করোনা শনাক্ত হওয়ায় ৩২ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে আইসোলেশনে থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন চিকিৎসক। কিন্তু তা না মেনে ওই ব্যক্তি আইসোলেশন থেকে পালিয়ে সোজা চলে সুপারমার্কেটে। এ ঘটনায় পরে তাকে ৪ হাজার ডলার জরিমানা করে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

ঘটনাটি ঘটেছে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে। ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির খবর অনুযায়ী, করোনা আক্রান্ত ওই ব্যক্তি সম্প্রতি ভারত থেকে নিউজিল্যান্ডে যান। নমুনা পরীক্ষায় তার করোনা শনাক্ত হলে তাকে অকল্যান্ডের একটি আইসোলেশসন সেন্টারে রাখা হয়। কিন্তু সেখান থেকে কৌশলে মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬ টা ৫০ মিনিটে পালিয়ে তিনি শহরের একটি সুপারমার্কেটে যান।  

নিউজিল্যান্ডের গণমাধ্যমে বলা হয়, তাৎক্ষণিকভাবে লোকটির নাম পরিচয় জানা যায়নি। তবে ৩ জুলাই তিনি ভারতের দিল্লি থেকে এসেছেন বলা হয়।

নিউজিল্যান্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রিস হিপকিন্স ওই ব্যক্তির এমন আচরণের তীব্র নিন্দা করে তাকে স্বার্থপর বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, ওই ব্যক্তিকে এজন্য জবাবদিহি করতে হবে। 

তবে এ ঘটনাকে তিনি সরকারের ব্যর্থতা হিসেবে দেখেননি। বরং তিনি বলেছেন, যে আইন ভঙ্গ  করেছেন এ ঘটনায় তার ক্ষমা চাওয়া উচিত।

জানা গেছে, ওই ব্যক্তি যখন আইসোলেশন সেন্টার থেকে পালিয়ে যান তখন সেখানকার একজন নিরাপত্তা প্রহরী তাকে পর্যবেক্ষণ করছিলেন। তবে লোকটির আচরণ তাকে বিভ্রান্ত করেছিল।  করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি যখন পালিয়ে যান তখন মুহূর্তের মধ্যেই নিরাপত্তা অ্যালার্মও বেজে উঠেছিল সেখানে। কিন্তু নিরাপত্তা প্রহরী তাকে ধরার আগেই তিনি পালিয়ে যান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী রিস হিপকিন্স জানান, করোনা আক্রান্ত ওই ব্যক্তি সুপারমার্কেট হয়তো ২০ মিনিট সময় কাটিয়েছেন। আইসোলেশন সেন্টার থেকে পালিয়ে যাওয়ার ৭০ মিনিট পর তিনি আবার সেখানে ফিরে এসেছেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির এমন আচরণের কারণে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হবে। এজন্য তাকে ছয়মাসের জেল বা ৪ হাজার ডলার জরিমানা করা হবে।

জানা গেছে, লোকটি যে সুপারমার্কেটে গিয়েছিলেন এখন সেখানকার সব কর্মীকে আইসোলেশনে রাখা হবে। একই সঙ্গে সবার করোনা পরীক্ষাও করা হবে।

আইসোলেশ সেন্টারটির প্রধান ড্যারিন ওয়েব জানান, সুপারমার্কেটের সিসিটিভির ফুটেজে দেখা গেছে, করোনা আক্রান্ত ওই ব্যক্তি সুপারমার্কেটের কোন কর্মী বা ক্রেতাদের খুব কাছাকাছি যাননি।

নিউজিল্যান্ডে নতুন করে ২৩ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এরা প্রত্যেকেই আইসোলেশনে আছেন। এ পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ১৮৭ জন।

মন্তব্য করুন