শিক্ষকদের মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু ডাকসুর, বিতর্ক
ছবি: ফাইল
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৪:১৮ | আপডেট: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৪:৩৯
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের মূল্যায়নে ওয়েবসাইট চালু করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। গত ১১ সেপ্টেম্বর ডাকসুর সহসভাপতি আবু সাদিক কায়েম, কার্যনির্বাহী সদস্য উম্মে উসওয়াতুন রাফিয়াসহ নেতারা সংবাদ সম্মেলন করে ‘ডিউইভালুয়েশন’ নামে ওয়েবসাইটটি উদ্বোধন করেন। তবে বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
গতকাল রোববার সন্ধ্যায় উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম উষ্মা প্রকাশ করেছেন। তিনি সমকালকে বলেন, ডাকসু শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কে ঘাটতি তৈরি করেছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে রোববার ওয়েবসাইটে দেখা যায়, ওয়েবসাইটটির উন্নয়নের জন্য ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রিভিউ গোপন রাখা হয়েছে। তবে সমকাল গত ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওয়েবসাইটের রিভিউগুলো উন্মুক্ত ডিজিটাল টুল ব্যবহার করে সংগ্রহ করেছে।
এতে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট দুই হাজার ৪৫ জন শিক্ষকের মধ্যে এক হাজার ২৪৩ জন, অর্থাৎ ৬০ দশমিক ৮ শতাংশ শিক্ষক রিভিউ পেয়েছেন। বাকি ৮০২ জন শিক্ষকের কোনো রিভিউ পাওয়া যায়নি। রিভিউ পাওয়া শিক্ষকদের মধ্যে ৬৩৩ জনের গড় রেটিং ৪ বা তার বেশি, যা মোট রিভিউ পাওয়া শিক্ষকের ৫০ দশমিক ৯ শতাংশ। এর মধ্যে ১৪৮ জন শিক্ষক পূর্ণ ৫ রেটিং পেয়েছেন এবং ৪ থেকে ৪ দশমিক ৯৯ রেটিং পেয়েছেন ৪৮৫ জন।
এ ছাড়া ৩ থেকে ৩ দশমিক ৯৯ পেয়েছেন ২৩৫ জন, ২ থেকে ২ দশমিক ৯৯ পেয়েছেন ১৯২ জন এবং ২-এর নিচে রেটিং পেয়েছেন ১৮৩ জন শিক্ষক, যা মোট শিক্ষকের প্রায় ১৫ শতাংশ।
ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ডাকসুর কার্যনির্বাহী সভায় পাস হওয়া থেকে নানা অনুরোধের পরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এটি চালু করার সদিচ্ছা দেখায়নি। তাই প্রশাসনের আশায় বসে না থেকে আমরা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে শিক্ষক মূল্যায়নের জন্য ওয়েবসাইটটি তৈরি করছি। এতে করে আমাদের শিক্ষকদের মধ্যে জবাবদিহিতা এবং পেশাদারিত্ব আরও বেশি শক্তিশালী হবে, পাঠদান মানসম্মত হবে।
ওয়েবসাইটে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের কোর্স অনুযায়ী শূন্য থেকে ৫ পর্যন্ত পয়েন্ট দিতে পারেন এবং রিভিউ লিখতে পারেন। তবে শিক্ষার্থীর রিভিউ ম্যানুয়ালি যাচাই করে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে ইনস্টিটিউশনাল মেইলের মাধ্যমে সাইন করলে একটি কোড পান, সেটি প্রবেশ করিয়ে সাইন ইন করে শিক্ষার্থী শুধু তাঁর ডিপার্টমেন্টের শিক্ষকদের রিভিউ দিতে পারেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. খোরশেদ আলম বলেন, শিক্ষক মূল্যায়নের নামে ডাকসু যেটা করছে, তা অনধিকার চর্চা। এর ফলে এখন অনানুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষকদের রেটিং হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় পরিসরে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে, যা পরে মবে রূপান্তরিত হতে পরে। শিক্ষার্থীরা শিক্ষক মূল্যায়নের ইতিবাচক ফলাফল থেকে বঞ্চিত হবে। আমি বরং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে শিক্ষক মূল্যায়নে যথাদ্রুত উদ্যোগ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাই।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম আরও বলেন, শিক্ষক মূল্যায়ন চালুর বিষয়টি প্রশাসন ইতোমধ্যে অনুমোদন করেছে এবং ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে তা বাস্তবায়ন করা হবে। তবে ডাকসু সেটাকে হঠাৎ করে নিজের মতো করে একটা মূল্যায়ন করেছে, যা ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের একটা ঘাটতি তৈরি করেছে। আমরা এই বিষয়ে ইউনিভার্সিটির আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।
ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য উম্মে উসওয়াতুন রাফিয়া ফেসবুকে পোস্টে উল্লেখ করেন, ডাকসু নির্বাচনে দাঁড়ানোর সময় আমার প্রথম এবং প্রধান ইশতেহার ছিল শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করা। অবশেষে সিদ্ধান্ত নিলাম প্রশাসনের বাইরে গিয়ে হলেও কিছু করে যাওয়া চাই। সে জায়গা থেকে উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষকদের নেতিবাচক মনোভাব থাকলেও শিক্ষার্থীরা এটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অনেকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন বলেন, শিক্ষক মূল্যায়নের মাধ্যম শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে শিক্ষকরা বুঝতে পারবেন– তাদের ঘাটতি কোথায় আছে।