ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় যুক্তিনির্ভর আলোচনা জরুরি

গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় যুক্তিনির্ভর আলোচনা জরুরি
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৩৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

কোনো কর্তৃত্ববাদী সরকারের পতনই শেষ কথা নয়; এর পর সমাজের বিভিন্ন সংকট নিয়ে মানুষের মধ্যে সংলাপ ও পারস্পরিক বোঝাপড়া জরুরি। গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও সামাজিক সংহতি জোরদারে যুক্তিনির্ভর আলোচনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ডিজিটাল যোগাযোগের মাধ্যমে মানুষের অংশগ্রহণ বাড়লেও তা বিভাজন ও মেরূকরণও তীব্র করতে পারে। তাই ডিজিটাল পরিসরকে কীভাবে গণতান্ত্রিক ও যুক্তিনির্ভর আলোচনার কাজে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া দরকার।

জার্মান দার্শনিক ও সমাজতাত্ত্বিক ইয়ুর্গেন হেবারমাসকে নিয়ে আয়োজিত আন্তর্জাতিক স্মরণ সিম্পোজিয়ামে বক্তারা এসব কথা বলেন।
‘ইয়ুর্গেন হেবারমাস ইন আ ফ্র্যাকচার্ড ওয়ার্ল্ড: ডেমোক্রেসি, পাবলিক স্ফিয়ার অ্যান্ড দ্য ফিউচার অব ক্রিটিক্যাল রিজন’ শীর্ষক দিনব্যাপী এ সিম্পোজিয়াম গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার ধানমন্ডিতে গ্যোটে ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। বাংলার পাঠশালা ফাউন্ডেশন এ আয়োজন করে। সহযোগিতায় ছিল গ্যোটে ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ, ফ্রিডরিখ-এবার্ট-স্টিফটুং বাংলাদেশ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অনারারি অধ্যাপক এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ তাঁর ‘নিওলিবারেলিজম, দ্য ট্রান্সফরমেশন অব দ্য পাবলিক স্ফিয়ার অ্যান্ড ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ: আ হেবারমাসিয়ান-ফ্রেজেরিয়ান অ্যানালাইসিস’ শীর্ষক প্রবন্ধে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলনের যোগাযোগগত দিক তুলে ধরেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এস আমিনুল ইসলাম ‘ডায়ালেকটিক অব মডার্নিটি: অ্যান ইন্ট্রোডাকশন টু দ্য সোসিওলজিক্যাল থিওরি অব হেবারমাস’ শীর্ষক বক্তব্যে আধুনিক সমাজের কাঠামো ব্যাখ্যা করেন। তিনি হেবারমাসের তত্ত্বের আলোকে বলেন, সমাজের একদিকে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ‘সিস্টেম’, অন্যদিকে মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবন বা ‘লাইফ-ওয়ার্ল্ড’। এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য নষ্ট হয়ে ক্ষমতাশালী কাঠামো মানুষের জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করলে বিচ্ছিন্নতা, অর্থহীনতা ও ব্যক্তিত্বের সংকট তৈরি হতে পারে।
বাংলার পাঠশালা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান আহমেদ জাভেদ চৌধুরী বলেন, কোনো কর্তৃত্ববাদী সরকারের পতনই শেষ কথা নয়। সমাজের সমস্যা নিয়ে মানুষের মধ্যে আলাপ-আলোচনা চালু করাই মূল কাজ। 

ঢাকায় জার্মান দূতাবাসের উপ-মিশন প্রধান ড্যানিয়েল ব্লুম বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বৈশ্বিক ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন মতপার্থক্যের কথাও বলেন তিনি। 
ফ্রিডরিখ-এবার্ট-স্টিফটুং বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি ফেলিক্স গের্দেস গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে জ্ঞানচর্চা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও মতবিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, বিতর্কে ভালো যুক্তির জয়ী হওয়ার সুযোগ থাকা দরকার। 
গ্যোটে ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের পরিচালক ফ্র্যাঙ্ক ওয়ার্নার আধুনিক গণতন্ত্রের সংকট প্রসঙ্গে বৈশ্বিক বাজার, বাণিজ্যিকীকরণ, অ্যালগরিদম ও সামাজিক মাধ্যমের প্রভাব তুলে ধরেন। তাঁর মতে, এসব কারণে যুক্তিনির্ভর ও অংশগ্রহণমূলক আলোচনা দুর্বল হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে আবেগ ও পপুলিজম যুক্তিনির্ভর আলোচনার জায়গা দখল করছে। সিম্পোজিয়ামে শিক্ষাবিদ, গবেষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, জনবুদ্ধিজীবী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। 

আরও পড়ুন

×