ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এইচটিটিপুল

বিজ্ঞাপন সমস্যায় বাংলাদেশের ফেসবুক

বিজ্ঞাপন সমস্যায় বাংলাদেশের ফেসবুক
×

সাব্বিন হাসান

প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ২৮ এপ্রিল ২০২৩ | ১২:৩৮

মার্কিন ডলার সংকটের কারণে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের ফেসবুকে বিজ্ঞাপন প্রচারে কিছুটা ভাটা পড়েছে। বাংলাদেশে ফেসবুকের অন্যতম প্রতিষ্ঠান (মেটা) অনুমোদিত বিজ্ঞাপনী সংস্থা এইচটিটিপুল তাদের গ্রাহকদের কাছে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে তথ্যটি নিশ্চিত করেছে।
এইচটিটিপুল বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিচালক সানি নাগপাল জানিয়েছেন, পরবর্তী নোটিশ না দেওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে মেটার সেবা সাময়িকভাবে পাওয়া যাবে না বা সীমিত থাকবে। ডলার সংকট ও বিদেশে টাকা পাঠাতে জটিলতা হওয়ার কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে এইচটিটিপুল জানিয়েছে, সৃষ্ট পরিস্থিতির কারণে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের (ফেসবুক) গ্রাহকের জন্য তাদের প্রস্তাবিত বিজ্ঞাপন সীমিত হবে। ফলে ভবিষ্যতে ডিজিটাল বিজ্ঞাপন প্রচারে (ক্যাম্পেইন) প্রত্যাশিত বরাদ্দ তারা পাবে না। তা ছাড়া কোনো কোনো গ্রাহকের চলতি বা আসন্ন বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধ বা বাতিলও হয়ে যেতে পারে।
সাময়িক অসুবিধার কারণে বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে এইচটিটিপুল। তারা বলেছে, দ্রুত সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার সমকালকে বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক অর্থ লেনদেন নীতি মেনে শুল্ক ও কর পরিশোধ করে তবেই বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা করা উচিত। বাংলাদেশে ৫ কোটিরও বেশি ফেসবুক ব্যবহারকারী। কিন্তু প্রকৃত আইডি নিয়েও প্রশ্ন আছে। সুতরাং, বাংলাদেশ থেকে ব্যবসা করে ডলার নিয়ে যেতে হলে এ দেশের নিয়মনীতি মেনেই ব্যবসা করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকের সঙ্গে আলোচনা হলেও তা নিয়ে কোনো নিষ্পত্তি হয়নি।

সূত্র বলছে, বাংলাদেশে ই-কমার্স ব্যবসার বড় অংশ ফেসবুককেন্দ্রিক ব্যবসা করে। যারা মূলত ফেসবুকে নিজেদের ব্যবসা সেবার পেজ খুলে ব্যবসা পরিচালনা করছে। ব্যবসা প্রচারে তারা ফেসবুক বা মেটার অন্যসব প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে।
ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) সূত্র বলছে, চলমান ডলার সংকটের ধাক্কা ই-কমার্স ব্যবসায়ও পড়েছে। কিন্তু ঈদুল ফিতরে উদ্যোক্তারা কিছুটা ব্যবসার সুযোগ পেয়েছেন। ঈদের বাজারে ডিজিটাল লেনদেন হয় প্রায় ১ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিজ্ঞাপন কমলে ফেসবুকভিত্তিক ব্যবসা কিছুটা ক্ষতির মুখে পড়বে। বিজ্ঞাপনের জন্য যাঁদের কম বাজেট মূলত তাঁরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। সাধারণত যাঁরা ১০০ ডলারের নিচের অর্থে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকেন তাঁরাই আপাতত সমস্যায় পড়বেন। তবে তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না।

বাংলাদেশ উইমেন ইন টেকনোলজির (বিডব্লিউআইটি) সভাপতি ও স্টার কম্পিউটার্স সিস্টেমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রেজওয়ানা খান সমকালকে বলেন, ডিজিটাল বিজ্ঞাপন (ফেসবুক) নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে। এইচটিটিপুল হচ্ছে বাংলাদেশে ফেসবুক নিযুক্ত বিজ্ঞাপন প্রতিনিধি। তাদের মাধ্যমে যাঁরা বাংলাদেশে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন প্রচার করে থাকেন তাঁরাই মূলত সমস্যায় পড়ছেন।

যদি কারও নিজস্ব ডুয়াল কারেন্সি (ডলার) কার্ড থাকে তাহলে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিতে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। যাঁরা ফেসবুক কমার্সে (এফ-কমার্স) ব্যবসা করছেন ও সরাসরি ভ্যাট, ট্যাক্স দেন না তাঁরাও সমস্যায় পড়বেন। বর্তমানে এইচটিটিপুল ফেসবুককে ডলার পেমেন্ট করতে সমস্যায় পড়েছে। যাঁরা প্রকৃত ই-কমার্স ব্যবসা করছেন তাঁদের ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিতে কোনো সমস্যা হবে না।

উইমেন অ্যান্ড ই-কমার্স ফোরামের (উই) সভাপতি ও ই-ক্যাবের যুগ্ম সম্পাদক নাসিমা আক্তার সমকালকে বলেন, উদ্যোক্তাদের ভয়ের কোনো কারণ নেই। কিছু দিনেই মধ্যেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। বাংলাদেশে মেটার প্রতিনিধি সংস্থা এইচটিটিপুল ছাড়াও অনেক প্রতিষ্ঠান ফেসবুকে বুস্টিং সেবা দিয়ে থাকে। ই-ক্যাব থেকে দুই ধরনের কার্ড দেওয়া হয়। ইসলামী ব্যাংক ও এমটিবি ডুয়াল কারেন্সি কার্ডের মাধ্যমে উদ্যোক্তারা ঝামেলা ছাড়াই ফেসবুকে বুস্ট করতে পারেন। আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু হয়নি। বিজ্ঞাপন সাময়িক সীমিত হতে পারে। ‘উই’ ফোরামের উদ্যোক্তারা খুব বেশি বুস্টিং করে না। বরং তারা অর্গানিক মার্কেটিং করে ব্যবসা করে।


বাংলাদেশের ডিজিটাল বিজ্ঞাপনী সংস্থা অ্যাডফিনিক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) লুতফি চৌধুরী সমকালকে বলেন, ডিজিটাল (ফেসবুক) বিজ্ঞাপন সীমিত হওয়ায় পুরো ইন্ডাস্ট্রিতেই প্রভাব ফেলবে। এখন নিজেদের ঘরোয়া ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের দিকে নজর দেওয়ার সময় এসেছে। ডিজিটাল বিজ্ঞাপনদাতাদের দেশি সাইটে বিজ্ঞাপন বাড়ানোর কথা ভাবতে হবে। ফলে দেশি প্রতিষ্ঠান ও পোর্টালগুলো উপকৃত হবে। সৃষ্ট সংকট নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ দিচ্ছে। আর বিদেশি নির্ভরতা কমানোর বিষয়টি আলোচনায় নিয়ে আসছে।


আরও পড়ুন

×