ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪

কে এই আবদুর রহিম

কে এই আবদুর রহিম

বৃহস্পতিবার উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক অবস্থান- সমকাল

সাহাদাত হোসেন পরশ, ঢাকা, আবু তাহের কক্সবাজার ও আবদুর রহমান, টেকনাফ

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ১২:০০ | আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ১৩:৫৬

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যাওয়া ও তাদের মানবাধিকার নিয়ে দেশে-বিদেশে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর ছিলেন মুহিবুল্লাহ। সাধারণ রোহিঙ্গাদের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয়। ক্লিন ইমেজের কারণে তাকে সবাই মনেপ্রাণে ভালোবাসতেন। চালচলনেও ছিলেন অত্যন্ত সাদামাটা। মিয়ানমারে বসবাসের সময় তিনি সেখানকার একটি স্কুলে শিক্ষকতা করায় রোহিঙ্গারা তাকে 'মাস্টার' বলে সম্বোধন করতেন। ক্যাম্পের বাসিন্দাদের যে কোনো বিপদে-আপদে ছুটে যেতেন তিনি। শিক্ষায় অনগ্রসর রোহিঙ্গাদের কাছে 'মাস্টার মুহিবুল্লাহ' ছিলেন সত্যিকারের আদর্শ। অনেকে তাদের 'মুক্তির দূত' হিসেবে বিবেচনা করতেন। নির্লোভ ও পরোপকারী মুহিবুল্লাহ শেষ পর্যন্ত টার্গেট কিলিংয়ের শিকার হলেন। এখন প্রশ্ন উঠেছে, কেন কারা তাকে হত্যা করল? তাকে সরিয়ে দিয়ে খুনিরা কার স্বার্থ হাসিল করেছে? মুহিবুল্লাহর স্বজন ও কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ওপর নজর রাখে- আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, চাঞ্চল্যকর এই খুনের নেপথ্যে মূল ভূমিকা পালন করেছেন আবদুর রহিম নামের এক রোহিঙ্গা। সরাসরিও হত্যা মিশনে
ছিলেন তিনি। পেছন থেকে মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন আবদুল্লাহ ও হাসেম নামের আরও দুই রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী। রহিম রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর একজন নেতা। তার সন্ত্রাসী সংগঠন রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের প্রত্যাবাসনবিরোধী। এ লক্ষ্যে তারা ক্যাম্পে নানা ভয়-ভীতি ও প্রচারও চালায়। এ ছাড়া তারা বিভিন্ন ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের জিম্মি করে দীর্ঘদিন ধরেই অপহরণ, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। তৃতীয় কোনো পক্ষের হয়ে মুহিবুল্লাহকে খুন করা হয়েছে কিনা, তাও গুরুত্বসহকারে অনুসন্ধান করছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। খুনিদের অন্যতম লক্ষ্য ছিল রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবসনের প্রধান কণ্ঠস্বরকে সরিয়ে দেওয়া- এমন ধারণা করছেন সংশ্নিষ্টরা। এর পক্ষে এরই মধ্যে নানা ধরনের তথ্য-উপাত্ত মিলছে।
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং ১ নম্বর (পূর্ব) ক্যাম্পের ডি ব্লকে ছোট একটি ঝুপড়ি ঘরে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ। এই বসতঘরের সামনে অন্য একটি ঘর রয়েছে। এটিকে ব্যবহার করতেন অফিস হিসেবে। 'আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস'-এর অফিস এটি। এই সংগঠনের চেয়ারম্যান ছিলেন মুহিবুল্লাহ। অফিসঘরে বসেই প্রয়োজনীয় কাজ করতেন তিনি। সংগঠনের সভা-মিটিং করতেন। প্রতিদিন রাতে রোহিঙ্গাদের নিয়ে আড্ডাও দিতেন। বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এশার নামাজ শেষ করে অফিসে এসে বসেন মুহিবুল্লাহ। সঙ্গে ছিলেন আরও সাত থেকে আটজন। তাদের উদ্দেশ করে মুহিবুল্লাহ বলছিলেন, 'পরিস্থিতি শিগগির অনুকূলে আসবে। মিয়ানমারের সঙ্গে কয়েকটি দেশের আলোচনা হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে তারা রাজি হয়েছে। আমাদের বাড়িঘরে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে।' মুহিবুল্লাহ কথা শেষ করার আগেই ঘরে প্রবেশ করে ১০-১২ জন মুখোশ পরিহিত সশস্ত্র ব্যক্তি। ঘরের বাইরে ছিল আরও ৮-১০ জন। তাদের প্রত্যেকের হাতে ছিল অত্যাধুনিক অস্ত্র। একজন পিস্তল উঁচিয়ে কিছুটা এগিয়ে আসে। এরপর সোজা মুহিবুল্লাহকে লক্ষ্য করে পরপর পাঁচ রাউন্ড গুলি করে। মুহিবুল্লাহ চেয়ার থেকে গড়িয়ে পড়েন মাটিতে। এরপর হামলাকারীরা পশ্চিম দিকে পাহাড়ি পথে চলে যায়। এভাবেই হত্যাকাণ্ডের বিবরণ দিয়েছেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত নুরুল আমিন (৪৫)। তিনি সম্পর্কে মুহিবুল্লাহর চাচাতো ভাই। তিনি বলেন, 'সন্ত্রাসীরা চলে যাওয়ার সময় একজন আমার মুখে সজোরে ঘুসি মারে। তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর আমরা পুলিশ ডেকে নিয়ে আসি। তাদের সহযোগিতায় গুলিবিদ্ধ মুহিবুল্লাহকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। কিন্তু ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।' নুরুল আমিন জানান, মুহিবুল্লাহর শরীরে চারটি গুলির চিহ্ন দেখা গেছে। এর মধ্যে দুটি গুলি লেগেছে পেটে, একটি বুকে এবং অন্য একটি গুলি ডান বাহু দিয়ে বের হয়ে গেছে।
মুহিবুল্লাহকে হত্যার ঘটনায় অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরসহ বিভিন্ন সংগঠন উদ্বেগ জানিয়েছে। তারা এই হত্যার দ্রুত তদন্ত ও বিচার চেয়েছে।
এদিকে, এমন সময় সন্ত্রাসীরা মুহিবুল্লাহকে টার্গেট করে হত্যা করল, যখন পুলিশ মহাপরিদর্শকসহ বাহিনীর আরও একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা সরকারি কাজে কক্সবাজার সফরে রয়েছেন।
আলোচনায় সন্ত্রাসী সংগঠন :কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘিরে পাঁচ বছরের বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত এমন দু'জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছোট-বড় একাধিক রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী সংগঠন কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘিরে তৎপরতা চালিয়ে আসছে। সাধারণ রোহিঙ্গারা এসব সন্ত্রাসী সংগঠনের কার্যক্রম পুরোপুরি অপছন্দ করেন। মাঠ পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তার ভাষ্য, ক্যাম্পের এসব সন্ত্রাসী সংগঠনের কেউ কেউ গোপনে মিয়ানমারের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে। নিজ দেশ মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের আবার জন্মভিটায় ফেরত যাওয়ার বিরুদ্ধে প্রচার চালায় তারা। রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প জীবনকে তারা পুঁজি করে বাণিজ্য চালায়। আবার ইয়াবার রমরমা কারবারও সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে। এসব কর্মকাণ্ডে আদতে লাভবান হচ্ছে মিয়ানমার।
