ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রেসিং কার তৈরির আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ

টিম প্রাইমাসের স্বপ্নযাত্রা

রেসিং কার তৈরির আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ
×

কামরান সিদ্দিকী

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০১৯ | ১৯:৩০ | আপডেট: ০৩ জুলাই ২০১৯ | ০৪:১৮

বিশ্বের অটোমোটিভ ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার অন্যতম সেরা নাম 'ফরমুলা স্টুডেন্ট ইউকে'। 'ওয়ান সিটার রেসিং কার' তৈরির এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন হাজারেরও অধিক শিক্ষার্থী। চলতি মাসে হতে যাচ্ছে এ প্রতিযোগিতার ২১তম আসর। ইঞ্জিনিয়ারিং কলাকৌশলের শৈল্পিক এ প্রতিযোগিতায় প্রথমবারের মতো অংশ নিতে যাচ্ছেন একদল বাংলাদেশি তরুণ। আহছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩১ সদস্যের দলটি আগামী ১৭ থেকে ২১ জুলাই পাড়ি জমাবে বিলেতের নর্দাম্পটনশায়ারের 'সিলভার স্টোন সার্কিটে'। বিজয় ছিনিয়ে আনতে মরিয়া 'টিম প্রাইমাস'-এর সব সদস্য। পাশাপাশি জ্ঞান অর্জনের অভাবনীয় সুযোগের অপেক্ষার প্রহর গুনছেন এসব তরুণপ্রাণ।

স্বপ্ন পূরণের যাত্রায় বাধাও কম আসেনি। এক্ষেত্রে প্রথমেই উল্লেখ করতে হয় ইঞ্জিনের কথা। এই গাড়ি তৈরির জন্য প্রয়োজন ছিল '৬০০-৭১০ সিসি' বাইকের ইঞ্জিন। কিন্তু সর্বোচ্চ '১৬৫ সিসি' পর্যন্ত অনুমোদন আছে বাংলাদেশে। এ অবস্থায় কাঙ্ক্ষিত ইঞ্জিন আমদানির জন্য সরকারের কাছে টিমের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়। প্রচুর সময় লাগলেও ২০১৮ সালের শেষ দিকে অনুমতি মেলে। কঁাঁচামালের অপ্রাপ্যতা ছিল দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ। এজন্য যেতে হয় প্রতিবেশী দেশ ভারতে। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল এনে নিজেদের ক্যালকুলেশন আর ডিজাইনে শুরু হয় গাড়ি তৈরির কাজ।

টিম প্রাইমাসের অন্যতম সদস্য ইসমাইল হোসেন রাফি জানান, ফরমুলা স্টুডেন্ট ইউকেতে স্বদেশকে উপস্থাপন করার স্বপ্ন তাদের দীর্ঘদিনের। এজন্য মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২১ জন, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের পাঁচজন, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তিনজন নিয়ে শুরু  হয় তাদের স্বপ্নযাত্রা। টিমের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে রয়েছেন দুইজন শিক্ষক। তবে শুরুতেই সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে দাঁড়ায় গাড়ি তৈরির প্রয়োজনীয় কাঁচামালের অভাব। এরকম অনেক বাধা পেরিয়ে তারা এখন মূল লড়াইয়ের অনেকটাই কাছাকাছি।

প্রাথমিক বাছাইয়ে তারা সুযোগ পান বিজনেস লজিক কেইস- বিএলসির মাধ্যমে। বিএলসিতে তাদের গাড়ির উৎপাদন খরচ, গ্রাহক, বছরে উৎপাদিত পণ্যের সংখ্যা এবং দেশে-বিদেশে বিপণনের সম্ভাবনা বিষয়ে জানাতে হয়েছে। পরবর্তী সময়ে আরও কয়েকটি রিপোর্ট জমার মাধ্যমে চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে সর্বপ্রথম ও একমাত্র দল হিসেবে অংশ নিচ্ছেন তারা। অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ, লিভারপুল ইউনিভার্সিটির মতো জগৎখ্যাত প্রতিষ্ঠান এখন তাদের প্রতিযোগী। এ প্রসঙ্গে দলনেতা ও মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী অ্যান্টনি বিধান বিশ্বাস বলেন, সারা পৃথিবীতে তিনটি রেসিং কার প্রতিযোগিতা স্বনামধন্য। এর মধ্যে সর্বশীর্ষে রয়েছে সোসাইটি অব অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ার্স-এসএইর অধীনে 'ফরমুলা স্টুডেন্ট ইউকে' প্রতিযোগিতা। এতে বাংলাদেশ থেকে প্রথমবারের মতো তারা অংশ নিচ্ছেন। এছাড়া 'সেল ইকো-ম্যারাথন' ও 'ব্রিজস্টোন ওয়ার্ল্ড সোলার চ্যালেঞ্জ' প্রতিযোগিতার বেশ সুনাম রয়েছে।

টিম প্রাইমাসের সুপারভাইজার ও মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ড. খারশিদুজ্জামান রাসেল বলেন, প্রতিযোগিতায় ৩০ ধরনের ক্যাটাগরি রয়েছে। এরমধ্যে আমাদের মূল লক্ষ্য 'বেস্ট নিউ কামার অ্যাওয়ার্ড'। এ ছাড়া ফরমুলা স্পিরিট অ্যাওয়ার্ডের জন্য ইতিমধ্যে নির্বাচিত হয়েছি।

সাহায্যের আবেদন :গাড়ি তৈরি বাবদ এ পর্যন্ত টিমের খরচ হয়েছে ১৩ লাখ টাকা। সব খরচ বহন করেছেন টিম মেম্বাররা। কিন্তু গাড়িটি বিলেতে পাঠানো, সদস্যদের যাতায়াত এবং থাকা-খাওয়ার প্রয়োজনীয় খরচ জোগানো এখন সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশকে বিশ্বের মঞ্চে উপস্থাপনের এ সুযোগ যাতে ব্যাহত না হয়, সেজন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে আর্থিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন 'টিম প্রাইমাস'-এর সদস্যরা।

আরও পড়ুন

×