ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আইনমন্ত্রী বললেন, খালেদা জিয়ার বিদেশ যাত্রার খবর মিথ্যা

আইনমন্ত্রী বললেন, খালেদা জিয়ার বিদেশ  যাত্রার খবর মিথ্যা
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ১০ মার্চ ২০২৩ | ০৭:৫৭

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে শর্ত সাপেক্ষে বিদেশে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার খবর সত্য নয় বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে তিনি বলেন, ‘এই গুজবের কোনো ভিত্তি নেই। আমার কাছে এখন পর্যন্ত আবেদনটি আসেনি। যখন আমার কাছে আসবে; নিষ্পত্তি করার পর অবশ্যই আপনাদের জানাব। এ ব্যাপারে যে তথ্য এখন টেলিভিশনে দেওয়া হচ্ছে, তা সর্বৈব অসত্য।’

খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবারের আবেদনে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি ও জামিন চাওয়া হয়েছে– সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আনিসুল হক বলেন, ‘আমি আবারও বলছি, জামিন দেওয়ার এখতিয়ার আদালতের; সরকারের না।’ সাময়িক মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হলে শর্ত কী হবে– জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আগের যে শর্ত আছে, তা-ই থাকবে।’

দুই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়ার রাজনীতি করার অধিকার নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘একজন সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি রাজনীতি করতে পারবে কি পারবে না, সেটা আইনের বইতে বলা আছে। আপনারা সেটা দেখে নেন।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের আবেদনের ওপর শিগগিরই মতামত দেওয়া হবে। তাঁর শর্তযুক্ত মুক্তির মেয়াদ আরও বাড়ানোর জন্য আবেদন করা হয়েছে। মতামতের জন্য সেই ফাইল আইন মন্ত্রণালয়ে এসেছে। আমাদের মতামত দেওয়ার পরই সেটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

গত মঙ্গলবার খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার সাজা মওকুফের পাশাপাশি তাঁর মুক্তির শর্ত শিথিল করে চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার অনুমতি চান। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, খালেদা জিয়ার সাজা মওকুফের কোনো সুযোগ নেই। আগের মতোই খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত রেখে তাঁর মুক্তির মেয়াদ ছয় মাস বাড়ানো হতে পারে।

এ ব্যাপারে দুর্নীতি দমন কমিশনের কৌঁসুলি জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান সমকালকে বলেন, অসুস্থতার কারণে খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করে সরকারের নির্বাহী আদেশে শর্ত সাপেক্ষে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এখন তার মেয়াদ বাড়াবে কিনা, সেটা সরকারের বিষয়। তবে শর্ত সাপেক্ষে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠাতে হলে অবশ্যই খালেদা জিয়াকে আদালতে আসতে হবে। মুক্তি বা বিদেশে যেতে হলে আদালত দেবেন, অন্য কেউ নয়।

এদিকে খালেদা জিয়ার আইনজীবী প্যানেলের অন্যতম সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সমকালকে বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়াতে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে যে আবেদন করা হয়েছে, সেটা উনার পারিবারিক সিদ্ধান্ত। এখানে আইনি বা রাজনৈতিক কোনো বিষয় নয়। তাই কোনো কথা বলা সমীচীন হবে না।

উল্লেখ্য, খালেদা জিয়া আলাদা দুটি দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রায় দুই বছর কারাগারে ছিলেন। করোনা মহামারি শুরুর পর পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ খালেদা জিয়াকে দুটি শর্তে নির্বাহী আদেশে সাময়িক মুক্তি দেয় সরকার। যে দুটি শর্তে নির্বাহী আদেশে সরকার খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়েছে, এর প্রথমটি হচ্ছে খালেদা জিয়াকে বাসায় থেকে চিকিৎসা নিতে হবে। দ্বিতীয়টি হলো, তিনি বিদেশ যেতে পারবেন না। এরপর ছয়বার তাঁর মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়। আগামী ২৪ মার্চ খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ শেষ হবে।

‘সরকার চায় সব দল নির্বাচনে আসুক’: আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক, অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে। সরকার চায়, সব দলই এই নির্বাচনে আসুক। তবে সরকার সংবিধানের বাইরে যাবে না। এই নির্বাচন নিয়ে সরকারের ওপর বিদেশিদের কোনো চাপ নেই। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) আট রাষ্ট্রদূতের একটি প্রতিনিধি দল গতকাল দুপুরে সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। পরে সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ইইউ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরও বলেন, ইইউ জানিয়েছে– আগামী সংসদ নির্বাচনে তারা পর্যবেক্ষক পাঠাতে চায়। আমরা তাদের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছি। তবে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার। মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ বিষয়ে কোনো আপত্তি নেই। সেটি তিনি পরিষ্কার বলে দিয়েছেন। এখন নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে, কতজনকে আনবে এবং কতজনকে আনবে না।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, সাইবার অপরাধ বন্ধ করার জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়েছে, এটি থাকবে। তবে এই আইনের বিধিমালায় যদি কোনো সংযোজন, বিয়োজন বা স্পষ্টীকরণের প্রয়োজন হয়, তাহলে সেটা করা হবে।

আরও পড়ুন

×