'জেনোসাইড ডে' পালনের বাধা কোথায়? :কক্সবাজারে দায়িত্বরত একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, কক্সবাজারের ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা প্রতি বছর ২৫ আগস্টকে 'জেনোসাইড ডে' হিসেবে পালন করতে চায়। ২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গাদের বিশাল এক সমাবেশ করেন মুহিবুল্লাহ। কয়েক লাখ রোহিঙ্গার উপস্থিতিতে প্রত্যাবাসনের পক্ষে কথা বলেন তিনি। এরপরও নানা সময় রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করতেন তিনি। তবে গত দুই বছর ২৫ আগস্ট ঘিরে রোহিঙ্গারা কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারেনি। তবে অনেকের যুক্তি- রোহিঙ্গারা অন্তত একটি দিনে স্বল্প সময়ের জন্য কথা বলার সুযোগ পেলে তারা বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আরও আকর্ষণ করতে পারতেন। তবে ২০১৯ সালের কর্মসূচির পর কেউ কেউ মনে করেছে, হয়তো রোহিঙ্গারা তাদের শক্তি প্রদর্শন করেছে? যদিও মাঠ পর্যায়ের কেউ কেউ মনে করেন, এটা ছিল সাধারণ রোহিঙ্গাদের স্বতঃফূর্ত কর্মসূচি। তবে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো প্র্রত্যাবাসনের পক্ষে কখনও কথা বলে না। বরং প্রত্যাবাসনের জন্য বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে কাজ করায় তারা শুরু থেকেই মুহিবুল্লাহকে টার্গেট করে আসছে। হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তারা টার্গেট বাস্তবায়ন করেছে।
রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের মধ্যে যারা রয়েছে :একাধিক দায়িত্বশীল গোয়েন্দা সূত্র বলছে, ক্যাম্পে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের মধ্যে যারা সক্রিয় রয়েছে, তাদের মধ্যে আছে- আতাউল্লাহ, হাসিম, শামছু আলম, জোবায়ের, আরফো উল্লাহ, ফজলুল কবির, রহমত করিম, আব্বাস, সোনা মিয়া, রফিক ওরফে আমির, আবদুল শুক্কুর, আবদুল মোনাফ, বদি উল্লাহ, মোশতাক ও এহসান। তবে মুহিবুল্লাহকে হত্যার পর আবদুর রহিমের নামটি সবার আগে আলোচনায় আসে। সে নিয়মিত মিয়ানমার ও বাংলাদেশে যাওয়া আসা করে। কুতুপালং ক্যাম্পের পাশের পাহাড়ে তার দুটি গোপন আস্তানা রয়েছে। সেই আস্তানায় ভারী অস্ত্রের মজুদও রয়েছে।
মুহিবুল্লাহর ছোট ভাই হাবিবুল্লাহ বলেন, "গুলির শব্দ শুনেই দৌড়ে ঘর থেকে বের হই। বাইরে এসে দেখি, কয়েকজন সন্ত্রাসী অস্ত্র উঁচিয়ে অফিস ঘর থেকে বের হচ্ছে। তাদের কয়েকজনকে চিনতে পেরেছি। তাদের মধ্যে ছিল আবদুর রহিম, লালু ও মুরশিদ। তারা সবাই 'আল-ইয়াকিন' বাহিনীর বলে পরিচয় দেয়। আবদুর রহিমের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা আমার ভাইকে হত্যা করেছে। তারা অনেক আগে থেকেই ভাইকে হুমকি দিয়ে আসছিল।"
নিহত রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহর আরেক ভাই দীন মোহাম্মদ বলেন, 'কয়েক দিন আগেও মালয়েশিয়া থেকে ফোন করে এক ব্যক্তি আমার ভাইকে হত্যার হুমকি দিয়েছে। এর আগে সৌদি আরব থেকেও ফোনে হুমকি দেওয়া হয়।' তিনি বলেন, মুহিবুল্লাহকে রোহিঙ্গারা ভালোবাসে; তার নেতৃত্বে ক্যাম্প ভালোভাবে চলছে; রোহিঙ্গারা তার কথা শোনে- এটি সন্ত্রাসীরা ভালোভাবে নেয়নি। সন্ত্রাসীরা তার ভাইকে হুমকি দিয়ে বলেছিল- এই রোহিঙ্গা ক্যাম্প তাদের নিয়ন্ত্রণে চলবে। এখানে অন্য কোনো সংগঠন করা যাবে না। ভাই 'আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস' নামে সংগঠন গড়ে তুলে রোহিঙ্গাদের অধিকারের কথা বলতেন। এটিই তার জন্য কাল হয়েছে। তিনি জানান, আরাকানের মংডু টাউনশিপের সিকদারপাড়া থেকে ২০১৭ সালের আগস্টের পর পালিয়ে কুতুপালং ক্যাম্পে আশ্রয় নেন মুহিবুল্লাহ।
