ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডাকসু সংগ্রহশালায় ইতিহাসের পূর্ণাঙ্গ উপস্থাপনা চায় উদীচী

ডাকসু সংগ্রহশালায় ইতিহাসের পূর্ণাঙ্গ উপস্থাপনা চায় উদীচী
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৮:৪২

সংস্কারের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালা পুনরায় চালু হলেও সেখানে ঐতিহাসিক আলোকচিত্র ও দলিলের উপস্থাপন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। সংগঠনটির অভিযোগ, সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি সংযোজন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভূমিকার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু আলোকচিত্রের উপস্থাপনায় পরিবর্তন জনমনে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এ অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস যথাযথ মর্যাদা ও পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপটে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান উদীচীর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিম ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সংগীতা ইমাম।

সংগঠনটির বিবৃতিতে বলা হয়, সংস্কারের পর চালু হওয়া ডাকসু সংগ্রহশালায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষের ইতিহাস, বিভিন্ন গণআন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক জুলাই অভ্যুত্থানের আলোকচিত্র স্থান পেয়েছে। তবে প্রদর্শনীতে ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব ও ঘটনাবলির উপস্থাপনায় পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে উদীচী।

বিবৃতিতে উদীচীর নেতারা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালায় প্রদর্শিত ছবি ও দলিলের নির্বাচন এবং বিন্যাসের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক বাস্তবতা ও প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা অর্জনের দীর্ঘ সংগ্রামকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তাঁরা।

উদীচীর মতে, পাকিস্তানি রাষ্ট্রব্যবস্থার রাজনৈতিক চরিত্র এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সঙ্গে তার সম্পর্কও ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কোনো ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব বা ঘটনাকে প্রেক্ষাপটের বাইরে উপস্থাপন করা হলে দর্শনার্থীদের কাছে ইতিহাসের পূর্ণাঙ্গ চিত্র অস্পষ্ট হয়ে যেতে পারে।

সংগঠনটি মনে করে, সংগ্রহশালার কাজ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বয়ান প্রতিষ্ঠা করা নয়; বরং তথ্য, দলিল ও গবেষণার ভিত্তিতে ইতিহাসের বহুমাত্রিক স্মৃতি সংরক্ষণ করা। এ ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও স্বাধীনতা সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলির আলোকচিত্র ও দলিল যথাযথ মর্যাদায় প্রদর্শনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে তারা।

ডাকসু কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে উদীচী বলেছে, ঐতিহাসিক ছবি ও দলিলের তথ্যসূত্র যাচাই করতে হবে। পাশাপাশি ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ধারাবাহিক ইতিহাস যথাযথভাবে তুলে ধরতে হবে। স্বাধীনতা সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ও ঘটনাবলির দলিলও সংরক্ষণ করতে হবে।

এ ছাড়া সংগ্রহশালার ভবিষ্যৎ সংস্কার ও প্রদর্শনী পরিকল্পনায় ইতিহাসবিদ, মুক্তিযুদ্ধের গবেষক, সংস্কৃতিকর্মী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের মতামত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

উদীচীর বক্তব্য, একটি জাতির ইতিহাস তার সংগ্রাম, অর্জন, বেদনা ও প্রতিরোধের সম্মিলিত স্মৃতি। সেই ইতিহাসের কোনো অংশ আড়াল না করে পূর্ণাঙ্গ ও দায়িত্বশীলভাবে উপস্থাপন করা হলে ডাকসু সংগ্রহশালা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি কার্যকর শিক্ষাক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন

×