অস্ট্রেলিয়ার নয় বছরের শিশু কাডেন বেলস। বয়সের তুলনায় শরীরে না বাড়ায় সহপাঠীরা তাকে ‘বামন’ বলে খ্যাপায়! শিশুটি সহপাঠীদের এই ক্ষ্যাপানো থেকে বাঁচতে জীবনের ইতি টানতে চায়।

সম্প্রতি শিশুটির মা ইয়াররাকা বেলস ছেলের কান্নার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন। এরপর ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়। 

বুলিংয়ের শিকার হয়ে মরতে চাওয়া সেই কাডেন বেলসকে এবার দেখা গেল রাগবি খেলায় মাঠে। শনিবার অস্ট্রেরিয়ার গোল্ড কোস্টের সিবিস সুপার স্টেডিয়ামে ম্যাচের আগে কাডেনকে হাত ধরে মাঠে নিয়ে যান ইনডিজিনিয়াস অল স্টার রাগবি দলের অধিনায়ক জোয়েল থম্পসন। এ সময় সমবেত জনতা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে।

ইয়াররাকা বেলস স্কুলে বুলিংয়ের শিকার ছেলের কান্নার যে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন সেটি ব্যাপক আলোড়ন তোলে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এ নিয়ে প্রতিবেদনও প্রকাশ করে। এরপর ইনডিজিনিয়াস অল স্টার রাগবি দলের পক্ষ থেকে কাডেন বেলসকে মাঠে দলের নেতৃত্ব দিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়। 

ইডিজিনিয়াস অল স্টার দলের সদস্যরা এক ভিডিওতে কাডেনের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে বার্তা পাঠায়। দলের তারকা খেলোয়াড় ল্যাট্রেল মিচেল বলেন ‘হেই কাডেন… আমরা জানি তুমি খুবই কঠিন সময় পার করছো, কিন্তু ছেলেরা সবাই তোমার সঙ্গে আছে। আমরা তোমাকে আমাদের পাশে চাই। আমরা চাই প্রতি সপ্তাহের শেষে তুমি আমাদের নেতৃত্ব দেবে। এটি আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’ 

কাডেনকে নিজের প্রতি খেয়াল রাখতেও বলেন তিনি। সেই সঙ্গে আগামীতে তাকে নিজেদের দলের সঙ্গে দেখার আশা প্রকাশ করেন।

ম্যাচ শুরুর আগে কোচ লরি ডেলি বলেন, ‘আমরা কাডেনকে জড়িয়ে ধরতে চাই। সেই সঙ্গে পরের ৪৮ ঘন্টার মধ্যে তাকে এবং তার পরিবারকে আমাদের কিছু কাজে অন্তর্ভুক্ত করতে চাই। সবাইকে জানাতে চাই আমরা তার ব্যাপারে কতটা যত্নশীল।’

রাগবি খেলোয়াড়দের মতো অভিনয় জগতের বড় তারকাদেরও মন ছুঁয়েছে কাডেনের মায়ের পোস্ট করা সেই ভিডিও। কেউ কেউ অবশ্য ট্রোল করতেও ছাড়েননি।

এর আগে কাডেনের মা একাধিক অনুমোদিত পেজ থেকে তহবিল সংগ্রহের চেষ্টা করছেন- এমন দাবি তুলে তাকে সতর্ক করা হয়। কারও কারও অভিযোগ, কাডেনের বয়স আসলে ১৮ বছর। শুধু তহবিল সংগ্রহের জন্য তার বয়স কম দেখানো হচ্ছে। 

তবে এমন অভিযোগের বিপক্ষেও সরব হয়েছেন অনেকে। এ ব্যাপারে র‌্যাপার কর্ডি বি বলেন, ‘সবার ধারণা, কাডেনের বয়স নিয়ে মিথ্যা বলা হচ্ছে। কিন্তু আমার তা মনে হয় না।’ 

এদিকে, গত বছর কাডেনের মা ইয়াররাকা জানিয়েছিলেন, বুলিংয়ের শিকার হয়ে কিভাবে ছয় বছর বয়সে তার ছেলে প্রথমবার নিজেকে শেষ করতে চেয়েছিল। এরপর সম্প্রতি তিনি সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বুলিংয়ের কারণে আমরা প্রতিদিন স্বজনদের হারাচ্ছি। বুলিংয়ের মধ্য দিয়ে বৈষম্যের জন্ম হয়, বর্ণবাদের সৃষ্টি হয়। প্রত্যেক মা-বাবার জন্য সন্তান হারানোর ব্যথা সবচেয়ে কষ্টকর। আর এটিই আমার প্রতিদিনের বাস্তবতা।

মন্তব্য করুন