দুবাইয়ের শাসক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মেদ বিন রশিদ আল মাকতুমের মেয়ে রাজকুমারী লতিফা আল মাকতুম বেশ কিছু ভিডিও বার্তা পাঠিয়েছেন। স্নানঘরে গোপনে ধারণ করা ওই ভিডিও বার্তায় জীবন শঙ্কার কথা জানিয়েছেন তিনি।

লতিফাকে আটক করে দুবাইয়ে ফেরত নেয়ার বছর খানেক পর গোপনে একটি ফোনে কয়েক মাস ধরে ওই ভিডিওগুলো রেকর্ড করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে বিবিসি।

বিবিসির প্যানোরামা অনুষ্ঠানে এই ভিডিও বার্তাগুলো দেন তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু টিনা জাওহিআইনেন, মায়ের দিকের এক ভাই মার্কাস এসাব্রি এবং প্রচারকর্মী ডেভিড হেই। এরা সবাই লতিফাকে মুক্ত করার প্রচারণার সাথে যুক্ত। তারা জানান, লতিফার নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই তারা এখন এই ভিডিও বার্তাগুলো প্রকাশের কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ওই ফুটেজে রাজকুমারী লতিফা আল মাকতুম বলেন, তিনি নৌকায় করে পালিয়ে যাওয়ার পর কমান্ডোরা তাকে মাদকাচ্ছন্ন করে এবং আবার তাকে বন্দীশালায় নিয়ে আসে।

২০১৮ সালে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন লতিফা। পরে বন্ধুদের কাছে ভিডিও বার্তায় তিনি নিজের বাবার বিরুদ্ধেই অভিযোগ তুলেছেন, তাকে ‘জিম্মি’ করে রাখা হয়েছে এবং তিনি নিজের জীবন নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।

গোপনে পাঠানো বার্তাগুলো আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তার বন্ধুরা জাতিসংঘকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। দুবাই এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত এর আগে জানিয়েছিল, রাজকুমারী তার পরিবারের তত্ত্বাবধানে নিরাপদেই রয়েছেন।

জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার কমিশনার ও আয়ারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট মেরি রবিনসন ২০১৮ সালে রাজকুমারীর সঙ্গে দেখা করার পর তাকে একজন ‘বিপদগ্রস্থ তরুণী’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। তিনি এখন বলছেন, রাজকুমারীর পরিবার তাকে ‘ভয়াবহভাবে ধোঁকা দিয়েছিল।’ লতিফার বর্তমান অবস্থা এবং তার সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নিতে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

ভিডিও বার্তায় রাজকুমারী লতিফা জানান, নৌকা থেকে যে সেনারা তাকে আটক করেছিল তাদের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন তিনি, তাদের ‘লাথি মেরেছিলেন এবং তাদের সঙ্গে মারামারি করেছিলেন’ এবং আমিরাতের এক কমান্ডোর হাতে সে চিৎকার না করা পর্যন্ত কামড়ে ধরেছিলেন।

তিনি জানান, তাকে অচেতন করার ওষুধ দেয়ার পর তিনি চেতনা হারান এবং তাকে একটি ব্যক্তিগত বিমানে তোলা হয়। সেটি দুবাইয়ে অবতরণের আগ পর্যন্ত অচেতন অবস্থায় ছিলেন তিনি।

লতিফা জানান, তিনি পুলিশের পাহারায় একটি ভিলাতে আটক ছিলেন যার জানালাগুলো বাইরে থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সেখানে তার কোনও চিকিৎসা বা আইনি সহায়তা নেয়ার সুযোগ ছিল না।

বিবিসি বলছে, শেখ মোহাম্মদ একটি বিশাল সফল শহর গড়ে তুলেছেন, কিন্তু অধিকারকর্মীরা বলেছেন, সেখানে ভিন্নমতের প্রতি কোন সহনশীলতা নেই এবং বিচার ব্যবস্থা নারীদের প্রতি বৈষম্য করতে পারে। তার ঘোড়া-দৌড়ের বড় ধরনের প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং মাঝে মাঝেই তিনি রয়াল অ্যাসকটের মতো বড় ধরনের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে থাকেন।

তবে শেখ মোহাম্মদ রাজকুমারী লতিফা এবং তার সৎমা প্রিন্সেস হায়া বিনতে আল হুসাইনকে নিয়ে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েন। প্রিন্সেস হায়া ২০১৯ সালে তার দুই সন্তানকে নিয়ে লন্ডনে পালিয়ে গিয়েছিলেন।

পরিবারের ‘নির্যাতনের’ মুখে ২০১৮ সালে সাগর পাড়ি দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন লতিফা। কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হাতে তিনি ধরা পড়ে যান। ওই ঘটনা সারা বিশ্বে আলোচনার জন্ম দেয়।


মন্তব্য করুন