গত এক বছরে কত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে তার হালনাগাদ তথ্য নেই। তবে পারিপার্শ্বিক অবস্থা পর্যালোচনায় বলা যায়, আগে বেকারত্ব পরিস্থিতি যা ছিল, এখনও তাই আছে। সামগ্রিকভাবে হয়তো বেকারত্বের হার বাড়েনি; কিন্তু বড় সংখ্যায় চাকরির সুযোগ এবং উদ্যোক্তা সৃষ্টি হয়নি। মোট কথা, কর্মসংস্থান চিত্রের পরিবর্তন হয়নি।

বাংলাদেশে বছরে ১৮ লাখ তরুণ শ্রমবাজারে যুক্ত হন। এর মধ্যে গড়ে ছয় লাখ বিদেশে পাড়ি জমান। ১০ লাখের বেশি কর্মসংস্থান হয় দেশের শ্রমবাজারে। এর মধ্যে একটি অংশ পছন্দ ও যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পান না। বাকিরা বেকার থেকে যান। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি না হওয়া এবং দক্ষতার অভাবই বেকারত্বের বড় কারণ।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০১৬-১৭ সালের জরিপ অনুযায়ী, দেশে বেকারের হার ৪ দশমিক ২ শতাংশ। সরকারি উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএসের এক গবেষণায় দেখা গেছে, মাধ্যমিক থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীদের ৩৩ শতাংশের বেশি পুরোপুরি বেকার। শিক্ষিত ও অশিক্ষিত বেকারদের মধ্যে তারতম্য রয়েছে। শিক্ষিতদের বড় একটি অংশ পছন্দসই কাজ না পাওয়ায় বেকার হয়েছে। তারা 'ভালো' কাজ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। 'ভালো' কাজ না পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার মতো আর্থিক সামর্থ্য তাদের রয়েছে। কিন্তু অশিক্ষিত বেকারদের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়। এ কারণে এই শ্রেণিতে বেকারত্ব কম।

বাংলাদেশে শিক্ষিত তারুণ্যের বড় একটি অংশ বেকার থাকলেও ভারতীয়, শ্রীলংকানসহ বিদেশি কর্মীরা কাজ করছেন। এর কারণ কাজের জন্য যে দক্ষতা প্রয়োজন, বাংলাদেশি তরুণদের অনেকের মধ্যে তা নেই। বাস্তবতা হচ্ছে, ভারত বা শ্রীলংকার ডিগ্রির মান বাংলাদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তুলনায় অনেক ভালো। এ কারণেই নিয়োগকারীরা বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিচ্ছেন। আরও একটি কারণ রয়েছে, বিদেশি কর্মীরা কাজে যতটা মনোযোগী হন, বাংলাদেশি তরুণরা হয়তো ততটা হয় না। তারা ভালো সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন, কাজ পরিবর্তন করতে আগ্রহী থাকেন। এসব কারণে তাদের চেয়ে বিদেশিদের প্রাধান্য দিয়ে থাকেন নিয়োগকারীরা। তবে মূল পার্থক্য দক্ষতায়।

বেকারত্ব হ্রাসে দরকার কর্মসংস্থান সৃষ্টি; তবে তা রাতারাতি হবে না। এর জন্য দরকার বিনিয়োগ এবং চাকরি তৈরি করতে পারে এমন প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠা। বেকারত্ব দূর করার জন্য আশু করণীয় হলো- প্রশিক্ষিত জনশক্তি সৃষ্টি। সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তরুণদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। তবে গতানুগতিক নয়, উচ্চতর প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এমন প্রশিক্ষণ একজন প্রশিক্ষণার্থীকে উদ্যোক্তায় পরিণত করবে। এর জন্য উপজেলাভিত্তিক ম্যাপিং প্রয়োজন। যে উপজেলায় যেমন রিসোর্সের জোগান রয়েছে, তার ভিত্তিতে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। প্রশিক্ষণার্থীকে দক্ষ করে এবং ঋণ সুবিধা দিয়ে তার উদ্যোগ দাঁড় না হওয়া পর্যন্ত সহায়তা করতে হবে। এর মাধ্যমে বড় সংখ্যায় বেকারত্ব কমানো সম্ভব হবে।

লেখক :সাবেক গবেষণা পরিচালক, বিআইডিএস