ঢাকা রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফসলি জমিতে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধের দাবি কৃষক-ক্ষেতমজুর সংগ্রাম পরিষদের

ফসলি জমিতে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধের দাবি কৃষক-ক্ষেতমজুর সংগ্রাম পরিষদের
×

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এসব দাবি জানানো হয়। ছবি: সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৩:২৯ | আপডেট: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৩:৪০

ফসলি জমি নষ্ট করে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন বন্ধ, কৃষকদের সরকারি দরে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ এবং ক্ষেতমজুরসহ দরিদ্র মানুষের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছে কৃষক ও ক্ষেতমজুর সংগ্রাম পরিষদ।

রোববার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এসব দাবি জানানো হয়।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, ময়মনসিংহের ভালুকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ফসলি জমি দখল করে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাদের দাবি, ভালুকায় ফসলি জমি ও বসতবাড়ি এলাকায় প্রায় ১৭০ একর জমি স্থানীয় সংসদ সদস্যের স্ত্রীর নামে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা প্রথমে আপত্তি জানালেও পরে চাপের মুখে অনাপত্তিপত্র দিয়েছেন বলে সংবাদপত্রে খবর প্রকাশিত হয়েছে বলে দাবি করেন বক্তারা।

তারা বলেন, সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী উর্বর ফসলি জমি ও বসতবাড়ি উচ্ছেদ করে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সুযোগ নেই। উপকূলীয় ও চরাঞ্চলের পতিত খাসজমি কিংবা মানুষের ক্ষতি হবে না-এমন জায়গায় এসব প্রকল্প স্থাপন করা উচিত।

বক্তারা আরও বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ফসলি জমিতে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কারণে অনেক কৃষক কর্মহীন হয়েছেন। বর্তমানেও বিভিন্ন এলাকায় কৃষকের জমিতে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের তৎপরতা চলছে। সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা।

সমাবেশে কৃষকদের সারসংকটের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, ধানের গত মৌসুমের শুরু থেকেই কৃষক পর্যাপ্ত সার পাচ্ছেন না। সরকার দেশে সারের সংকট নেই বললেও কৃষক সরকারি দরে বাজারে সার পাচ্ছেন না। বেশি দাম দিয়েও অনেকে সার কিনতে না পারায় ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই সরকারি দরে কৃষকদের পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

এ ছাড়া জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ফলে দ্রব্যমূল্য আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন বক্তারা। তাদের ভাষ্য, ক্ষেতমজুরসহ দরিদ্র মানুষের আয় দিয়ে তিনবেলা খাবার জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় অবিলম্বে রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান তারা। সমাবেশ থেকে ক্ষেতমজুর পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং বর্গাচাষিদের জন্য কৃষি কার্ড নিশ্চিত করারও দাবি জানানো হয়।

কৃষিজমি নষ্ট করে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন বন্ধ, কৃষকদের সরকারি দরে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ এবং দরিদ্র মানুষের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবিতে আগামী ৫ অক্টোবর জেলায় জেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

কৃষক ও ক্ষেতমজুর সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও ক্ষেতমজুর সমিতির কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন রেজার সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন কৃষক সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এস এম এ সবুর, বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির সভাপতি ডা. ফজলুর রহমান, জাতীয় কৃষক-খেতমজুর সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্টের সহসাধারণ সম্পাদক নিখিল দাস, বাংলাদেশ কৃষক ও ক্ষেতমজুর সংগঠনের সদস্য রাজু আহমেদ এবং কৃষক ঐক্য ফোরামের সভাপতি জগলুল পাশা। সমাবেশ পরিচালনা করেন ক্ষেতমজুর সমিতির সাধারণ সম্পাদক অর্ণব সরকার।

আরও পড়ুন

×