ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সেতু নির্মাণে অনিয়ম: টাঙ্গাইলে কার্যসহকারী বরখাস্ত, নোয়াখালীতে ৩ কর্মকর্তার কৈফিয়ত তলব

সেতু নির্মাণে অনিয়ম: টাঙ্গাইলে কার্যসহকারী বরখাস্ত, নোয়াখালীতে ৩ কর্মকর্তার কৈফিয়ত তলব
×

বাসাইলে নির্মাণাধীন একটি সেতুর স্ল্যাবে রডের পরিবর্তে বাঁশ ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া যায়। ছবি-সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৪:১৩ | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৬:৪৩

সেতু নির্মাণে স্পেসিফিকেশনবহির্ভূত নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে টাঙ্গাইলের বাসাইলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) এক কার্যসহকারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই অভিযোগে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এলজিইডির তিন প্রকৌশলী ও এক কার্যসহকারীর কাছে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে।

টাঙ্গাইলের বাসাইলে বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তা মো. হাসমত আলী বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের কার্যসহকারী। তিনি প্রোগ্রাম ফর সাপোর্টিং রুরাল ব্রিজেস (SupRB) প্রকল্পের আওতায় মাইজখাড়া জিপিএস সড়কের ২ হাজার ৩০৫ মিটার চেইনেজে ৯০ দশমিক ০৬ মিটার দীর্ঘ পিএসসি গার্ডার সেতু নির্মাণকাজের তদারকির দায়িত্বে ছিলেন।

এলজিইডির অফিস আদেশে বলা হয়েছে, সেতু নির্মাণকাজে স্পেসিফিকেশনবহির্ভূত নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণে জনসাধারণের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। এ বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত এবং বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় এলজিইডি তথা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে।

আদেশে আরও বলা হয়, অবৈধভাবে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার অসদুদ্দেশ্যে কার্যাদেশপ্রাপ্ত ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশ করে হাসমত আলী রডের পরিবর্তে বাঁশ এবং স্পেসিফিকেশনবহির্ভূত নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করেছেন বলে প্রতীয়মান হয়েছে।

এ ঘটনায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) ও ৩(ঘ) বিধিতে বর্ণিত অসদাচরণ ও দুর্নীতিপরায়ণতার অভিযোগে তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। একই বিধিমালার ১২(১) বিধি অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। সাময়িক বরখাস্তকালীন তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা পাবেন। আদেশটি জারির তারিখ থেকেই কার্যকর হয়েছে।

এদিকে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ও রেলিংয়ের রডের কাজে অনিয়মের অভিযোগে এলজিইডির চার কর্মকর্তার কাছে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। গতকাল বুধবার এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত পৃথক চারটি চিঠিতে তাদের কৈফিয়ত তলব করা হয়।

এলজিইডির চিঠি অনুযায়ী, বেগমগঞ্জ উপজেলার জমিদারহাট থেকে সাহেবেরহাট ও হাসানহাট হয়ে মাইজদী আঞ্চলিক মহাসড়কে ৪৯ দশমিক ০৬ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। কাজটি করছে মেসার্স হক ট্রেডার্স।

কৈফিয়ত তলব করা কর্মকর্তারা হলেন নোয়াখালী জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী যুগল কৃষ্ণ মণ্ডল, বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদ, উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম ও বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের কার্যসহকারী মো. মহিন উদ্দিন।

চিঠিতে বলা হয়েছে, সেতু নির্মাণকাজে স্পেসিফিকেশনবহির্ভূত নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণে সরকারি অর্থের অপচয়, জনস্বার্থ বিঘ্নিত হওয়া এবং এলজিইডি তথা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। কার্যাদেশপ্রাপ্ত ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশ করে অবৈধভাবে আর্থিক লাভবান হওয়ার অসদুদ্দেশ্যে এসব নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও প্রতীয়মান হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, এসব কার্যকলাপ সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) ও ৩(ঘ) বিধি অনুযায়ী অসদাচরণ ও দুর্নীতিপরায়ণতার শামিল এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ কারণে কেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে না, তার সন্তোষজনক জবাব চিঠি পাওয়ার সাত কর্মদিবসের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

×