মৎস্যসম্পদ সুরক্ষায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির আহ্বান
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:১৪ | আপডেট: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১০:০৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
মৎস্যসম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন আইনপ্রণেতা, মৎস্য বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশকর্মীরা। মৎস্য অভয়াশ্রম ও প্রজননক্ষেত্রের সুরক্ষায় জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনায় নেওয়ার পাশাপাশি মৎস্য খাতের বিভিন্ন পর্যায়ে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।
গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘মৎস্যসম্পদের সুরক্ষায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলা হয়। ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ প্রচারাভিযানের আওতায় ধরিত্রী রক্ষায় আমরা, ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন এবং সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনসহ ৩৭টি নাগরিক ও সামাজিক সংগঠন যৌথভাবে এ আয়োজন করে।
এতে সভাপতিত্ব করেন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র। প্রধান অতিথি ছিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. আশরাফ উদ্দিন বকুল। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য বীথিকা বিনতে হোসাইন।
সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা-এর সদস্য ইকবাল ফারুক। বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আনিসুর রহমান, বাংলাদেশ পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মোস্তফা কামাল মজুমদার, সাবেক জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল কাইয়ুম এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী।
ইকবাল ফারুক বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার এবং কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে ছাই, গরম পানি ও বিভিন্ন ধরনের দূষিত পদার্থ নদীতে গিয়ে পড়ছে। এতে মাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বেঁচে থাকা ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি ভারী ধাতু মাছের শরীরেও জমছে। তিনি বলেন, মৎস্যসম্পদ সুরক্ষায় জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে যেতে হবে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ধাপে ধাপে বন্ধ করে সেসব জায়গায় সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের সভাপতি মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা মৎস্যসম্পদের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করছে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উড়ন্ত ছাই ও গরম পানি নদীর পানির গুণমান নষ্ট করছে। এতে পানিতে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয়ে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর ক্ষতি হতে পারে। তিনি মৎস্য খাতে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ধাপে ধাপে বন্ধ করার ওপর গুরুত্ব দেন।
ইঞ্জিনিয়ার মো. আশরাফ উদ্দিন বকুল বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে জাতীয় বিদ্যুৎ চাহিদার অন্তত ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পূরণের লক্ষ্য রয়েছে। এ জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
সংসদ সদস্য বীথিকা বিনতে হোসাইন বলেন, শুধু নবায়নযোগ্য জ্বালানি নয়; জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, সে বিষয়েও সরকার কাজ করছে। সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন।
সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র বলেন, আজকের আলোচনা শুধু মতবিনিময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এখনই সম্মিলিত উদ্যোগে রূপ দিতে হবে।
ড. মো. আনিসুর রহমান বলেন, পানির তাপমাত্রা, দূষণ, দ্রবীভূত অক্সিজেন, অম্ল-ক্ষারত্বসহ বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের সামান্য পরিবর্তনও ইলিশসহ অন্যান্য মাছের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশ পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মোস্তফা কামাল মজুমদার বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চলছে। বর্তমান সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এ বিষয়ে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রয়োজনে উন্নত দেশগুলোর মতো সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে একটি আলাদা প্রতিষ্ঠান গঠনের কথাও বলেন তিনি।
- বিষয় :
- মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