ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঝগড়া থামাতে গিয়ে পোশাকশ্রমিক নিহত

ঝগড়া থামাতে গিয়ে পোশাকশ্রমিক নিহত
×

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:০৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

গাজীপুরে ঝগড়া থামাতে গিয়ে পোশাকশ্রমিক খুন হয়েছেন। টাঙ্গাইলের নাগরপুরে এক গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া ময়মনসিংহের খালে ভাসা ড্রামে পাওয়া মরদেহের পরিচয় পেয়েছে পুলিশ। নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতার পাঠানো খবর:

’জানা গেছে, কাজ শেষে কারখানা থেকে বেরিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ঝালমুড়ি খাচ্ছিলেন পোশাকশ্রমিক গাজী রাফেজ আহমেদ। পাশে তখন এক ঝালমুড়ি বিক্রেতার সঙ্গে কয়েকজন পথচারীর বাগ্‌বিতণ্ডা চলছিল। চিৎকার-চ্যাঁচামেচি শুনে এগিয়ে যান রাফেজ। এ সময় ঝালমুড়ি বিক্রেতার ছুরিকাঘাতে আহত হন রাফেজসহ তিনজন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রাফেজ (৩৫)। গত বুধবার রাত ৯টার দিকে গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুরের চক্রবর্তীটেক এলাকায় বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের ২ নম্বর গেট-সংলগ্ন নুরু মার্কেটের সামনে ঘটে এই ঘটনা। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আশরাফ আলী (৫২) ও মুরাদ হোসেন (৩৪)। পুলিশ জানিয়েছে, ঝালমুড়ি বিক্রেতা আতাউর রহমান তাদের ওপরও ছুরি নিয়ে হামলা চালান।
নিহত রাফেজ খুলনার পাইকগাছা উপজেলার বাসাখালী এলাকার গাজী খোরশেদ আলমের ছেলে। স্ত্রী ও সাত বছর বয়সী এক মেয়েকে নিয়ে তাঁর সংসার। জীবিকার তাগিদে গাজীপুরে কাশিমপুর এলাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন তিনি।

কাশিমপুর থানার ওসি মোল্লাহ মো. খালিদ হোসেন জানান, ঝালমুড়ি বিক্রেতা আতাউর রহমানকে আটক করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।
এ ছাড়া টাঙ্গাইলের নাগরপুরে স্বামীর বিরুদ্ধে শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে নিলুফা আক্তার মিলু নামে গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। স্ত্রীকে হত্যার পর গলায় ও পেটে ছুরিকাঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন স্বামী হযরত আলী। এ সময় শাশুড়ি এগিয়ে গেলে তাঁকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। গত বুধবার রাত ৮টার দিকে ধুবরিয়া ইউনিয়নের বাদে কাকনা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। হতাহতের ঘটনাটি নিশ্চিত করেন নাগরপুর থানার ওসি জহুরুল ইসলাম। পারিবারিক কলহের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে পুলিশের ধারণা।
জানা গেছে, প্রায় ৬ বছর আগে ধুবড়িয়া গ্রামের দহর পাচুরিয়া গ্রামের হযরত আলীর সঙ্গে পাশের বাদে কাকনা গ্রামের নিলুফার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলতে থাকে। এরই জের ধরে ১ সপ্তাহ আগে স্বামীকে তালাক দেন নিলুফা। তালাকের খবর পেয়ে হযরত আলী ক্ষিপ্ত হয়ে গত বুধবার রাত ৮টার দিকে ধারালো অস্ত্র নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে যান। সেখানে স্ত্রী নিলুফাকে দেখা মাত্র এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করলে ঘটনাস্থলে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর রক্তাক্ত নিথর দেহ মেঝেতে পড়ে থাকে। এ সময় নিলুফার মা চেনবানু এগিয়ে গেলে তাঁকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে স্বামী হযরত আলী তাঁর হাতে থাকা ছুরি দিয়ে নিজের পেটে ও গলায় ছুরিকাঘাত করে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হযরত আলী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও চেনবানু ঢাকার সিএমএইচ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নাগরপুর থানার ওসি জহুরুল ইসলাম জানান, হত্যা মামলা হয়েছে। ঘাতক স্বামী পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এদিকে ময়মনসিংহে খালের পানিতে ভেসে থাকা ড্রামের ভেতর থেকে উদ্ধার করা মরদেহের পরিচয় মিলেছে। নিহত নিরঞ্জন চন্দ্র সূত্রধর (৫০) ত্রিশাল উপজেলার রমেন্দ্র চন্দ্র সূত্রধরের ছেলে। তাঁর বাড়ি ত্রিশালে হলেও পরিবার নিয়ে ময়মনসিংহ নগরীর স্টেডিয়াম এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তিনি পেশায় একজন জুয়েলারি কারিগর ছিলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোতোয়ালি থানার ওসি শিবিরুল ইসলাম। গত বুধবার ময়মনসিংহ সদরের বেগুনবাড়ি এলাকায় খালের পানিতে ভাসমান একটি ড্রামে লাশটি পাওয়া যায়। তাঁর মাথা ও বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের গভীর ক্ষত চিহ্ন পাওয়া গেছে। 

আরও পড়ুন

×