ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিতে সরকার কাজ করছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিতে সরকার কাজ করছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
×

পর্যটন কর্পোরেশনের সম্মেলন কক্ষে গবেষণাপত্রের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৩ | ১১:২৪ | আপডেট: ০১ আগস্ট ২০২৩ | ১১:২৪

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেছেন, ‘সকল সম্প্রদায়ের মানুষের সহাবস্থানের হাজার বছরের ইতিহাস আছে আমাদের। সরকার দলিত, ট্রান্সজেন্ডার, ক্ষুদ্র জাতিসত্তার জনগোষ্ঠীর সকল সুবিধা নিশ্চিত করার প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছে।’ 

ঢাকার আগারগাঁওয়ে পর্যটন কর্পোরেশনের সম্মেলন কক্ষে এক গবেষণাপত্রের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। 

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি প্রচলিত বৈষম্যমূলক আইন বাতিল করে অন্তর্ভুক্তিমূলক আইন, নীতি ও ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে রোববার (৩০ জুলাই) “Towards Equality and Inclusion: A Review of Laws and Policies in Bangladesh” শীর্ষক ওই গবেষণার মোড়ক উন্মোচন করা হয়। মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ক্রিশ্চিয়ান এইড বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)।

গবেষকদের সাধুবাদ জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রান্তিক জনগোষ্ঠী নিয়ে গভীর একটি গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করেছেন আপনারা। এই গবেষণা সরকারের সেই লক্ষ্যকে আরও সহজ করবে। তাদের সুপারিশসমূহ সরকার বিবেচনায় রাখবে।’

অনুষ্ঠানে বক্তারা বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে লিঙ্গ, ধর্ম, বর্ণ, জাতি, জন্মস্থান, নির্বিশেষে সকলের জন্য সমান অধিকার নিশ্চিতকরণে আইন ও নীতির সামঞ্জস্যতা মূল্যায়ন করেন। 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাউরিজিও চিয়ান বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের সরকারকে স্বাগত জানাই যুগোপযোগী আইন ও পলিসি সংস্কারের জন্য। বৈষম্য বিরোধের সকল প্রচেষ্টাকে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন সমর্থন করে।’

গবেষণার ওপর সুপারিশ তুলে ধরেন গবেষণাপত্রের সহসম্পাদক ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা। তিনি অর্জিত সুপারিশসমূহ উল্লেখ করে বলেন, ‘দলিত, হিজড়া বা ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তির জন্মনিবন্ধন নিয়ে যে কথা উঠে এসেছে, তার অতি দ্রুত সমাধান দরকার। পাসপোর্ট ও জরুরি চিকিৎসাসেবা পেতে যেন একটুও বিঘ্ন না ঘটে।’

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে অনেকেই চাকরিতে প্রার্থী হবার সুযোগ পান না। এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’ 

অনুষ্ঠানের প্যানেল আলোচক বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির (বন্ধু) নির্বাহী পরিচালক সালেহ আহমেদ বলেন, ‘প্রস্তাবিত টান্সজেন্ডার বিলের মাধ্যমে এই জনগোষ্ঠীর আলাদা সংজ্ঞা, ভোট দেওয়ার অধিকার, ধর্ষণ সম্পর্কিত আইন, সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয় এবং কর্মক্ষেত্রে নিপীড়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে সুরক্ষার প্রস্তাব করা হয়েছে।’ 

প্যানেল আলোচক হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রভাষক সাইমী ওয়াদুদ ও জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) সিনিয়র সহকারী জজ রুবায়েত ফেরদৌস। 

গবেষণাপত্রের সহসম্পাদক, ব্লাস্টের অনারারি নির্বাহী পরিচালক ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, ‘সংবিধানের প্রস্তাবনায় মৌলিক মানবাধিকারের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল ৭২ সালেই। অর্থাৎ, সংবিধানের স্বীকৃত মৌলিক অধিকারের পাশাপাশি সমতার অধিকারের পরিধি বোঝা প্রয়োজন। এ কারণে সমতা ও বৈষম্য দূর করার ক্ষেত্রে শুধু সংবিধান নয়, আন্তর্জাতিক আইনেরও ব্যাখ্যা ব্যবহার করতে পারি। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি, মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধি, সরকারি অংশীজন তাদের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা প্রয়োজন। রাষ্ট্র মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে বাধ্য।’ 

সমাপনী বক্তব্যে ‘নাগরিক উদ্যোগ’র প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন বলেন, ‘আজ এই অসাধারণ গবেষণা প্রতিবেদনের মাধ্যমে আমরা আশা করি আইনকে আরও শক্তিশালী করতে পারব। আমরা দেখেছি, রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনী ইশতেহারে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর কথা বলেছিল। কিছু অগ্রগতি হয়েছে। কিন্তু এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আরও অংশগ্রহণ প্রয়োজন।’

গবেষণা প্রতিবেদনের মূল ফলাফল উপস্থাপন করেন ড. সিনথিয়া ফরিদ ও আহমেদ ইব্রাহীম। তারা ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্রিশ্চিয়ান এইড বাংলাদেশের ইন্টেরিম কান্ট্রি ডিরেক্টর নুজহাত জেবিন।  

প্রতিবেদনটি সম্পাদনায় ছিলেন ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা, সারা হোসেন ও ড. বীণা ডি’কস্টা। প্রতিবেদন প্রণয়নে ছিলেন আবদুল্লাহ তিতির, আহমেদ ইব্রাহীম, সিনথিয়া ফরিদ, রেজাউল করিম সিদ্দিকী ও তাজুল ইসলাম। 

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতায় ক্রিশ্চিয়ান এইড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি, নাগরিক উদ্যোগ ও ওয়েব ফাউন্ডেশন কর্তৃক যৌথভাবে বাস্তবায়িত ‘পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ’ প্রকল্পেরে আওতায় গবেষণাটি চারটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়- দলিত, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, লিঙ্গ বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠী এবং সমতলে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার প্রতি বৈষম্যমূলক আইন-নীতির বিশ্লেষণ করে। চারটি সম্প্রদায়ের সংবিধানে বর্ণিত অধিকারের আলোকে বর্তমান আইনি কাঠামোর সামঞ্জস্যতা বিশ্লেষণ করা হয়। 

আরও পড়ুন

×