কক্সবাজারের র‌্যাব-১৫'র অধিনায়ক উইং কমান্ডার আজিম আহমেদ সমকালকে বলেন, ক্যাম্পে মুহিবুল্লাহ জনপ্রিয় ও একজন ভালোমানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সত্যিকার অর্থে তিনি ছিলেন সাধারণ রোহিঙ্গাদের ভরসার জায়গা। তার হত্যার পর সন্ত্রাসী আবদুর রহিমের নাম আলোচনায় আসে। পুরোনো রোহিঙ্গা না হওয়ায় রহিমকে অনেকেই চেনে না। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
আরও অনেকেই টার্গেটে :কুতুপালং ক্যাম্পের সাধারণ রোহিঙ্গাদের অভিমত, ক্যাম্পে মুহিবুল্লাহর ব্যাপক প্রভাব ছিল। ২০১৯ সালের জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আমন্ত্রণে তিনি সে দেশে যান। হোয়াইট হাউসে দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে জাতিসংঘেও বক্তব্য দিয়েছিলেন তিনি। এর পর থেকে তিনি আলোচনায় আসেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে ২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গাদের বিশাল সমাবেশ করেন মুহিবুল্লাহ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক রোহিঙ্গা বলেছেন, প্রত্যাবাসনের পক্ষে কথা বলায় এর আগে আরেক জনপ্রিয় রোহিঙ্গা নেতা আরিফ উল্লাহকেও নির্মমভাবে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। একইভাবে হত্যা করা হয়েছে রোহিঙ্গা নেতা নুর মোহাম্মদ, মোহাম্মদ ইউনুছ, আবু ছিদ্দিকসহ অনেক রোহিঙ্গা নেতাকে। এখনও অনেকে সন্ত্রাসীদের টার্গেটে রয়েছেন।
ক্যাম্পের নিরাপত্তায় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তিনটি স্বতন্ত্র ব্যাটালিয়ন কক্সবাজারে দায়িত্ব পালন করছে। এপিবিএনের এক কর্মকর্তা বলেন, ক্যাম্পের কাঁটাতার ভেঙে নিচ দিয়ে সুড়ঙ্গ তৈরি করে সন্ত্রাসীরা যাতায়াত করছে। এটা পুরোপুরি বন্ধ করা দরকার।
উখিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, একের পর এক রোহিঙ্গা নেতার হত্যাকাণ্ড ক্যাম্পের নিরাপত্তাকে যেমন প্রশ্নবিদ্ধ করছে, এর রাজনৈতিক তাৎপর্যও অনেক বেশি। এর পর ক্যাম্পের নিয়ন্ত্রণ সন্ত্রাসী গ্রুপের হাতে চলে যাবে। প্রত্যাবাসন নিয়ে সংকট তৈরি হবে। তিনি বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মিয়ানমারের কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে কিনা, তাও বিবেচনায় রাখা উচিত।
উখিয়ায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন আন্দোলনের নেতা মাহমুদুল হক চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্প নিয়ন্ত্রণ করছে কিছু সন্ত্রাসী। তাদের নির্দেশ উপেক্ষা করে সেখানে কেউ কিছু করতে পারে না। ২০১৯ সালে টেকনাফের যুবলীগ নেতা ওমর ফারুককে হত্যা করেছে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান বলেন, রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ ছিলেন প্রত্যাবাসনের পক্ষের লোক। তিনি সাধারণ রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করতেন। সাধারণ রোহিঙ্গারা মুহিবুল্লাহর কথা শুনত। হয়তো এ কারণেই তিনি প্রত্যাবাসনবিরোধীদের শত্রুতে পরিণত হয়েছিলেন। ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য আমরা পেয়েছি। সব তথ্য যাচাই করে দেখা হচ্ছে।


আরও পড়ুন

×