জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবে দুদক: নতুন চেয়ারম্যান
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন দুদক চেয়ারম্যান এ কে এম আসাদুজ্জামান
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬ | ১৬:১৩ | আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০২৬ | ২১:৩৬
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) স্বাধীনভাবে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির নতুন চেয়ারম্যান সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, দুদকের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবেন তারা। আজ বুধবার দুদক কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় নতুন দুই কমিশনার ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়া উপস্থিত ছিলেন।
নতুন চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা কাজ শুরু করেছি। দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করতে চাই। দুদকের ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনা হবে। দেশ থেকে দুর্নীতি দূর করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করব।’
এর আগে মঙ্গলবার সকালে নতুন চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার আনুষ্ঠানিকভাবে দুদকে যোগ দেন। পরে তাঁরা কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং দায়িত্ব ও কার্যক্রম নিয়ে কথা বলেন।
গত ৩ মার্চ আগের কমিশনের পদত্যাগের পর প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস পর নতুন কমিশন দায়িত্ব নিল। নতুন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান এবং কমিশনার হিসেবে ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়া দায়িত্ব নিয়েছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের দুর্নীতি, সাবেক একজন রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ সেগুলো আপনারা তদন্ত করবেন কি না এই প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের সামনে এখনও সে ধরণের কোন ফাইল আসেনি। আমাদের কাছে সেগুলো আসলে আমরা যা করবো আপনারা নিজেরাই দেখতে পারবেন। এসব নিয়ে আগাম কথা বলতে চাই না। কাজের মধ্য দিয়েই আমাদের অবস্থান জানাতে চাই। সবক্ষেত্রে আমরা স্বাধীনভাবে কাজ করবো।’
কমিশনার ড. জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, ‘আপনারা দেখবেন, বৃক্ষ তোমার নাম কি- ফলে পরিচয় হবে।’
কমিশনার ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়া বলেন, ‘আমরা প্রতিটি বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ ও নিরপেক্ষভাবে সিদ্ধান্ত নেব। আপনা অতি অল্প সময়েই এর অগ্রগতি জানতে পারবেন।’
এ. কে. এম. আসাদুজ্জামান
দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনারদ্বয়ের কর্মজীবন সম্পর্কে তথ্য দিয়েছে দুদক। তাতে বলা হয়, এ. কে. এম. আসাদুজ্জামান বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অবসর গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি দীর্ঘকাল হাইকোর্ট বিভাগে বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ১৯৫৯ সালের ১ মার্চ নওগাঁ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৮৩ সালে তিনি জেলা আদালতের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ১৯৮৫ সালে হাইকোর্ট বিভাগের এবং ২০০১ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন তিনি।
জাহাঙ্গীর আলম খান
কমিশনার ড. জাহাঙ্গীর আলম খান অবসরপ্রাপ্ত সাবেক সচিব। তিনি বিসিএস (প্রশাসন) ১৯৮৫ ব্যাচের কর্মকর্তা ছিলেন। ১৯৬৩ সালের ৬ জুলাই মানিকগঞ্জ জেলায় জন্ম গ্রহণ করেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিভাগে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮৮ সালে সরকারি চাকরিতে যোগদান করে ম্যাজিস্ট্রেট ও পরবর্তীতে জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সরকারি চাকরির পাশাপাশি তিনি ২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশের কয়েকটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনের খণ্ডকালীন অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়া
কমিশনার ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক সদস্য ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (এফআরসি) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৫ অক্টোবর ১৯৬৩ সালে কুমিল্লা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিন্যান্স বিভাগে বি.কম (সম্মান) এবং এম.কম ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ, এবি ব্যাংকের প্রবেশনারী অফিসার ছিলেন। এছাড়াও তিনি ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের প্রভাষক ছিলেন। এছাড়াও তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগ, ব্যাংকিং বিভাগ, আন্তর্জাতিক ব্যবসা বিভাগ এবং আইবিএ এর খন্ডকালীন শিক্ষক ছিলেন।
- বিষয় :
- দুদক
- নতুন চেয়ারম্যান