করোনাভাইরাসের কমিউনিটি সংক্রমণ কার্যকরভাবে নির্মূল করা গেছে বলে দাবি করেছে নিউজিল্যান্ড। রোববার দেশটির প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন এমন দাবি জানান। তিনি বলেন, গত কয়েকদিনে দেশটিতে করোনা সংক্রমণ একক ঘরে নেমে এসেছে। বর্তমানে ভাইরাসটি নির্মূল করা গেছে। খবর বিবিসির
তবে এই ভাইরাস নির্মূল নিয়ে কর্মকর্তাদের আত্মতৃপ্তির সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মানে এই নয় যে, নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পুরোপুরি থেমে গেছে।
করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশটিতে জারিকৃত কঠোর সামাজিক বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের মাত্র কয়েক ঘন্টা আগে তিনি এসব তথ্য জানান।  
মঙ্গলবার থেকে দেশটিতে কিছু অপ্রয়োজনীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।
তবে সরকারের পক্ষ থেকে বেশিরভাগ লোককে এখনও ঘরে থাকতে এবং সব ধরনের সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে আহবান জানানো হয়েছে।
সরকারের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে অংশ নিয়ে জেসিন্ডা বলেন, আমরা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড খুলে দিচ্ছি, কিন্তু মানুষের সামাজিক জীবন এখনও খোলা যাচ্ছে না।
নিউজিল্যান্ডের স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অ্যাশলে ব্লুমফিল্ড বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা কম হওয়ায় করোনা নির্মূলে তাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়েছে বলে তারা আশাবাদী হয়েছেন।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই ’নির্মূলকরণ’ মানে এই নয় যে নতুন করে আর কেউ আক্রান্ত হবেন না। 
প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা বলেছেন, নিউজিল্যান্ডে ব্যাপক আকারে কমিউনিটি সংক্রমণ নেই। তিনি আরও বলেন, আমরা যুদ্ধে জয় লাভ করেছি।
এই পরিস্থিতি ধরে রাখতে তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে নিউজিল্যান্ডে ভ্রমণ, স্বাভাবিক কর্মকান্ডে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন সীমানা প্রাচীর বন্ধ করাসহ, দেশে আগত সব বিদেশফেরতেদের কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা হয়। এসব ছাড়াও কঠোর লকডাউন, গণহারে করোনা পরীক্ষা এবং শনাক্তকরণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়। নিউজিল্যান্ডে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৫০০ এর কম মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে মারা গেছেন ১৯ জন।

মন্তব্য করুন