হজলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বে তাপমাত্রা বাড়ছে। এ পরিস্থিতির উত্তরণে পথ খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা। উষ্ণায়নের কারণে বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক প্রভাবের মুখোমুখি হচ্ছি আমরা। পানির স্তর ওপরে উঠে আসা, বরফ গলে যাওয়া, পশু খাদ্য সংকটসহ বহু সমস্যার মধ্যেও ভালো কিছুর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে।

সম্প্রতি বিরল এক গাছ পাওয়া গেছে। যুক্তরাজ্যে পাওয়া গাছটি প্রায় ছয় কোটি বছর আগের এবং এটি অত্যন্ত গরম আবহাওয়ার গাছ ছিল বলে গবেষকরা জানিয়েছেন। ডাইনোসরদের যুগে ছিল এই গাছ। তখন পৃথিবীর তাপমাত্রা অনেক বেশি ছিল। এরপর যত দিন গেছে, পৃথিবী ক্রমে শীতল হয়েছে এবং গাছটি পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যায়।

যুক্তরাজ্যের ভেন্টর বোটানিক গার্ডেনের উদ্ভিদবিদরা বলেছেন, আগেও বিশেষত ইংল্যান্ডে এ গাছটির দেখা মিলত। ফের সেখানেই এটি জন্ম নিল, যা আমাদের হতবাক করেছে। উদ্ভিদটি সাইকাড গোত্রের। দেখতে অনেকটা খেজুর গাছের মতো। এর বৈজ্ঞানিক নাম সাইকাস রিভোলিউটা।

গার্ডেনের কিউরেটর ক্রিস কিড বলেন, যুক্তরাজ্যের আইল অব ওয়াইট দ্বীপের একটি উদ্যানে গাছটির উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হয় ১৫ থেকে ২০ বছর আগে। ১৫ বছরের প্রচেষ্টায় শুধু পাতা তৈরি করা যায়, যা গরমের সময় বাঁচে। পাঁচ বছর আগে আমরা একটি পুরুষ সাইকাস উৎপাদন করি, যা শঙ্কু বা মোচা দেয়। গত বছর আমরা মোচাদানে সক্ষম একটি স্ত্রী সাইকাসও উৎপাদন করতে সক্ষম হই। ফলে এখন থেকে বাইরেও চারা রোপণ করা যাবে। এখানকার তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় এই গাছের পক্ষে তা আদর্শ। এর আগে আলাস্কা এবং অ্যান্টার্কটিকায় গাছটির ফসিল (জীবাশ্ম) পাওয়া যায়। কয়েক বছর ধরে ইংল্যান্ডের গড় তাপমাত্রার ব্যাপক বদল হয়েছে, যা এই গাছটির জন্য উপযোগী। অবশেষে এত বছর পর গাছটির উৎপাদন প্রচেষ্টা সফল হয়েছে। প্রাগৈতিহাসিক এই গাছ ফিরে পেয়ে আপ্লুত উদ্ভিদবিদরা।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সারা বিশ্ব থেকেই এমন অনেক উদ্ভিদ ও প্রাণীর প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আর এতে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তাই বিলুপ্ত কোনো উদ্ভিদ বা প্রাণীর ফের আবির্ভাব ঘটলে তা পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য সহায়ক হবে বলে পরিবেশবিদরা মনে করেন। সূত্র :আনন্দবাজার।

মন্তব্য করুন