ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নতুন পে স্কেল

পদোন্নতিতে কমবে বাড়ি ভাড়া

পদোন্নতিতে কমবে বাড়ি ভাড়া
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৩:৩৪

নতুন বেতন কাঠামোয় পদোন্নতি পেয়ে উচ্চতর গ্রেডে গেলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাড়ি ভাতার হার কমবে। ফলে গ্রেড বাড়লেও বাড়ি ভাতা কম পাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একইভাবে কিছু ক্ষেত্রে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীর মোট বেতন ঊর্ধ্বতন গ্রেডের কর্মচারীর চেয়েও বেশি হচ্ছে। বাড়ি ভাতার হার নির্ধারণের ক্ষেত্রে ন্যূনতম অঙ্ক উল্লেখ না থাকায় এ ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছে।

সরকারি চাকরিতে পদোন্নতির সঙ্গে সাধারণত কর্মচারীর আর্থিক সুবিধা বাড়ার কথা। কিন্তু নতুন বেতন কাঠামোর এ হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে- উচ্চতর গ্রেডে পদোন্নতি পেলে যদি বাড়ি ভাড়া ভাতার হার কমে যায়, তাহলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে মোট মাসিক প্রাপ্যও কাঙ্ক্ষিত হারে বাড়বে না। বিশেষ করে একই কর্মস্থলে কর্মরত দুই গ্রেডের কর্মচারীর ক্ষেত্রে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারী যদি বাড়ি ভাড়া বাবদ তুলনামূলক বেশি পান, তাহলে বেতন কাঠামোর গ্রেডভিত্তিক যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হবে। 

বর্তমানে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় মূল বেতন ৯ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত হলে ৬৫ শতাংশ হারে, তবে ন্যূনতম ৫ হাজার ৬০০ টাকা বাড়ি ভাড়া পান চাকরিজীবীরা। ৯ হাজার ৭০১ টাকা থেকে ১৬ হাজার টাকা মূল বেতন হলে ৬০ শতাংশ হারে, তবে ন্যূনতম ৬ হাজার ৪০০ টাকা বাড়ি ভাড়া পাওয়া যায়। মূল বেতন ১৬ হাজার ১ টাকা থেকে ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা হলে ৫৫ শতাংশ হারে, তবে ন্যূনতম ৯ হাজার ৬০০ টাকা বাড়ি ভাড়া পাওয়া যায়। আর মূল বেতন ৩৫ হাজার ৫০১ টাকার বেশি হলে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় ৫০ শতাংশ হারে, তবে ন্যূনতম ১৯ হাজার ৫০০ টাকা বাড়ি ভাড়া পাওয়া যায়। অন্যান্য এলাকার ক্ষেত্রে বাড়ি ভাতার হার ও ন্যূনতম অঙ্কে ভিন্নতা রয়েছে।

গেজেট প্রকাশের পর এ নিয়ে বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনের নেতারা অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার সাক্ষাৎ করেছেন। কর্মকর্তারা তাদের জানিয়েছেন, এই ভুলের জন্য তাদের কিছু করার নেই। তারা সচিব কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী কাজ করেছেন।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের মুখ্য সমন্বয়ক ওয়ারেছ আলী সমকালকে বলেন, গতকাল ১২টি সংগঠনের জোট মিলে তারা বৈঠক করেছেন। বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামোর অসংগতিগুলো সংশোধনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও অর্থ সচিবের কাছে লিখিত আবেদন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (ব্যয় ব্যবস্থাপনা ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা) মো. নাজমুল হুদা সিদ্দিকী সমকালকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার ব্যক্তিগতভাবে বলার কিছু নেই। এ বিষয়ে আমি অবহিত নই।’ নতুন পে স্কেল যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্বে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এমন কিছু না, এটা ভিন্ন উইংয়ের কাজ। এটা আমার দায়িত্বাধীন না, এজন্য ভিন্ন কর্মকর্তা রয়েছেন।’

নতুন বেতন কাঠামোয় বৈশাখী ভাতা নিয়েও কর্মচারী সংগঠনগুলো বিদ্যমান সুবিধার সঙ্গে তুলনা করেছে। এতে বিদ্যমান ২০ শতাংশের বিপরীতে জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬-এ ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×