ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

সিআরবি রক্ষায় ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের বিবৃতি

সিআরবি রক্ষায় ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের বিবৃতি

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২১ | ০৮:০০

সিআরবিতে রেলওয়ের হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পের বিরোধিতা করে বিবৃতি দিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি। বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ জনগণের সরকার। মানুষের মনে আঘাত দিয়ে কোনো কিছু বাস্তবায়ন করা গণতান্ত্রিক সরকারের লক্ষ্য নয়। প্রধানমন্ত্রী জনগণের আবেগ, অনুভূতি বোঝেন। তাই রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে চট্টগ্রামের মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

শুক্রবার দেওয়া এ বিবৃতিতে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ আরও বলেন, প্রয়োজনে চট্টগ্রামের নেতাদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলব। আশা করি, প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামবাসীর আবেগ-অনুভূতির সঙ্গে একমত হবেন। বিবৃতিতে তিনি সিআরবি রক্ষায় আন্দোলনকারী সবার প্রতি সমর্থন ও একাত্মতা ঘোষণা করেন।

এর আগের দিন বৃহস্পতিবার সিআরবি রক্ষায় চার মন্ত্রীসহ আটজনের কাছে চট্টগ্রামবাসীর পক্ষে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামবাসীর পক্ষে পাঁচজন বিশিষ্ট নাগরিক সিআরবি রক্ষায় আবেদন জানিয়ে ডাকযোগে এই চিঠি পাঠান।

এদিকে সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণের বিরোধিতায় গড়ে ওঠা আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবারও সাতরাস্তার মোড়ে সিআরবি রক্ষা মঞ্চের ব্যানারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এছাড়া আরও কয়েকটি সংগঠন পৃথকভাবে প্রতিবাদ সমাবেশের কর্মসূচি পালন করে।

বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা মোশাররফ হোসেন বলেন, সিআরবি হচ্ছে চট্টগ্রামের ফুসফুস। অপূর্ব নৈসর্গিক এই এলাকায় কোনো হাসপাতাল কিংবা অন্য কোনো বাণিজ্যিক স্থাপনা হোক তা কোনো অবস্থাতেই বিবেকসম্পন্ন মানুষ মেনে নিতে পারে না। এটা হলে পুরো সিআরবি তার আপন সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলবে।

তিনি বলেন, ইট-পাথরের শহর চট্টগ্রামে সিআরবি ছাড়া কোথাও কোনো দ্বিতীয় উন্মুক্ত স্থান নেই, যে যেখানে কর্মব্যস্ততার মধ্যেও মানুষ একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে। পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরে বেড়াবে। তাছাড়া হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তাবিত স্থানেই রয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের প্রথম নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আবদুর রবের কবর। মুক্তিযুদ্ধের সময় এ সিআরবিতে অনেকেই শহীদ হয়েছেন। ফলে সিআরবি হিল মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এলাকা হিসেবেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তাই এখানে হাসপাতাল হতে পারে না।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে অনন্যা আবাসিক এলাকায় এবং ফয়'স লেকে এভারকেয়ার ও ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল নামে বিশ্বমানের পৃথক দুটি হাসপাতাল গড়ে উঠেছে। চট্টগ্রামের মানুষ এ দুটি প্রতিষ্ঠানকে স্বাগত জানিয়েছে। এ রকম অনেক জায়গা রয়েছে যেখানে আলোচ্য হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করা যায়।

আরও পড়ুন

×