বন্দরনগরী চট্টগ্রামে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আইসিইউতে ভর্তি রোগীদের ৮০ শতাংশই দক্ষিণ আফ্রিকা ধরন বা বেটা ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত। আর মধ্যম মাত্রায় অসুস্থ রোগীদের ২০ শতাংশ আক্রান্ত যুক্তরাজ্যের ধরন বা আলফা ভ্যারিয়েন্টে। নতুন এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।

এতে দেখা যাচ্ছে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন যেসব রোগীর 'হাই ফ্লো অক্সিজেন' প্রয়োজন হয়েছিল, তারাও সবাই বেটা ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত। এই ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্তদের ৯০ শতাংশের জ্বর, কাশি, গলাব্যথা ও সর্দির উপসর্গ ছিল। চট্টগ্রামের করোনা ডেডিকেটেড জেনারেল হাসপাতালে এপ্রিল ও মে মাসে চিকিৎসা নিতে আসা জটিল রোগীর নমুনা থেকে পাওয়া ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্স করে এ তথ্য পেয়েছেন গবেষকরা। গবেষণার আওতায় থাকা রোগীদের মধ্যে অক্সফোর্ডের দুই ডোজ টিকা নেওয়া পাঁচজনও ছিলেন।

জিনোম সিকোয়েন্সের এই উপাত্ত জার্মানি থেকে প্রকাশিত ভাইরাসের আন্তর্জাতিক তথ্যভান্ডার গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা ডেটায় (জিআইএসআইডি) গৃহীত হয়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। ঢাকার চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (সিএইচআরএফ) তত্ত্বাবধানে চট্টগ্রামের জেনারেল হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের গবেষকরা এ অনুসন্ধান চালান।

সিএইচআরএফের বিজ্ঞানী ড. সেঁজুতি সাহার নেতৃত্বে এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আদনান মান্নানের তত্ত্বাবধানে এ অনুসন্ধানে প্রধান গবেষক ছিলেন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের কভিড ইউনিটের চিকিৎসক ডা. এইচএম হামিদুল্লাহ মেহেদী ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. আবদুর রব মাসুম।

ডা. আবদুর রব সমকালকে বলেন, করোনা আক্রান্ত হয়ে জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে আইসিইউতে ভর্তি জটিল রোগীদের নানা বিষয় উদ্ঘাটন করতেই গবেষণাটি করা হয়েছে। চিকিৎসা নিতে আসা ২৪ জন করোনা রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্স করা হয়। নমুনা সংগ্রহ করা রোগীদের দিন ও রাতের নানা শারীরিক বিষয়ও এতে পর্যবেক্ষণ করা হয়।