মানুষের ভালোবাসার শক্তিতে আমার অগাধ আস্থা: সৈয়দ হক

প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬      

সমকাল প্রতিবেদক

সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক বলেন, 'মানুষের ভালোবাসার চেয়ে বড় কোনো শক্তি নেই। এই শক্তিতে আমার অগাধ আস্থা।'
 
লেখকের রোগশয্যাপাশে সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার উপস্থিত হলে তিনি আরও বলেন, 'আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমার দেশের আমার মানুষের ভালোবাসা আমাকে মৃত্যুর গ্রাস থেকে জীবনে ফিরিয়ে নিয়ে আসবে।'
 
গত ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে রাজধানীর তারকাচিহ্নিত এক হাসপাতালের কেবিনে ক্যান্সারে আক্রান্ত ভাষাশিল্পী সৈয়দ শামসুল হকের সান্নিধ্যে বেশ কিছু সময় কাটান সমকাল সম্পাদক। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সমকালের ফিচার সম্পাদক মাহবুব আজীজ।
 
সৈয়দ হক ষাট দশকে তার ও তার সহকর্মীদের সাহিত্যযাত্রাপথে গোলাম সারওয়ারের অংশগ্রহণের কথা স্মরণ করে বলেন, 'আমরা একই সঙ্গে কল্লোলিত সেই সব দিন উদযাপন করেছি। সারওয়ার বরাবর নাছোড়বান্দা সম্পাদক। এক সময় তিনি পূর্বাণী পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। ঈদসংখ্যায় প্রকাশের জন্য উপন্যাস নিতে তার নাছোড় তাগাদা আমার কাছে আজও বিষ্ময়কর মনে হয়। ...এক ভোরে দেখি আমার বারান্দার সোফায় শুয়ে আছেন তার পূর্বাণীর এক সহকর্মী কবি ইকবাল হাসান। তখনও রাত ভোর হয়নি। আমি তো অতো রাতে ইকবালকে দেখে আঁতকে উঠি। ইকবাল আমাকে বলে, সারওয়ার ভাই পাঠিয়েছেন। লেখা না নিয়ে যাব না আজ। ...এভাবে চাপ দিয়ে, তাগাদা দিয়ে সারওয়ার আমাকে যুগের পর যুগ লিখিয়ে নিয়েছেন। গেল ক'বছর সমকাল ঈদসংখ্যাতেই আমি একমাত্র উপন্যাসটি লিখেছি।' সৈয়দ হক স্মিত হেসে বলেন, 'এই চাপ আমি আবারও নিতে চাই। কলম হাতে সচল থাকতে চাই আরও কিছুকাল।'
 
গোলাম সারওয়ার বলেন, 'পুরো বাংলাদেশ আপনার রোগমুক্তির অপেক্ষায় প্রার্থনারত।' দীর্ঘদিন পর লেখক ও সম্পাদক পরস্পরকে দেখে নিজেদের আনন্দ ও আবেগ প্রকাশ করেন। গোলাম সারওয়ার তার নিজের ক্যান্সার জয়ের ঘটনার কথা সব্যসাচী শিল্পীকে মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, '২১ বছর আগে আমি ক্যান্সার জয় করেছি। আমরা বিশ্বাস করি, আপনিও আবার আমাদের সঙ্গে একই সবুজ ঘাসের ওপর হেঁটে বেড়াবেন।'
 
সৈয়দ শামসুল হক এ সময় একটি শায়ের আবৃত্তি করেন, 'অশ্রুপাত করতে নেই। আমাদের যে দিন গেছে তার কথা ভাবো, আমাদের সেইসব উজ্জ্বল দিন। আজকের এই দিন নিয়ে আমরা যেন দুঃখ না করি।'
 
ফুসফুসে ক্যান্সার আক্রান্ত সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক চিকিৎসার জন্য এপ্রিল মাসে লন্ডনে যান। সেখানে রয়্যাল মার্সেডন হাসপাতালে তার শরীরে ৬টি কেমোথেরাপি দেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসায় ক্যান্সার পুরো বিলোপ না হওয়ায় ১ সেপ্টেম্বর সৈয়দ হক দেশে ফেরার পর ৩ সেপ্টেম্বর থেকে তার শরীরে দ্বিতীয় পর্যায়ে ৬টি কেমোথেরাপি প্রদানের সিদ্ধান্ত নেন ইউনাইটেড হাসপাতালের চিকিৎসবৃন্দ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাসপাতালে সৈয়দ শামসুল হককে দেখতে গিয়ে তার চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করার সিদ্ধান্তের কথা জানান।
 
সৈয়দ শামসুল হকের রোগশয্যায় দর্শনার্থীদের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও দেশের রাজনৈতিক-সামাজিক অঙ্গনের নেতৃস্থানীয় অনেকেই প্রিয় লেখকের সঙ্গে দেখা করেন। লেখকের স্ত্রী ও লেখিকা-মনোবিজ্ঞানী আনোয়ারা সৈয়দ হক সমকাল সম্পাদককে বলেন, 'লেখকের পরিবারের সকলে গভীরভাবে বিশ্বাস করি, সাধারণ মানুষের আন্তরিক প্রার্থনায় সৈয়দ হক সুস্থ হয়ে উঠবেন।'
 
( প্রতিবেদনটি গত ১৮ সেপ্টেম্বর সমকালের প্রিন্ট সংস্করণে প্রকাশিত )

বিষয় : সৈয়দ শামসুল হক সব্যসাচী লেখক