নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে মিয়ানমারে সেনা অভুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলকারীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

সামরিক নেতৃত্ব, তাদের পরিবার এবং তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যের ওপর এই আদেশ কার্যকর হবে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি।

একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা মিয়ানমার সরকারের একশ’ কোটি ডলার সেনাবাহিনী যেন ব্যবহার করতে না পারে সে বিষয়েও পদক্ষেপ নিয়েছে মার্কিন সরকার।

সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে আসা জনসাধারণের ওপর বলপ্রয়োগ করছে সেনাবাহিনী। মঙ্গলবার রাজধানী নেপিদোতে পুলিশের গুলিতে আহত হয়েছেন এক নারী। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সেনা নেতৃত্বের ওপর নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নেয় যুক্তরাষ্ট্র।

মিয়ানমারে সেনা নেৃতত্বের অবসান দাবি করে স্টেট কাউন্সিলর এবং ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) নেত্রী অং সান সু চির মুক্তি দাবি করেন জো বাইডেন। তিনি বলেন, মিয়ানমারের জনগণ যা বলছে তা শোনা যাচ্ছে, বিশ্ব তা দেখছেও। প্রয়োজনে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

গত ৮ নভেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে সু চির দল এনএলডি নিরঙ্কুশ জয় পায়। পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য যেখানে ৩২২টি আসনই যথেষ্ট, সেখানে এনএলডি পেয়েছিল ৩৪৬টি আসন।

এনএলডি নিরঙ্কশ জয় পেলেও সেনাবাহিনী সমর্থিত দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) ভোটে প্রতারণার অভিযোগ তুলে ফলাফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিল। তারা নতুন করে নির্বাচন আয়োজনের দাবি তোলে। যদিও ইউএসডিপি ৭১টি আসনে জয় পেয়েছে।

গত পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন পার্লামেন্টের অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে ওইদিন ভোরে অং সান সু চি ও দেশটির প্রেসিডেন্টসহ এনএলডির শীর্ষ বেশ কিছু নেতাকে গ্রেপ্তারের পর এক বছরের জন্য মিয়ানমারে জরুরি অবস্থা জারি করে সেনাবাহিনী।

মন্তব্য করুন