে একটি ফেরি নষ্ট। মেরামতের জন্য ফেরিটি কারখানায় পাঠানো হয়েছে। ফলে তিনটি ফেরি দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।

রাশেদ হাসান নামে এক শিক্ষার্থী ঈদের ছুটি কাটিয়ে নাটোর থেকে শুক্রবার সকালে ঢাকার উদ্দেশে রওনা করেন। ফেরিঘাটে পৌঁছার পর ইজারাদারদের মনোনীত প্রতিনিধিদের বাধার মুখে পড়েন তিনি। তার কাছ থেকে ফেরিতে নদী পারাপারের টিকিটের জন্য ৩৫ টাকা আদায় করা হয়।

রাশেদ আক্ষেপ করে বলেন, নাটোর থেকে কখনও বাসে আবার কখনও সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ভেঙে ভেঙে ঘাট পর্যন্ত এসেছি। প্রতিটি যানবাহনেই বেশি ভাড়া দিতে হয়েছে। ভেবেছিলাম সরকারি ফেরিতে আসল ভাড়ায় পার হওয়া যাবে। কিন্তু এখানেও ভাড়া বেশি নিল।

স্কুলশিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঈদের আগে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ঢাকা যাওয়ার জন্য এসেছি। এমনিতেই ফেরি কম থাকায় দেড় ঘণ্টা তীব্র রোদের মধ্যে বসে থাকতে হয়েছে। এর ওপর ওরা ভাড়াও বেশি নিল।

তিনি আরও বলেন, টিকিটের মূল্য ১০০ টাকা দাবি করলেও আমাদের দিতে হবে, উপায় তো আর নেই। ফেরির সংখ্যা বাড়িয়ে আমাদের কষ্ট না দিয়ে যদি বেশি ভাড়া নিত, তবু না হয় সহ্য হত।

ঘাট এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যানের যোগসাজশেই টিকিটের মুল্যের চেয়ে কায়দা করে দশ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। এতে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা অবৈধ ইনকাম করে তারা ভাগবাটোয়ারা করে নিচ্ছেন।

এ ব্যাপারে রূপপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হাসেম উজ্জ্বল বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে আমিও শুনেছি। তবে নিষেধ করা হয়েছে, মনে হয় আর নিচ্ছে না।

এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিসি ফেরি সার্ভিসের টিকিট বিক্রির দায়িত্বে থাকা প্রতিনিধি পল্লব হোসেন দাবি করেন, ভাড়া এক টাকাও বেশি নেওয়া হচ্ছে না। ঘাটে ১২ জন টিকিট বিক্রেতা রয়েছেন এবং তারা সরকার নির্ধারিত ২৫ টাকা করেই আদায় করছেন।

নগরবাড়ী নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জাহাঙ্গীর হোসেন খান বলেন, বেশি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ আমাদের কাছেও এসেছে। অভিযোগ পেয়েই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়েছি। এছাড়া নিরাপদ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রীরা যাতে ফেরিতে উঠতে ও নামতে পারে, সে ব্যাপারে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক জিল্লুর রহমান বলেন, মঙ্গলবারের আগ পর্যন্ত আমাদের চারটি ফেরি পালা করে কাজীরহাট-আরিচা নৌপথে চলত। কিন্তু যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে একটি ফেরি ডকে পাঠানোয় এখন তিনটি চলছে। এ কারণে চাপ বেড়েছে। মেরামতের জন্য পাঠানো ফেরিটি না আসা পর্যন্ত আর কোনো উপায় নেই। এছাড়া ভাড়া বেশি নেওয়ার ব্যাপারে বিচ্ছিন্ন কিছু অভিযোগ পেয়ে আমরা তাদের (ইজারাদার) নিষেধ করে দিয়েছি।

আরও পড়ুন

×