‘সাগর-রুনি হত্যার রহস্য উদঘাটন না হলে র্যাবের সফলতা ম্লান হবে’
মেহেরুন নাহার রুনি ও সাগর সরোয়ার -ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর ২০১৯ | ০৮:৩৭
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ড নিয়ে র্যাবকে তদন্তের সর্বশেষ অবস্থা জানাতে আগামী বছর ৪ মার্চ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ মামলায় একজন আসামির অব্যাহতি চেয়ে করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন।
একই সঙ্গে নিজের মামলা বাতিল চেয়ে আবেদনকারী আসামি তানভীর রহমানের সম্পৃক্ততার বিষয়েও ৪ মার্চ প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেন আদালত। ওই দিন মামলার পরবর্তী আদেশ দেওয়া হবে। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না হওয়া পর্যন্ত তানভীরকে নিম্ন আদালতে হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেন আদালত।
আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেছেন, দেশের সকল স্তরের মানুষের দৃঢ় প্রত্যাশা ছিল দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষ করে হত্যার মূল কারণ প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত, গ্রেফতার ও বিচারের সম্মুখীন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। কিন্তু রুঢ় সত্য ও বাস্তবতা হলো, দীর্ঘ সাত বছর অতিক্রান্ত হতে চললেও এ হত্যা মামলার তদন্ত কার্যক্রম শেষ এবং প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন ও দোষীদের চিহ্নিত ও গ্রেফতার করতে না পারলে চৌকস বাহিনী র্যাবের অন্য সব সাফল্য ম্লান হয়ে যাবে।
মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে পশ্চিম রাজাবাজারে তাদের বাসায় খুন হন। পরদিন ভোরে তাদের ক্ষত-বিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। থানা পুলিশ ও ডিবির হাত ঘুরে ঘটনার দুই মাস পর র্যাব তদন্তের দায়িত্ব পায়। এরপর দফায় দফায় সময় নিলেও এখনও প্রতিবেদন দিতে পারেনি তারা, ফলে শুরু করা যায়নি বিচার। এর মধ্যে আসামি তানভীর উচ্চ আদালতে তার বিরুদ্ধে মামলা বাতিলে আবেদন করেন।
তদন্ত কর্মকর্তার বরাত দিয়ে আদালত আরও বলেন, এই মামলায় এ পর্যন্ত মোট ৮ ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করা হলেও এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাদের কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি। গ্রেফতার ব্যক্তিরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেননি। আদালত বলেন, এফবিআই ৪ ব্যক্তির ডিএনএ শনাক্ত করেছে। তার মধ্যে ২টি ডিএনএ সাগর-রুনির। বাকি দুটি ডিএনএ'র সঙ্গে গ্রেফতার আসামিদের ডিএনএ ম্যাচ করেনি। অর্থাৎ ওই দুই ব্যক্তিকে এ পর্যন্ত শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। আমেরিকার বিশেষায়িত ল্যাবরেটরিতে ডিএনএ'র ওপর ভিত্তি করে সম্ভাব্য অপরাধীদের 'অবয়ব' তৈরির চেষ্টা চলছে।
আদালত প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, র্যাব দ্রুত সময়ের মধ্যে এই মামলার তদন্ত কার্যক্রম শেষ করে হত্যা রহস্য উন্মোচন, প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত ও গ্রেফতার করে বিচারে সোপর্দ করতে সক্ষম হবে। বিশেষায়িত এই বাহিনী ব্যর্থতার দায়ভার বহন করুক, এটা কারোই কাম্য নয়।
ঢাকার আদালতে বৃহস্পতিবার এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি র্যাব। এদিন প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু তা দিতে না পারা এবং ফের সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাস আগামী ৩০ ডিসেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন ধার্য করেন। এ নিয়ে এই মামলায় ৬৯ বার প্রতিবেদন দাখিলের দিন পেছাল।
- বিষয় :
- সাগর-রুনি