ওপরে ওঠার সিঁড়ি মন্ত্রী এমপির ‘তদবির’
সাব্বির নেওয়াজ
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ০১ আগস্ট ২০২৩ | ০৪:৫৭
নিয়ম নেই, তবু সরকারের শেষ সময়ে এসে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও পদায়ন দিতে মন্ত্রী-এমপিদের তদবিরের ‘স্রোত’ বইছে। এ জন্য জনপ্রতিনিধিদের তরফ থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে জমা পড়ছে একের পর এক আধা-সরকারি পত্র (ডিও)। একশ্রেণির সরকারি কর্মকর্তার অনুরোধে মন্ত্রী-এমপিরাও হরদম দিচ্ছেন ডিও লেটার। কেউ কেউ পছন্দের কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিতে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ও সিনিয়র সচিবকে সরাসরি টেলিফোন করে অনুরোধ জানাচ্ছেন। নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারীর পদোন্নতিতে ডিও লেটার বিবেচনায় আসার কথা নয়। পদোন্নতির জন্য যোগ্যতা, মেধা, জ্যেষ্ঠতা, সততা, কর্মদক্ষতাই মাপকাঠি। তবু ডিও লেটারে ‘কাজ হয়’– এমনটাই মনে করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই তদবিরের কারণে প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। ক্যাডার কর্মকর্তারা মর্যাদা হারাচ্ছেন। এ ধারা থেকে বের হতে হবে। কারণ, এটি সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালার পরিপন্থি ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডিও লেটারের ছড়াছড়ি মূলত সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব ও উপসচিবের পদোন্নতি নিয়ে। গুরুত্বপূর্ণ, অর্থাৎ ‘কর্মব্যস্ত’ দপ্তরে পদায়ন পেতেও অনেক কর্মকর্তা ডিও লেটারের পেছনে ছুটছেন। এমনকি বদলির আদেশ বাতিলের জন্যও মন্ত্রীর চিঠি যাচ্ছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে। এ ছাড়া জেলা প্রশাসকসহ গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর ও অধিদপ্তরে পদায়ন পেতে ডিও লেটার যেন এখন ‘মামুলি’। আধা-সরকারি পত্রের অত্যধিক চাপে জনপ্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাই তিতিবিরক্ত।
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, শিগগিরই দেওয়া হবে যুগ্ম সচিবদের পদোন্নতি। এরপর হতে পারে অতিরিক্ত সচিব ও সচিব পর্যায়ে। পরে খোলা হবে উপসচিবদের পদোন্নতির ফাইল। এসব পদোন্নতি ঘিরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এখন জমজমাট।
ডিও লেটার চালাচালি
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী নির্দিষ্ট কোনো কর্মকর্তাকে পদোন্নতি কিংবা পদায়ন দিতে চিঠি দিচ্ছেন। এমন কয়েকটি ডিও লেটারের অনুলিপি সমকাল সংগ্রহ করেছে।
উপসচিব মো. আব্দুল আখের (পরিচিতি নম্বর ২০৩৮৫) বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ২০তম ব্যাচের কর্মকর্তা। তাঁকে যুগ্ম সচিবে পদোন্নতি দিতে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল ডিও লেটার দেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের কাছে। গেল ১২ জুন দেওয়া ওই চিঠিতে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আব্দুল আখেরকে সরকারের অনুগত, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, বিনয়ী, কর্মঠ, দক্ষ, সৎ, নিষ্ঠাবান বিশেষণে বিশেষায়িত করেন। তিনি উপসচিব থেকে যুগ্ম সচিব হলে সরকারের উন্নয়নমূলক কাজগুলো আরও বেগবান হবে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রঞ্জিত কুমার দাসকে পদোন্নতি দিয়ে গ্রেড-১-এ নিতে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীকে গেল ২৯ মে ডিও লেটার দেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী। চিঠিতে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, রঞ্জিত কুমার দাস প্রশাসন ক্যাডারের দশম ব্যাচের একজন দক্ষ ও মেধাবী কর্মকর্তা হিসেবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে কর্মরত। তিনি তথ্যপ্রযুক্তি ও তাঁর উদ্ভাবনী শক্তি ব্যবহার করে প্রতিটি কর্মস্থলে ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে পেশাগত দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। তাঁকে পদোন্নতি দেওয়া হলে তিনি আরও বেশি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। তাঁর পদোন্নতির বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনার জন্য আপনার (জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী) ব্যক্তিগত সহযোগিতার জোর সুপারিশ করছি।
মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মাহাবুবুর রহমানকে সচিব হিসেবে পদোন্নতি দিতে অনুরোধ জানিয়ে গত ৬ জুন ডিও লেটার দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। চিঠিতে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে তিনি দুই বছরে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের সর্বক্ষেত্রে শৃঙ্খলা আনয়ন ও সব সেবা ডিজিটাল যুগোপযোগীকরণের মাধ্যমে ট্রাস্টকে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সক্ষম হন। একই মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য শাজাহান খান। ৪ জুলাই দেওয়া চিঠিতে এস এম মাহাবুবুর রহমানের প্রশংসা করে শাজাহান খান লেখেন, মাহাবুবুর রহমান মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের অভূতপূর্ব উন্নয়ন করেছেন। ট্রাস্টের প্রতিটি শিল্প/বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম দূর করে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনেছেন; লাভজনক করেছেন। মাহাবুবুর রহমান বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য।
পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মইনুল হক আনসারীকে সচিব হিসেবে পদোন্নতি দিতে অনুরোধ জানিয়ে গেল ৫ জুন ডিও লেটার দেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। যদিও প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী দাবি করেছেন, তিনি পদোন্নতির জন্য কাউকে ডিও লেটার দেননি। এ ব্যাপারে মইনুল হকের মোবাইলে ফোন করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. সাইফুল ইসলামকে (পরিচিতি নম্বর ৭৯৩৪) যুগ্ম সচিব হিসেবে পদোন্নতি দিতে সুপারিশ করে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীকে ডিও লেটার দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। গত ৯ জুলাই দেওয়া চিঠিতে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, মো. সাইফুল ইসলাম রাজনৈতিক ও পারিবারিকভাবে আমার দীর্ঘদিনের পরিচিত। তিনি বিসিএস (সমবায়) ক্যাডারের ২০তম ব্যাচের সৎ, দক্ষ ও যোগ্য কর্মকর্তা। আমার জানামতে, কর্মক্ষেত্রে তাঁর রয়েছে যথেষ্ট সুনাম। তাঁকে যুগ্ম সচিব হিসেবে পদোন্নতি দিলে তিনি স্বীয় যোগ্যতায় বর্তমান সরকারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন বলে আমি বিশ্বাস করি। চিঠিতে কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, আমার জানামতে, মো. সাইফুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ফজলুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তাঁর পরিবারের সব সদস্য মহান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের।
শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন তাঁর মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. মোমিনুর রশীদকে (পরিচিতি নম্বর ১৫৩৫১) যুগ্ম সচিব হিসেবে পদোন্নতি দিতে ডিও লেটার দিয়েছেন। গত ৪ জুলাই দেওয়া চিঠিতে শিল্পমন্ত্রী উল্লেখ করেন, মো. মোমিনুর রশীদ শিল্প মন্ত্রণালয়ে সততা, দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি মাঠ পর্যায়ে চাকরিকালে প্রতিটি কর্মস্থলে একজন সৎ ও জনবান্ধব কর্মকর্তা হিসেবে সুপরিচিত।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব বেগম কামরুন নাহারকে (পরিচিতি নম্বর ২০১৯১) পদোন্নতি দিয়ে গ্রেড-১-এ নিতে সুপারিশ করে ডিও লেটার দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। মন্ত্রী চিঠিতে উল্লেখ করেন, বেগম কামরুন নাহার বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ১১তম ব্যাচের একজন দক্ষ ও মেধাবী কর্মকর্তা। তিনি ও তাঁর পরিবার মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী। পদোন্নতি দিলে তিনি দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন বলে বিশ্বাস করি।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. মনিরুজ্জামানকে (পরিচিতি নম্বর ১৫৪০৮) যুগ্ম সচিব হিসেবে পদোন্নতি দিতে অনুরোধ জানিয়ে ডিও লেটার দিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের এমপি সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে এই এমপি উল্লেখ করেন, মো. মনিরুজ্জামান আমার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন, তাঁর বাড়ি আমার নির্বাচনী এলাকায়। তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী পরিবারের সন্তান।
বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিমকে পদোন্নতি দিয়ে গ্রেড-১-এ নিতে সুপারিশ করে ডিও লেটার দিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। মাত্র চার মাস আগে হাই-টেক পার্কে যোগ দেওয়া এই কর্মকর্তার পদোন্নতির অনুরোধ জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী চিঠিতে উল্লেখ করেন, এ পদটি জাতীয় বেতন স্কেলের গ্রেড-১ ভুক্ত। এর আগে গ্রেড-১ ভুক্ত কর্মকর্তা ছাড়াও সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তারা এখানে ছিলেন। বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ত্রয়োদশ বিসিএসের কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাউল করিমকে পদোন্নতি দিয়ে গ্রেড-১ দেওয়া হলে তাঁর কর্মস্পৃহা বৃদ্ধি পাবে এবং হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের সার্বিক কাজের গতিশীলতা আরও বাড়বে বলে আমি বিশ্বাস করি।
