কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের তথ্য
৫২ বছরে দেশে আবাদি জমি কমেছে ৩০ শতাংশ
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৩৬ | আপডেট: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:১২
| প্রিন্ট সংস্করণ
স্বাধীনতার পর ৫২ বছরে দেশে আবাদি জমির পরিমাণ কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ। তবে একই সময়ে কৃষি উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ১৯৭১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সময়ে ধানের উৎপাদন বেড়েছে ৩ দশমিক ৮ গুণ, গমের উৎপাদন ১৭ দশমিক ২৭ গুণ এবং ভুট্টার উৎপাদন বেড়েছে দুই হাজার ২৬৬ দশমিক ৬৭ গুণ।
অন্যদিকে স্বাধীনতার পর দেশে লবণাক্ত জমির পরিমাণ ছিল ৮ দশমিক ৩৩ লাখ হেক্টর। ২০২৩ সালে তা বেড়ে ২০ দশমিক ৫ লাখ হেক্টরে দাঁড়ায়। ২০২৪ সালে লবণাক্ত জমির পরিমাণ হয়েছে ১১ দশমিক ৫৬ লাখ হেক্টর।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফার্মগেটে সার্ক কৃষি সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) আয়োজিত তিন দিনের কর্মশালার সমাপনী দিনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ এগ্রিকালচার রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএআরএফ) সদস্যদের জন্য এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান (রুটিন দায়িত্ব) ড. মো. আব্দুছ ছালাম। তিনি বলেন, দেশে প্রতিবছর ২০ থেকে ২২ লাখ মানুষ বাড়ছে। অন্যদিকে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের ২০২৫ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিবছর ০ দশমিক ৩৬ শতাংশ হারে কৃষিজমি কমছে। প্রতিদিন প্রায় ৩০৭ একর জমি শিল্পায়ন, নগরায়ণ, বসতবাড়ি ও সড়ক নির্মাণের কাজে চলে যাচ্ছে।
আব্দুছ ছালাম বলেন, জমি কমে যাওয়া খাদ্য উৎপাদনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তাই উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য উত্তম কৃষিচর্চার (গুড এগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিস) আওতায় পাঁচটি ফল ও ১০টি সবজি চাষে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২০২৮ সালের মধ্যে তিন লাখ হেক্টর জমিকে এ ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিএআরসির পরিচালক ড. মো. মোশাররফ উদ্দীন মোল্লা বলেন, শস্যবীমার খসড়া তৈরি করে সরকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। জুলাইয়ে প্রাথমিক নির্দেশিকাও জমা দেওয়া হয়েছে। শিগগির এ বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্ত জানা যাবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক ওবায়দুর রহমান মণ্ডল বলেন, দেশের দক্ষিণাঞ্চলে সূর্যমুখীর চাষ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য খুলনা ও বরিশালে আগামী মৌসুমের আগে তেল উৎপাদনের কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
মৎস্য অধিদপ্তরের ইনল্যান্ডের পরিচালক মো. মোতালেব হোসেন বলেন, মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণে মাছ উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২০২৪-২৫
অর্থবছরে দেশে ৫১ দশমিক ১১ লাখ টন মাছ উৎপাদিত হয়েছে। তিনি বলেন, হাওর, নদী, খাল, বিলসহ মিঠাপানির দেশীয় মাছের উৎপাদন কমেছে। বর্তমানে দেশে মিঠাপানির ২৬০, আমদানি করা ১২, সামুদ্রিক ৪৭৫, মিঠাপানির চিংড়ি ২৪ এবং সামুদ্রিক চিংড়ির ৩৬টি প্রজাতি রয়েছে।
বিএআরসির প্রাণিসম্পদ বিভাগের সদস্য ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, মেধাসম্পন্ন জাতি গঠনে দুধ, ডিম, মাছ ও মাংসের মতো প্রাণিজ আমিষের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। জিডিপিতে প্রাণিসম্পদ খাতের অবদান ১ দশমিক ৯ শতাংশ এবং এ খাতের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ১ শতাংশ।
তিনি বলেন, একজন মানুষের দৈনিক দুধের চাহিদা ২৫০ গ্রাম, বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে ২০৮ গ্রাম। অন্যদিকে দৈনিক মাংসের চাহিদা ১২০ গ্রাম হলেও বর্তমানে প্রাপ্যতা ১৪৭ দশমিক ৮৪ গ্রাম। ২০৩১ সালে মাথাপিছু দৈনিক মাংস গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা ১৫০ গ্রাম এবং ২০৪১ সালে ১৬০ গ্রাম নির্ধারণ করা হয়েছে। সুস্থ থাকতে প্রত্যেকের প্রতিদিন দুটি করে ডিম খাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
কর্মশালায় বিএআরসির পরিচালক ড. মো. মাহফুজ আলম ও প্রধান প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা আল মোবাচ্ছের হোসেন সঞ্চালনা করেন। তিন দিনের কর্মশালায় ১৫ জন প্রশিক্ষক কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।