সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী বাতিল চায় সিপিজে
গুজব-অপতথ্য প্রচারে ১০ বছর জেল
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:২০ | আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:২৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
বাংলাদেশ সরকারকে সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী অবিলম্বে প্রত্যাহার অথবা সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক এই সংগঠন বলেছে, প্রস্তাবিত সংশোধনীতে সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে ‘যাচাই করা হয়নি’ বলে বিবেচিত সংবাদ প্রকাশকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের কাজ বন্ধ করে দেওয়া এবং সংবাদমাধ্যমের নিবন্ধন বাতিলের ক্ষমতাও দেওয়া হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।
গত সোমবার সিপিজের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে। বিবৃতি অনুযায়ী, একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১০ সেপ্টেম্বর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আয়োজিত একটি পরামর্শসভায় নির্বাচিত কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে প্রস্তাবিত সংশোধনী নিয়ে আলোচনা করা হয়। এতে অনলাইনে ‘গুজব’ ও ‘ভুল তথ্য’ ছড়ানোর জন্য নতুন একটি ফৌজদারি অপরাধের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড অথবা বড় অঙ্কের জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
প্রস্তাবিত আইনের বর্তমান খসড়া অনুযায়ী, কোনো অনলাইন উপাদানকে কর্তৃপক্ষ ‘ভিত্তিহীন বা যাচাই করা হয়নি’ বলে মনে করলে এবং সেটি জনমনে বিভ্রান্তি, আতঙ্ক বা অস্থিরতা সৃষ্টি করলে তা আইন লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ ধরনের মামলার বিচার হবে বিশেষায়িত আদালত সাইবার ট্রাইব্যুনালে। বাংলাদেশে ডিজিটাল ও সাইবারসংক্রান্ত বিভিন্ন আইনের অধীনে করা মামলার বিচার এই আদালতেই হয়ে থাকে।
প্রস্তাবিত আইনে সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠানকেও অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত করার সুযোগ রাখা হয়েছে। কোনো সংবাদমাধ্যম আইন লঙ্ঘন করেছে বলে মনে করলে, প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালনার লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করার ক্ষমতাও আদালতকে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
সিপিজের এশিয়া-প্যাসিফিক কর্মসূচির সমন্বয়ক কুনাল মজুমদার বলেন, বাংলাদেশের সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো এতটাই বিস্তৃত, এগুলো সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
তাঁর মতে, সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে সংগৃহীত ও তথ্য যাচাই করা সংবাদ প্রকাশের সুযোগ থাকতে হবে। এমন তথ্যও প্রকাশ করতে দিতে হবে, যা কর্তৃপক্ষ অনুমোদন করেনি। সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করতে সাইবার অপরাধসংক্রান্ত আইন অপব্যবহারের ইতিহাস বাংলাদেশের রয়েছে। ভুল তথ্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নামে বর্তমান সরকারের সেই একই ধারার পুনরাবৃত্তি করা উচিত নয়।
সিপিজের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সাইবার অপরাধসংক্রান্ত আইন ব্যবহারের নজির বাংলাদেশে রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত অনলাইনে বক্তব্য ও ডিজিটাল অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর থাকা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে অন্তত ২৫৫ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল। লেখক মোশতাক আহমেদের বিরুদ্ধেও ওই আইনে মামলা হয়েছিল। বিচার শুরুর আগে ৯ মাস কারাগারে আটক থাকার পর তিনি হেফাজতে মারা যান।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান বলেছেন, সামাজিক মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা ঠেকানো এবং সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষার লক্ষ্যেই প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো আনা হয়েছে। সিপিজে জানিয়েছে, প্রস্তাবিত সংশোধনী নিয়ে মন্তব্য জানতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কাছে ইমেইলে যোগাযোগ করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
- বিষয় :
- সিপিজে
- সাইবার আইন