ঢাকা শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪

'জামায়াত-হেফাজতের প্রতি নমনীয়তা সরকারের জন্য আত্মঘাতী হবে'

'জামায়াত-হেফাজতের প্রতি নমনীয়তা সরকারের জন্য আত্মঘাতী হবে'

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২১ | ০৯:৩৪ | আপডেট: ২৬ জুলাই ২০২১ | ১১:০৭

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি লেখক ও সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির বলেছেন, 'জামায়াত-হেফাজতের প্রতি যে কোনো ধরনের নমনীয়তা সরকারের জন্য আত্মঘাতী হবে। সংগঠন দুটির ধর্মের নামে সন্ত্রাসের রাজনীতি অব্যাহত থাকলে অন্তিমে বাংলাদেশ জঙ্গিদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হবে।'

সোমবার বিকেল ৩টায় চট্টগ্রামের শহীদদের স্মরণে নির্মূল কমিটি চট্টগ্রাম শাখার উদ্যোগে 'জঙ্গি মৌলবাদ প্রতিরোধে সরকার ও নাগরিক সমাজের দায়িত্ব' শীর্ষক এক ওয়েবিনারের আয়োজন করা হয়। এ ওয়েবিনারে তিনি এ কথা বলেন।

চট্টগ্রামে ১৯৯৪ সালের ২৬ জুলাই যুদ্ধাপরাধী জামায়াত প্রধান গোলাম আযমের চট্টগ্রাম আগমন ও ঘোষিত জনসভার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে জামায়াত-শিবিরের ঘাতকদের গুলিতে ছাত্রলীগ ও নির্মূল কমিটির পাঁচ শহীদ হন। তাদের স্মরণে এ ওয়েবিনারের আয়োজন করে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। 

নির্মূল কমিটির চট্টগ্রাম বিভাগের সমন্বয়কারী ও কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক শওকত বাঙালির সভাপতিত্বে অনলাইন আলোচনা সভার প্রধান বক্তা ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি লেখক ও সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির।

আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন কমিটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক পরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর হান্নানা বেগম, গোলম আজম প্রতিরোধ আন্দোলন চলাকালীন ছাত্রলীগের চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, নির্মূল কমিটি চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার, ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর, নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া, ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ, ডা. মামুন আল মাহতাব, চট্টগ্রাম জেলার কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক অলিদ চৌধুরী, জেলার মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা রুবা আহসান প্রমুখ।

শাহরিয়ার কবির বলেন, 'জামায়াতে ইসলামীর ঘাতকরা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ইসলামের দোহাই দিয়ে যাদের হত্যা করেছিল তাদের অধিকাংশই ছিল তরুণ মুক্তিকামী বাঙালি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের সংবিধানে জামায়াতে ইসলামীসহ ধর্মীয় সব রাজনৈতিক সংগঠন নিষিদ্ধ করেছিলেন। যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতা গোলাম আযমের নাগরিকত্ব বঙ্গবন্ধু বাতিল করেছিলেন। ১৯৭৫-এ বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জেনারেল জিয়াউর রহমান পাকিস্তানের নীলনকশা অনুযায়ী সংবিধান থেকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনা মুছে ফেলে ধর্মের নামে হত্যা ও সন্ত্রাসের রাজনীতি চালু করেছেন। তার যোগ্য সহধর্মিনী খালেদা জিয়া গোলাম আযমকে নাগরিকত্ব প্রদানের পাশাপাশি জামায়াতের যুদ্ধাপরাধী নেতাদের মন্ত্রী বানিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদের আত্মদানের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।'

আরও পড়ুন

×