মেস ভাড়া নিয়ে বিপাকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ: ০৪ মে ২০২০   

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে দেশব্যাপী লকডাউনের মধ্যে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। এতে অনেক শিক্ষার্থী চলে গেছেন নিজ নিজ বাড়িতে। তবে মেসে না থেকেও ভাড়া দেওয়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের হাজারো শিক্ষার্থী। 

প্রতিষ্ঠার ১৪ বছরেও আবাসন সংকটে রয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী কুমিল্লা শহর, কোটবাড়ি এবং ক্যাম্পাস এলাকায় মেস বা বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন। অধিকাংশ শিক্ষার্থী টিউশনি করিয়ে বাসা ভাড়াসহ নিজেদের খরচ চালিয়ে থাকেন। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় টিউশনি করতে পারছেন না শিক্ষার্থীরা। অনেক শিক্ষার্থীর পারিবারিক আয় বন্ধ থাকায়ও বিপাকে পড়েছেন তারা। এমতাবস্থায় মেস ভাড়া দিতে পারবেন কিনা, এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এমন সংকটের মধ্যেও মেস বা বাসার মালিকরা ফোন করে ও খুদেবার্তা পাঠিয়ে বারবার ভাড়া পরিশোধের চাপ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থী ইসতিয়াক হোসেন বলেন, ‘আমরা অনেকে টিউশন বা খন্ডকালীন চাকুরীর মাধ্যমে নিজেদের খরচ নিজেরাই বহন করে থাকি। দেশের এই পরিস্থিতিতে সবকিছু বন্ধ থাকার পরও বাড়ি ভাড়া নিয়ে আমাদের উপর খুব চাপ দেওয়া হচ্ছে।’

বাসা ভাড়া করে থাকেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন ১০ জন শিক্ষার্থী জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাসা ভাড়া দেয়া কঠিন। মানবিক দিক বিবেচনা করে বাড়িওয়ালাদের সিদ্ধান্ত নেয়ার অনুরোধ জানান তারা। সাথে বাসা ভাড়া নিয়ে যেনও বাড়ির মালিকরা জোরজবরদস্তি না করেন, এমন বিজ্ঞপ্তি দেয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানান শিক্ষার্থীরা।

মানবিক বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মেস বা বাসা ভাড়া মওকুফের অনুরোধ জানিয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা টিউশনি করে মেস কিংবা বাসা ভাড়া দিয়ে থাকে। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে টিউশনি বন্ধ ও সবাই নিজ নিজ বাড়ি চলে গেছে। তাই ভাড়া নিয়ে সমস্যা পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।' তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থীদের সমস্যার কথা বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক এবং কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনকে শিগগিরই বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার জন্য অনুরোধ করবেন।