উপসচিব ড. মো. নুরুল আমিনকে (পরিচিতি নম্বর ৮০০০) যুগ্ম সচিব হিসেবে পদোন্নতির জন্য ডিও লেটার দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। গত ১৩ জুলাই জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে মন্ত্রী লিখেছেন, ড. মো. নুরুল আমিন বিসিএস (কর) ক্যাডারের ২০তম ব্যাচের একজন দক্ষ মেধাবী কর্মকর্তা এবং আমার পরিচিত। তিনি বর্তমানে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে কর্মরত। তিনি ও তাঁর পরিবার মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী। তাঁকে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হলে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন বলে বিশ্বাস করি।
বদলির আদেশ বাতিল চেয়ে প্রতিমন্ত্রীর চিঠি
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মোশাররফ হোসেনের (পরিচিত নম্বর ৭৫১৭) বদলির আদেশ বাতিল চেয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীকে ডিও লেটার দিয়েছেন ওই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে বর্তমান সার্বিক কার্যক্রমে আরও গতিশীল করতে দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তার বিকল্প নেই। মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মোশাররফ হোসেন ১১তম ব্যাচের একজন মেধাবী, দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তা। তাঁকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আদেশে বদলি করা হয়। বর্তমানে অতিরিক্ত সচিবের একটি পদ শূন্যসহ তাঁকে অবমুক্ত করা হলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত সচিবের চারটি পদের মধ্যে একটি শূন্য হয়ে যাবে। ফলে মন্ত্রণালয়ের কাজের গতিশীলতা কমে যাবে। বদলির আদেশ বাতিল করা হলে তাঁর দীর্ঘ কর্মঅভিজ্ঞ এ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম বাস্তবায়ন বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
কারা কী বলছেন
এ ব্যাপারে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা সমকালকে বলেন, কর্মকর্তারা নিজ উদ্যোগে এমপি-মন্ত্রী কিংবা সচিবের কাছে ডিও লেটারের জন্য ধরনা দিলে সেটি স্পষ্টতই চাকরি বিধিমালার লঙ্ঘন। কারণ, তারা নিজেদের পদোন্নতি, পদায়ন কিংবা অন্য কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য কাউকে দিয়ে সুপারিশ করাতে পারেন না। যদি কেউ নিজের স্বার্থে ডিও লেটার নেন, তা হলে সেটি যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ, ডিও লেটার নিয়ে পদোন্নতির ঘটনা প্রশাসনের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে হবে। তবে তিনি এও বলেন, কোনো মন্ত্রী বা সচিব যদি কোনো সরকারি দপ্তরের স্বার্থে কোনো দক্ষ কর্মকর্তাকে সেখানে নিতে চান, সেটি দোষের নয়।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ মো. ফিরোজ মিয়া সমকালকে বলেন, ‘ডিও লেটারের রীতি প্রশাসনের জন্য ভালো লক্ষণ নয়। এটি বন্ধের উদ্যোগ নিতে হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করা যেতে পারে। নির্দেশনায় বলা থাকবে, কেউ ডিও লেটার আনলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ডিও লেটারের রীতি চলতে থাকলে যেসব কর্মকর্তা ডিও লেটার সংগ্রহ করতে পারবেন না, তারা কি তাহলে পদোন্নতি পাবেন না? এগুলো বন্ধ হওয়া উচিত। কৌশল হিসেবে অনেক কর্মকর্তা বলার চেষ্টা করেন, ডিও লেটার তিনি নিজে নেননি। মন্ত্রী বা এমপি স্বপ্রণোদিত হয়ে দিয়েছেন।’
সাবেক সচিব আবু আলম মো. শহীদ খান সমকালকে বলেন, এটা নতুন নয়, আগেও ছিল। বর্তমানে তা মহামারি রূপ নিয়েছে। পদোন্নতি ও পদায়নের জন্য কর্মকর্তারা এখন রাজনীতিবিদদের পেছনে দৌড়াচ্ছেন। রাজনীতিবিদরাও তা এনজয় করছেন। তিনি বলেন, পদোন্নতি ও পদায়নের জন্য ডিও লেটারের মাধ্যমে সুপারিশ করানো যে অন্যায়, এটা যে আইনসিদ্ধ নয়, এটা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মচারীরাও জানেন, যারা ডিও লেটার দেন সেই জনপ্রতিনিধিরাও জানেন। তবু এই অনিয়মই এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। এর থেকে কোনো পরিত্রাণ দেখছি না।
কী বলছেন জনপ্রশাসন সচিব
পদোন্নতি ও পদায়নের জন্য জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া ডিও লেটার ও সুপারিশ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গ্রহণ করে কিনা– এ প্রশ্নে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ্ উদ্দিন চৌধুরী গতরাতে সমকালকে বলেন, এমন একটি বিষয়ে প্রশ্ন করেছেন, যে বিষয়ে সরাসরি কিছু বলা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। এসব বিষয়ে তথ্য-পরিসংখ্যানও আমার কাছে নেই। থাকলে হয়তো বলতে পারতাম।
- বিষয় :
- তদবির
- কর্মকর্তাদের পদোন্নতি