প্রতিটি মামলা যেন যৌক্তিক সময়ে শেষ হয়
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬ | ০৮:৩০
| প্রিন্ট সংস্করণ
রাজধানীতে এক সভায় বক্তারা বলেছেন, হত্যা, ধর্ষণসহ সকল অপরাধের মামলার সুবিচার নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। শুধু বিশেষ পরিস্থিতিতে একজনের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বিচার করলেই হবে না। প্রতিটি মামলায় যেন আইনে নির্ধারিত ও যৌক্তিক সময়ে বিচার শেষ করা হয়। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে যথাযথ সুরক্ষা দিয়ে কার্যকর তদারকির মাধ্যমে রাষ্ট্র এবং সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘ধর্ষণ ও নির্যাতন: আইনগত সুরক্ষা নিশ্চিতে করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) এ আয়োজন করে।
বক্তারা বলেন, চলমান ধর্ষণ মামলাগুলোর ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কার্যকর তদারকি বাড়াতে হবে। তদন্ত পরিচালনার ক্ষেত্রে ডিএনএ ও ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধীকে শাস্তি দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে নারী ও শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতন প্রতিরোধে বিদ্যমান আইন, বিচারিক প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা, ভুক্তভোগী ও সাক্ষী সুরক্ষা, যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার মামলার তদারকি ব্যবস্থা, বিচারবহির্ভূত শাস্তি ও ‘মব’ সহিংসতার প্রভাব এবং ভুক্তভোগীর গোপনীয়তা রক্ষায় করণীয় বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় বলা হয়, গত বছর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে ৭৪৯টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছর জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চার মাসে ১১৮ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে হত্যা করা হয়েছে ১৭ শিশুকে। মে মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৭৮ জন।
আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন পরিবর্তন করে অপরাধ কমানো যাবে না। বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে বিচারক, আইনজীবী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। তাছাড়া মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে।
আইন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি জিনাত আরা বলেন, আইন ও নৈতিকতা মেনে ধর্ষণ মামলার বিচার করতে হবে। আবেগী হলে চলবে না। শোনা যায়, নারী নির্যাতনের শতকরা ৮০ ভাগ মিথ্যা মামলা হয়ে থাকে। আবার টাকা নিয়ে আদালতে এসে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া হচ্ছে। এগুলো আদালত এবং পুলিশকে তদারকি করতে হবে।
ব্লাস্টের অনারারি নির্বাহী পরিচালক ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে আমরা দেখেছি, কোনো কোনো ঘটনা আলোড়ন সৃষ্টি করে। জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ওঠে। অনেক ক্ষেত্রে রাষ্ট্র সেই চাপের পরিপ্রেক্ষিতে পদক্ষেপ নেয়। শুধু আলোচিত মামলাগুলোই নয়, সব ক্ষেত্রে আইনের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা জরুরি।
- বিষয় :
- মামলা